For English Version
সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম সারাদেশ

নৌকায় ভোট দেওয়ায় কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ

Published : Monday, 8 March, 2021 at 9:37 PM Count : 48

নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ১০ কর্মচারীকে ছাঁটাই করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় কাউসার আলী রয়েল নামে পরিষদের এক কর্মচারী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। 

এ ঘটনায় পরিষদের সাবেক ও বর্তমান মেয়রসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে তানোর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

থানার অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মুন্ডুমালা পৌরসভার প্রকাশনগর গ্রামের বাসিন্দা আবু বাক্কারের ছেলে কাউসার আলী রয়েল (৩০) প্রায় ১০ বছর ধরে পৌরসভায় রোডলাইট ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন। 

ওই চাকরির জন্য সদ্য সাবেক মেয়র গোলাম রাব্বানীকে বিভিন্ন সময়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এই টাকা জোগাড় করতে তাকে ভিটেমাটিসহ গোরস্থানের জায়গাও বিক্রি করতে হয়। 

টাকা নেওয়ার পর ২০১৮ সালের দিকে তাকে মৌখিকভাবে সান্তনামূলক নিয়োগ দেয়া হয়। পরে মেয়র রাব্বানী রয়েলকে নিয়মিত অফিস ও তার কাজকর্ম চালিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু নিয়মিত বেতন-ভাতা দেননি। এরপরও রয়েল তার চাকরি স্থায়ীকরণের আশায় নিয়মিত ডিউটি করেন। 

সম্প্রতি ৩০ জানুয়ারি পৌর পরিষদ নির্বাচনের আগে নিয়োগ পরীক্ষার নামে আবারো ২০ হাজার টাকা নেয়া হয়। পরে তাকে চাপ দিয়ে বলা হয় তার আস্থাভাজন জগ প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আর তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

রয়েল, দুরুল হুদা, জাকারিয়া মাহমুদ উজ্জলসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১০ ভুক্তভোগী বলেন, গত ৩০ জানুয়ারির পৌর নির্বাচনে নৌকাপ্রার্থী আমির হোসেন আমিরের পক্ষে আমরা পৌরসভার ১০ জন কাজ করি। এতে বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। সম্প্রতি সাইদুর রহমান নির্বাচিত হয়ে আমাদেরকে পরিষদে আসতে নিষেধ করেন।

এদিকে ক্ষোভে অভিমানে অভুক্ত অবস্থায় ৫ মার্চ রাতে আত্মহননের জন্য বিষপান করেন রয়েল। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান রয়েলের পিতা আবু বাক্কার। তিনি বলেন, আমি পাড়ার এক মসজিদে মোয়াজ্জেম হিসেবে কাজ করি। বর্তমানে আমাকেও মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, রয়েল পাড়ার ছেলে বলে তাকে দিয়ে পরিষদের ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করানো হয়। পরে রোডলাইট ইলেকট্রিশিয়ান পদে মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে তাকে ৯ হাজার টাকা বেতন-ভাতা দেয়া হয়েছে। বর্তমান মেয়র এসে তাকে চাকরিচ্যুত করলে আমার কী করার আছে?

বর্তমান মেয়র সাইদুর রহমান বলেন, পৌর পরিষদ থেকে কাউসার আলী রয়েল ছাড়াও ১০ জনকে নিয়োগ দেয়া আছে বলে আমার জানা নেই। তাই রয়েলকে পরিষদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তানোর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ছাঁটাই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তবে কি কারণে ছাঁটাই করা হয়েছে তা আমরা জানি না। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-আরএইচ/এনএন


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft