For English Version
শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম জাতীয়

হিটশকে রাজশাহীতে ক্ষতিগ্রস্ত ২৮ হেক্টর ধান

Published : Sunday, 11 April, 2021 at 9:13 PM Count : 57

তীব্র তাপমাত্রায় ধানগাছ শুকিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে হিটশক বলে। রাজশাহী অঞ্চলে গত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বিরাজ করছে শুষ্ক বাতাস। তাপমাত্রা রয়েছে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। আর তাতেই হিটশকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার ২৮ হেক্টর জমির ধান।

দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া ও তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে ধানগাছ। ধানের শীষগুলো সাদা হয়ে মরে যাচ্ছে। আর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কপাল পুড়ছে কৃষকের। কৃষকের কাছে আতঙ্কের নতুন নাম হিটশক! জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট এ পরিস্থিতিকে কৃষিতে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ধান গবেষকরা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ০৪ এপ্রিল বিকেল ৪টার পর থেকে হঠাৎ গরম বাতাস বইতে শুরু করে। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর ছিল। এছাড়াও গত দু-সপ্তাহ ধরে প্রায়ই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। যা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করেছে। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আর্দ্রতা না থাকায় ধানের ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে মোট ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। গত রোববারের (০৪ এপ্রিল) বৃষ্টি ও আদ্রতাহীন শুষ্ক ঝড়ে ২৮ হেক্টর জমির বোরো ধান হিটশকে পুড়ে গেছে। হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিক টন ধান হিসেবে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬৮ মেট্রিক টন। এখানেই শেষ নয়, ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বুধবার (০৭ এপ্রিল) রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক শাখা থেকে বিজ্ঞানীরা জেলার পবা উপজেলার আলিমগঞ্জ ও কসবা এলাকায় মাঠ পরিদর্শন করেছেন। 

বিশেষজ্ঞ দলে ছিলেন জেলা কৃষি অধিদফতরের প্রধান ডা. আউয়াল, ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের পিএসও ও প্রধান ড. মো. ফজলুল ইসলাম, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তাহমিদ হোসেন আনছারী ও ড. কাজী শিরিন আক্তার জাহান এবং উদ্ভিদ কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোসাদ্দেক হোসেন। 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. মো. ফজলুল ইসলাম বলেন, এবার দীর্ঘ সময় বৃষ্টির দেখা নেই। আবহাওয়া অত্যন্ত রুক্ষ। ০৪ এপ্রিল সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ছাড়াই ঝড় শুরু হয়। সে দিন বাতাস ছিল অতিরিক্ত গরম। আদ্রতা ছিল শুণ্যের কাছাকাছি। ফলে ওই দিন যেসব ধানের শীষ বের হয়েছিল সেগুলোর ফুল ঝরে যায়।

তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ওই দিন বাতাসের গতির সঙ্গে আর্দ্রতার মিল না থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হয়েছে। এতে ডিহাইড্রেশন প্রক্রিয়ায় সদ্য ফোটা শীষ থেকে পানি বের হয়ে গেছে এবং শীষ শুকিয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে এমনটা হতো না বলে আশা করা যায়। রাজশাহীতে ক্ষতির পরিমাণটা কম হয়েছে। হাওর অঞ্চলে হিটশকের বেশি প্রভাব পড়েছে।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. তাহমিদ হোসেন আনছারী বলেন, তাপমাত্রা বাড়া কিংবা কমা, দুই কারণেই হিটশক বা হিট ইনজুরি হয়ে থাকে। ০৪ এপ্রিলের গরম বাতাসের ঝড়ে ধানের ক্ষতিসাধন হয়েছে। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে তাপমাত্রা থাকলে ধানে হিটশক হয়। হিটশকে ধানের ফলনের প্রাথমিক পর্যায় অর্থাৎ ফ্লাওয়ারিং স্টেজে বেশি ক্ষতি হয়।

তিনি বলেন, ওই দিন কিংবা তার একদিন আগে যেসব ধানের পরাগায়ণ হচ্ছিল, সেই ধানের শিষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরাগায়ণ করতে পারেনি এবং ফ্লাওয়ারিং স্টেজ চলার কারণে ওইসব ধানের শীষ থেকে পানি বেরিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি না হওয়া ও পরের দিন রোদ উঠার পর শিষগুলো সাদা আকার ধারণ করে শুকিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঝড়ের দিন ফুল ফোটা অবস্থায় থাকা জমির ৫ থেকে ১০ শতাংশ ধান প্রথমে সাদা ও পরবর্তীতে কালো বর্ণ ধারণ করে এবং এরপর চিটা হয়ে গেছে। তাছাড়া ঝড়ের কারণে পাতায় পাতায় ঘর্ষণে পাতা ফেটে গিয়ে ক্ষতস্থান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে বিএলবি বা পাতা পোড়া রোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাতার অগ্রভাগ ও কিনারা পুড়ে যাওয়ার মত হয়ে খড়ের মত রং ধারণ করেছে। 

রাজশাহী অঞ্চলে চাষিদের পানি স্বল্পতার কারণে ধানে হিটশক হতে পারে  কিনা? জানতে চাইলে ব্রি’র সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের ধান চাষিদের কোন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। ধানের ফ্লাওয়ারিং স্টেজ আসার আগে এবং এর পরবর্তী ১০ থেকে ১২ দিন জমিতে দুই থেকে তিন ইঞ্চি পানি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখানকার কৃষকরা সেই মোতাবেক ধান চাষ করে আসছেন। ০৪ এপ্রিলে যা হয়েছে তা হঠাৎ করে প্রাকৃতিক ভাবে ঘটে গেছে। যাদের সেচ দেওয়ার পরিস্থিতি বা সুযোগ আছে তারা দেবেন। আর যাদের সেই সুযোগ নেই সেটা আলাদা ব্যাপার।

ধানের হিটশক বা তীব্র তাপমাত্রায় চাষিদের করণীয় বিষয়ে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট জানায়, ধানের দানা শক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জমিতে দুই থেকে তিন ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে। ধানের অগ্রভাগ বা পাতা পোড়া রোগ দেখা দিলে প্রতি পাঁচ শতাংশ জমিতে থিওভিট ও এমওপি ৬০ গ্রাম, ২০ গ্রাম দস্তা বা জিঙ্ক ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতি বিঘা জমিতে পাঁচ কেজি পটাশ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলে ট্রাইসাক্লাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন প্রয়োগ করলে ধানের ব্লাস্ট প্রতিরোধ করা যায়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. আউয়াল বলেন, জেলায় এবার ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। ০৪ এপ্রিল ঘন্টাব্যাপী বৃষ্টিহীন ঝড়ো বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় ও বাতাসে আর্দ্রতা না থাকায় বোরো ধানের ক্ষেতের শীষ মরে গেছে।

তিনি বলেন, জলীয় বাষ্প কম থাকলে আমরা যে তাপমাত্রা রেকর্ড করি না কেন, এর চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হবে। তখন মনে হয় লু-হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। সে দিন মূলত এ ব্যাপারটা ঘটেছিল। এখন পর্যন্ত ২৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান হিটশকে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিক টন ধান হিসেবে ১৬৮ মেট্রিক টন ধানের ক্ষতিসাধন হয়েছে। 

-আরএইচ/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft