For English Version
শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

ঘর নির্মাণের নামে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Published : Wednesday, 27 January, 2021 at 3:26 PM Count : 638
রুপম আচার্য্য

সরকারের গৃহায়ন তহবিলের ঋণের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিয়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে মৌলভীবাজারেশ্রীমঙ্গলের ‘আগ্রহ উন্নয়ন সংস্থার’ বিরুদ্ধে।

সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির মালিক আবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সংস্থাটির প্রধান অফিস উপজেলার সাতগাঁও বাজারে।

জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের তৈরি করে দেওয়া স্কুলের সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে সংস্থার বাস্তবায়নে তৈরি হয়েছে (স্কুলটি) বলে চালিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। ঘর নির্মাণের জন্য ‘গৃহায়ন তহবিল ঋণ’ এর ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে সঞ্চয় নিয়ে হাজার দশেক টাকা দেওয়া, ‘গৃহায়ন তহবিল ঋণ’ দেওয়ার নামে তাদের ভোটার আইডি নিয়ে লিষ্ট করে, সে অর্থ আত্মসাৎ করার চেষ্টাসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ভরপুর সংস্থাটি প্রতারণা করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগ্রহ উন্নয়ন সংস্থার সদস্য পাস বইয়ের ঋণ গ্রহণ ও আদায়ের বিবরণে কোন কিছু উল্লেখ ছাড়াই সঞ্চয় নিচ্ছে ও ১০-২০ হাজার টাকা ঋণ দিচ্ছে। এমনকি দরিদ্র খাসিয়া সম্প্রদায়ের নিজের ঘরের সামনে সংস্থার সাইনবোর্ড রেখে 'আগ্রহ উন্নয়ন সংস্থার' বাস্তবায়নে তৈরি হয়েছে বলে অডিটকে রিপোর্ট দিয়েছে ওই সংস্থা।

উপজেলার ২ নং নাহার কাইলেন পুঞ্জিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নতুন বিদ্যালয় নির্মাণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সে স্কুলে 'আগ্রহ উন্নয়ন সংস্থা' তাদের নিজের সাইনবোর্ড লাগিয়ে ছবি তুলে অডিটকে দেখানোসহ “গৃহায়ণ তহবিল ঋণ” এর টাকায় নির্মাণ হয়েছে বলে চালিয়ে দেয় এই সংস্থা। 

এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে সংস্থাটির অফিসে গেলে সংস্থার নির্বাহী ও মালিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় দেবের সঙ্গে কথা হয়। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি (শিক্ষক) এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত নন, তিনি স্কুল শিক্ষক।

তিনি আরও বলেন, স্কুল শিক্ষক হয়ে তো আর সংস্থা চালানো যায় না। আর আমি এই সংস্থার কিছু নই।

কিন্তু অনুসন্ধানে তথ্য মেলে তিনি এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানেও এই সংস্থার মালিক এবং সংস্থার বিভিন্ন কাজে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও বাজারের কিছু স্থানীয় সিএনজিচালক।

আরও জানা যায়, ‘গৃহায়ণ তহবিল ঋণ’ দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে প্রথম ধাপে ২৫টি ঘর নির্মাণের জন্য ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০১৯ সালে আরও ২৫টি ঘর নির্মাণের জন্য ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৩৫ লক্ষ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আনে আগ্রহ উন্নয়ন সংস্থা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘আগ্রহ উন্নয়ন সংস্থা’ গৃহায়ন তহবিল ঋণ দেবে বলে সঞ্চয় নিয়ে আর ঋণ দিচ্ছে না। ঋণ দেওয়ার কথা বললে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ দিচ্ছে। যখন অডিট আসে তখন সংস্থার লোক সকাল বেলা সাইনবোর্ড নিয়ে আসে- বলে তুমি ওই বাড়িতে লাগাও, এই বাড়িতে লাগাও, আজকে অডিট আসবে। যদি কেউ জিগ্যেস করে তাহলে বলবে এই ঘর আমরা তৈরি করে দিয়েছি।

সংস্থার লোক সদস্যদের বলে, তোমরা বলবে তোমাদেরকে ঋণ দেওয়া হয়েছিলো সেই ঋণের টাকা দিয়ে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বলার পর অফিসার আসে অডিট করে চলে যায়।

পুঞ্জির স্বপন দিকার নামের একজন বলেন, আমাদের এখানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন থেকে একটা স্কুল নির্মাণ করে দিয়েছে। হঠাৎ একদিন দেখলাম এই স্কুলে আগ্রহের সাইনবোর্ড লাগানো, তখন আমি দেখে রাগ করে সাইনবোর্ড তুলে ফেলে দিলাম। কেন আমার স্কুলে আগ্রহের সাইনবোর্ড থাকবে। আসলে তারা তো আমাদেরকে ঘর বানানোর জন্য কোন টাকাই দেয়নি, সে কারণে তাদের সাইনবোর্ড এই স্কুলে লাগিয়ে দেখাচ্ছে এই ঘর তারা বানিয়ে দিয়েছে। এক কথায় এই ‘আগ্রহ উন্নয়ন সংস্থা’ আমাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করছে।

জানা যায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, যাদের ‘ভিটে আছে ঘর নেই’ তাদের বসতঘর বানানোর জন্য ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গৃহায়ন তহবিল’ গঠন করেন। তহবিলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ইউনিট। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে স্টিয়ারিং কমিটি এ তহবিল তদারকি করে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এনজিওগুলো ২ শতাংশ সুদে তহবিল পায়। গ্রাহক পর্যায়ে তারা ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়। ২২০ থেকে ৩০০ বর্গফুটের একটি ঘর বানানোর জন্য একজন গ্রাহককে ৭০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করার কথা।

‘আগ্রহ উন্নয়ন সংস্থা’টির বর্তমান নির্বাহী বাবলু বর্ধনের কাছে এ অনিয়ম ও ‘গৃহায়ন তহবিল ঋণ’ এর ঘরের জন্য টাকা কোথায় দিয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি কিছু জানি না। আর কোন কোন জায়গায় ঘর নির্মাণের জন্য ঋণ দেওয়া হয়েছে মনে নেই। আমার স্মৃতিশক্তি খুব দূর্বল।'

এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠা সংস্থাটির অফিসে গেলে কেউ কোন তথ্য দিতে রাজি হয়নি। 

সংস্থার এক কর্মকর্তা আব্দুল মুকিদের কাছে ‘গৃহায়ণ তহবিল ঋণ’ এর তালিকা চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'তিনি আসবেন এসে দেবেন। কিন্তু দেননি।'

পরবর্তীতে ফোন করলে তিনি তালিকা চাওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, 'এসে দেখা করবেন।'

এই বলে ৪-৫ দিন অতিবাহিত হলেও আর কোন তথ্য তার নিকট থেকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, 'ঘটনা তদন্ত করে যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।'

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft