For English Version
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম বেড়িয়ে আসুন

অযত্ন আর অবহেলায় এক কাতার মসজিদ

Published : Friday, 12 February, 2021 at 7:52 PM Count : 114
পীরগাছা থেকে ফিরে হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী

রংপুরেপীরগাছা সদরে প্রবেশের আগে পাকা সড়কের পাশেই চণ্ডিপুর গ্রাম। গ্রামটি ছিলো ইংরেজ বিরোধী বিদ্রোহী পীর ফকির সন্ন্যাসীদের শক্তিশালী গোপন ঘাটি। আলাই কুমারী নদী থেকে দুটি সংযোগ খাল কেটে গোপন দুর্গ ভবনে সংযোগ দেয়া হয়। 

এই সংযোগ খালে দেবী চৌধুরাণীর নৌকার বহর রাখা হতো। চণ্ডিপুরের গোপন দুর্গ ভবনে নবাব নুর উদ্দিন বাকের জং, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরাণী ও শিবচন্দ্র রায় মাঝে মাঝে গোপন সভায় মিলিত হয়ে ইংরেজ বিরোধী  সংগ্রামের রণ কৌশল নির্ধারণ করতেন।

ওখানে একটি মসজিদ ছিল। নবাব নুর উদ্দিন বাকের জং ও দেবী চৌধুরাণীর গোপন দুর্গ ভবন থাকার কারণে চণ্ডিপুরের জঙ্গলাকীর্ণ এ স্থানটির নাম করা হয় পবিত্রকুটি বা পবিত্র ঝাড়। চণ্ডিপুর, ফকিরটারী ও কুটিপাড়া গ্রাম ছিলো পীর, ফকির, সন্ন্যাসীদের বড় আস্তানা। 

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই পীর ফকির সন্ন্যাসীদের ভোগদখলকৃত লাখেরাজ সম্পত্তির অধিকার কেড়ে নিলে এরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ইতিহাসে এ বিদ্রোহ “ফকির সন্নাসী বিদ্রোহ” হিসেবে খ্যাত।

চণ্ডিপুর গ্রামের জঙ্গলাকীর্ণ গোপন ঘাটিতে ১৭৮৩ সালের বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিদ্রোহীদের গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়ে আচমকা আক্রমণ শুরু করে ইংরেজ বাহিনী। রংপুরের পীরগাছার মন্থনার জমিদার জয়দুর্গা দেবী (দেবী চৌধুরাণী) ইংরেজদের বিরুদ্ধে বীর বিক্রম যুদ্ধ করে এখানে নিহত হন। তার সঙ্গে নিহত হন ইটাকুমারীর মানবপ্রেমিক জমিদার শিবচন্দ্র রায় ও দেবী চৌধুরাণীর ছোট ভাই কেষ্ট কিশোর চৌধুরীসহ অসংখ্য ফকির সন্ন্যাসী।

এ এলাকার লোকজন দেবী চৌধুরাণীকে চণ্ডিমা বলে ডাকতো। রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় 'না পারাটা' কে 'না পাইম' বা 'না পাই' বলা হত। অর্থ্যাৎ চণ্ডিদেবী (দেবী চৌধুরাণী) ইংরেজ বিরোধী যুদ্ধে পারলেন না, হেরে গেলেন। এ কারণে চণ্ডিপুর গ্রামের এ স্থানটির নাম করণ করা হয় নাপাই চন্ডি।

স্থানীয় লোকজন চণ্ডি দেবীর (দেবী চৌধুরাণীর) গৌরব গাঁথা স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য লড়াইয়ের এ স্থানটিকে “নাপাই  চণ্ডির মেলা” নামে প্রচলন করেন। লড়াইয়ের মাঠের মাঝখানে ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট এক কাতারের একটি পাকা দালান এখনও অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে। 

দালানটির উত্তরে লাগোয়া আর একটি দালানের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। দালান দুটির সামনে রয়েছে একটি বিরাট পুকুর। পুকুরটি দেবী চৌধুরাণীর নির্দেশে খনন করা।

জরাজীর্ণ ধ্বংসাবশেষ দালানটিকে মসজিদ বলে জানান এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের প্রতি বৃহস্পতিবার এ স্থানে বসানো হয় নাপাই চণ্ডির মেলা। মেলার মসজিদটির টিলায় মানত করতে দূর-দূরান্ত থেকে আসতো হিন্দু, মুসলমানসহ নানা শ্রেণির মানুষ। তারা বিয়ে-শাদি, সন্তান না হওয়াসহ অসুখ-বিসুখের জন্য এখানে মানত করতো। মানত পূর্ণ হলে পরের বছর এখানে দিতো সিন্নি, খিচুরী, মুরগী, খাসিসহ বিভিন্ন সামগ্রী। এ প্রচলন এখনো রয়ে গেছে।

কিন্তু কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে মেলাটির ঐতিহ্য। সেখানে প্রভাবশালীদের  কারণে মাঠের পরিধি ছোট হয়ে আসছে। আর এক কাতার মসজিদটি আজ জরাজীর্ণ, অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে। নেই কোন সংস্কার বা মেরামতের উদ্যোগ।

মোঘল আমলের এ মসজিদটি সংস্কার বা মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft