For English Version
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম সারাদেশ

পর্যটকদের আবাসন সংকট দূরীকরণে কমিউনিটি টুরিজমের পরিকল্পনা

Published : Thursday, 26 November, 2020 at 3:51 PM Count : 279


পর্যটকদের আবাসন সংকট দূরীকরণ ও সেবা প্রদানের লক্ষে কমিউনিটি টুরিজমের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।  চলতি মৌসুমে উত্তরের আকাশচুম্বী হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা কাছ থেকে দেখার সুবাধে প্রচুর পরিমানে পর্যটকের ঢল নামে তেঁতুলিয়ায়। প্রচুর পরিমাণে পর্যটকদের আবাসন সংকটের কারণে যাতে আবাসন সংকট দূর করার সম্ভব হয়, সে চিন্তা করেই কমিউনিটি টুরিজমের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা।  এ পরিকল্পনায় যাদের বাসা বাড়ি খালি পড়ে থাকে, তাদেরকে কমিউনিটি ট্যুরিজমে এনে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্বুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

দেশের পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে এখন পর্যটনকন্যা পঞ্চগড়। এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনের রুট হচ্ছে তেঁতুলিয়া। প্রতিবেশী ভারত সীমান্তের কাটাতারে ঘিরে রাখলেও সীমান্ত জুড়ে রয়েছে বাংলার সৌন্দর্যের ঐশ্বর্য। সীমান্তের ওপারে সমৃদ্ধ দার্জিলিং, পশ্চিম দিনাজপুর ও জলপাইগুড়ী জেলার অবস্থান। আর দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ী জেলার শিলিগুড়ী শহর ভারতের সেভেন সিস্টার এর যোগাযোগের একমাত্র দরজা।  অন্যদিকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এ দুটি স্থান ব্যাপকভাবে পরিচিত সবার কাছে। এ দুই সীমান্ত ভ্রমণ করলেই অর্ধেক বাংলাদেশ ভ্রমণ হয়ে যায় এমনটি বদ্ধমূল বিশ্বাস ভ্রমণ পিপাসুদের। আর দেশের একমাত্র স্থান, যেখানে কাছ থেকে দেখা মেলে নেপালের হিমালয়, ভারতের কাঞ্চনজঙ্ঘা। আর পর্যটনের আরেক সম্ভাবনা হচ্ছে চতুর্দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের দেশের একমাত্র বৃহত্তর স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা। 

ঈর্যটন শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে দেশের চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা। এ বন্দরের যুক্ত হয়েছে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। ইমিগ্রেশন সুবিধা নিয়ে পারাপার হচ্ছেন দেশি-বিদেশী বহু সংখ্যক পর্যটক। বাংলাদেশিরা প্রায় প্রতিদিনই ভারতের সিকিম, দার্জিলিং, ডুয়ার্সসহ ভুটান ও নেপাল ভ্রমণ করছেন। যাওয়া-আসা করছে নেপাল, ভুটান, ভারত ও বাংলাদেশী  শিক্ষার্থীরাও। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কন্যাকুমারী, কুল্লু, গোয়া, সিমলা, নৈরীতাল, মানালিসহ দর্শনীয় স্থানগুলো। অনেকে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন শিলিগুড়িসহ বেঙ্গালোর, চেন্নাই, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ ও কলকাতার মতো স্থানগুলোতে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কলকাতা, রবীন্দ্রভারতী, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে পড়াশোনা করছে।

গত ২৮ অক্টোবর হতে কাছ থেকে পৃথিবীর সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হওয়ার খবরে পর্যটকের ঢল নামে। সপ্তাহ জুড়ে পর্যটকের ঢল নামলেও আবাসন সংকটের কারণে থাকতে পারেননি বহু পর্যটক। বাধ্য হয়েই অনেক পর্যটক রাত্রী যাপনের জন্য ৪০ কিলোমিটার পারি দিয়ে যেতে হয়েছে জেলা শহর পঞ্চগড়ের কোন আবাসিক হোটেলে। পরের দিন ভোরেই তারা আবার ফিরেছেন কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সমৃদ্ধ করেছে সমতলের চা বাগান।

পর্যটন শিল্পে অপার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পর্যটকদের জন্য তেমন পর্যাপ্ত আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন রিসোর্ট তৈরি হয়নি এখনো। তৈরি হয়েছে আবাসনের তীব্র সংকট। এ সংকটের কারণে পর্যটকদের পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। এসময়ে প্রচুর সংখ্যক প্রবেশ করছে পর্যটক। এ অঞ্চলে পর্যটকদের বহুল প্রত্যাশিত আকাংখা কাছ হতে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান হতে ছুটে আসছে নানান বয়সী পর্যটক। পর্যটকের সমাগমে পর্যটনে উৎসবমুখর আমেজ তৈরি হলেও পর্যাপ্ত আবাসন না থাকায় তৈরি করেছে দূর্ভোগ। এ দূর্ভোগ সময়ে কমিউনিটি ট্যুরিজম পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটকদের আবাসন সংকট লাঘব হবে এমনটি মনে করছেন নাগরিক বোদ্ধারা। 

পর্যটক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তেঁতুলিয়া ট্রাভেল এন্ড টুরিজমের নির্বাহী পরিচালক এস কে দোয়েল বলেন, দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে এখন তেঁতুলিয়া। এবার পর্যটন মৌসুমে কাছ থেকে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা, দার্জিলিং ও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রচুর পরিমাণে পর্যটক সমাগম ঘটেছে। দিন দিন বেড়ে চলেছে পর্যটকের পরিমান। কিন্তু সে পরিমানে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় আমরাও আবাসিক হোটেল বুকিং দিতে পারছি না। পর্যটকদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন যে কমিউনিটি টুরিজমের পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা গেলে আবাসন সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, পর্যটকদের আবাসন সংকট দূরীকরণে আমরা কমিউনিটি টুরিজমের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। কেননা, তেঁতুলিয়া দিন দিন পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রচুর পর্যটক আসছে। পর্যটকের তুলনায় আবাসন ব্যবস্থা অপ্রতুল। সরকারিভাবে আমাদের তিনটি ভবন রয়েছে। ব্যক্তি বা বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না এলে এখানকার আবাসন সমস্যা দূর হবে না। এজন্য আমরা আপাতত আবাসন সংকট দূরীকরণে কমিউনিটি টুরিজমের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখানকার শহরের মধ্যে যাদের বাসা খালি রয়েছে, সেসব বাসায় পর্যটকদের আবাসন ব্যবস্থার জন্য বাসার মালিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ করার কথা মাথায় নিয়েছি। এটা করতে পারলে কিছুটা হলেও আবাসন সংকট দূর হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও এই কমিউনিটি টুরিজমের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

এসকে/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft