For English Version
বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

শেখের বেটি হামাক নয়া জীবন দিল বাহে

Published : Monday, 22 February, 2021 at 3:43 PM Count : 152
অনিল চন্দ্র রায়

শেখের বেঠি হামাক নয়া (আমাকে নতুন) জীবন দিল বাহে (বাবা)। মুই এ্যালা শান্তিতেই ঘরোত থাকিম বাহে (আমি এখন শান্তিতেই ঘরে থাকবো বাবা)। আগত ধরলার ভাঙ্গণে মোর (আমার) বাড়ি-ঘর এ্যাক এ্যাক করি পাঁচ বার ভাংচে (ভাংছে)। বানে (বন্যার) সময় মুই (আমি) অনেক কষ্ট সহ্য করিয়া এমন কি না খেয়ে ছোয়া-পোয়া নিয়া (ছেলে-মেয়ে নিয়ে) ধরলার পাড়ত পড়িয়া আছনুং (ছিলাম)। কায়ো (কেউ) মোর খোঁজ নেয় নাই।

আজ শেখের বেটির কারণে হামার ধরলা নদীর দুই পাড়ে উঁচু বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। এই বাঁধ নির্মাণ হলে হামরা (আমরা) নয়া জীবন পামো বাহে। তাই আল্লা (আল্লাহ) যে শেখের বেটিকে যুগ যুগ ধরে বাঁচে থুক (বেঁচে রাখুক)।

আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলেছেন কুড়িগ্রামেফুলবাড়ী উপজেলার রামপ্রসাদ এলাকার মৃত শহর উদ্দিনের স্ত্রী বৃদ্ধা নবিজান বেওয়া (৮০)।

শুধু নবিজান বেওয়া নয়, রামপ্রসাদ গ্রামের মজিবুর রহমান (৬৩), সোনাইকাজি গ্রামের জোলেকা বেওয়া (৬০) ও আমিনা বেওয়ার (৭০) মতো ধরলার তীরবর্তী হাজারও মানুষ আনন্দিত।

ধরলা নদী সংলগ্ন সোনাইকাজি গ্রামের মৃত ফাতেউল্ল্যাহের স্ত্রী জোলেখা বেওয়া (৬০) এক সময় ৪ থেকে ৫ বিঘা জমির মালিক ছিলেন। এক সময় দাপটে চলছিল তার সংসার। ধরলা নদীর তীব্র ভাঙ্গণে বিলীন হয়েছে ভিটা চালাসহ আবাদী জমি। এখন অন্যের বাড়িতে এক মেয়ে নাতি-নাতনিকে নিয়ে সংসার। 

১০ বছর আগে স্বামী মারা যায়। একমাত্র মেয়ে লাকি। অনেক কষ্টে বিয়ে দেন। লাকির দুই সন্তান। শেষ পর্যন্ত লাকির সংসার টেকেনি। বর্তমানে জোলেখা বেওয়ার নিজস্ব কোন জায়গা না থাকায় ধরলার তীরবর্তী এলাকায় মাইদুল হকের জমিতে একটি টিনের চালা তুলে মেয়ে লাকি, নাতি-নাতনিকে নিয়ে কোন রকমেই জীবনযাপন করছেন।

শত কষ্টের মাঝেও ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফুলবাড়ী উপজেলায় ৫৪ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে আড়াই (২.৫) কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাধঁটি নির্মাণ শুরু হয়। এই নির্মাণ কাজ আগামী ২০২২ সালের ২৮ জুন শেষ হলে ধরলার বাম তীরে কবিমামুদ গ্রামের ৫০টি পরিবার, রামপ্রসাদ গ্রামের ২৪৭টি পরিবার, সোনাইকাজী গ্রামের ২৫০টি পরিবার, প্রাণকৃষ্ণ গ্রামের ২৫০টি, ধনীরাম গ্রামে ৩০০টি, ডান তীরে জোতিন্দ্র নারায়ণ দক্ষিণ প্রান্তে ১০০টি, সোনাইকাজী ২৫০টি, চরমেকলী ৩০০টি পরিবার আজীবন ধরলার ভাঙ্গণ থেকে রক্ষা পাবে। সেই সঙ্গে রক্ষা পাবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার একর জমিসহ বিভিন্ন  ফসল। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ওই এলাকার তীরবর্তী হাজারও মানুষ নদী ভাঙ্গণের হাত থেকে রক্ষা পাবে। সেই সঙ্গে রক্ষা পাবে ধরলার তীরবর্তী হাজার হাজার বিঘা জমিসহ ফসল। দুই তীড়ের হাজারও মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। 

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft