For English Version
শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

যেভাবে নকশী আপু হলেন সাগরিকা

Published : Saturday, 10 April, 2021 at 11:19 AM Count : 314
এস কে দোয়েল

পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের সেই নকশী কাঁথা তৈরি করে নকশী আপু হয়েছেন এক নারী উদ্যোক্তা। নকশী কাঁথা তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন তিনি। প্রতিনিয়ত বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা। অনলাইনে আসছে অর্ডার। 

ক্রেতাদের কাছে হয়ে উঠেছেন নকশী আপু। এই নারী উদ্যোক্তার নাম সাগরিকা চৌধুরী রুমা। বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়। 

মহামারি করোনা ভাইরাসে চলাকালীন লকডাউনে ঘরে আবদ্ধ থাকার বোরিং সময়কে কাজে লাগাতে বেছে নেন নকশী কাথার কাজ। ছোট বেলা থেকেই সুই সুতার কাজের প্রতি একটা ভালো লাগা থেকে নিজের জামাতে নকশার কাজ করতেন। পাশাপাশি এলাকার বেশ কয়েকজন কাজ জানা আপুদের কাছ থেকে হাতে খড়ি। সে অভিজ্ঞতার আত্মবিশ্বাস নিয়ে গত বছর ১৮ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক লক্ষ্যে শুরু নকশী কাঁথার কাজ। এভাবেই বলছিলেন উদ্যোক্তা সাগরিকা।

মাত্র সাত হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেন নকশী কাঁথার কাজ। অনলাইন মার্কেট থেকে কেনেন কাঁথার কাপড়, সুই, সুতা, ফ্রেম ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি। নিজের প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন এস আর হ্যান্ডিওয়ার্ক। মাত্র এক বছরেই কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য্যের মধ্য দিয়ে এখন লাখ পেরিয়েছে তার বিক্রি কার্যক্রম।

কাজের পরিচিতি ও অনলাইন মার্কেটে নিজের পণ্য তুলে ধরতে যুক্ত হন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ‘উই গ্রুপে’। গ্রুপে যুক্ত হয়ে তৈরি হয় নতুন অনুপ্রেরণা। মেনে চলেন উই আর ডিএসবির নির্দেশনা। ফেসবুক গ্রুপ ও অনলাইনে শেয়ারের পর থেকেই আসতে থাকে ক্রেতাদের অর্ডার। এরপর বড় কাঁথার সঙ্গে বেবিদেরও কাঁথা সেলাই কাজ শুরু করেন। সেই টাকা দিয়ে কাঁথার জিনিস কিনে আবার কাঁথা তৈরি করতেন। নকশী কাঁথার কাজের মধ্য দিয়ে নিজ এলাকায় বেড়েছে তার পরিচিতি।

কাজের শুরুতে ক্রেতাদের অর্ডারগুলোর সাপ্লাই দিতে একটু সমস্যা হতো। আত্মীয়ের মাধ্যমে পাঠানো হতো পার্সেল। দূরের অর্ডারগুলো সপ্তাহ পর পর ৫২ কিলোমিটার পারি দিয়ে জেলা শহর পঞ্চগড়ে গিয়ে কুরিয়ার করতেন। 

উদ্যোক্তা সাগরিকা বলেন, প্রথম দিকে আমার স্বামীও রাজি ছিল না এ কাজ করি। পরে আমার কাজের আগ্রহ দেখে সাপোর্টসহ আগ্রহ বাড়াতে থাকেন। সে রাজি ছিল না এ কারণে, কাজে ব্যস্ত থাকলে একমাত্র ছেলেকে (২) সময় দেবে কিভাবে। কিন্তু সবকিছু সামলে নিয়ে চালিয়ে গেছি আমার কাজ। প্রজেক্টে কোন হ্যাল্পিং হ্যান্ড না থাকলেও সংসার সামলে অনার্স ৪র্থ বর্ষে পড়ালেখা করছি। 

তিনি বলেন, শুরুতে মানুষজন নানা ধরনের কথা বলতো। স্বামী চাকরি করে আর আপনি নকশী কাঁথা সেলাই করেন কেন? কি দরকার এতো পরিশ্রমের, টাকার অভাব নাকি? নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও তাদের কথায় কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে গেছি। 

এ নারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন ছোট বড় নকশী কাঁথা, নকশী বিছানার চাদর, নিমা-ন্যাপি, বেবি ড্রেস ও দেশিয় শাড়ি নিয়ে। বেশ সময় লাগে তা করতে। সময় লাগলেও বেশ চাহিদা রয়েছে এ নকশী কাঁথার। প্রায় এক বছরে লাখ পেরিয়েছে বিক্রয়। তার অনুপ্রেরণা পেয়ে আইরিন নাহার আপু, রাজিয়া সুলতানাসহ বেশ কয়েকজন শুরু করেছেন নকশী কাঁথার কাজ।

শুণ্য পুঁজি থেকে লাখ টাকায় পৌঁছে যাওয়া এ উদ্যোক্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন নারী কর্মসংস্থানের। সেখানে কাজ শিখিয়ে বর্তমান সরকার উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা ও অর্থ ঋণ দিচ্ছেন। সে প্রণোদনা চান সাগরিকাও। আর্থিক এ প্রণোদনা সহযোগিতা পেলে ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে গড়ে তুলবেন নারী কর্মসংস্থান।

সাগরিকার স্বামী হারুন অর রশীদ বলেন, প্রথম দিকে সংসারের দিকে চিন্তা করে সাপোর্ট না করলেও পরে ওর ইচ্ছেটাকে প্রাধান্য দিয়েছি। অনুপ্রেরণাসহ সার্বিক সহযোগিতা করছি। একটু সমস্যা যে, তেঁতুলিয়ায় তেমন কুরিয়ার সার্ভিস নেই। মাঝে মধ্যে আমাকেও জেলা শহরে গিয়ে ডেলিভারির জন্য কুরিয়ার করতে হয়। 

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft