For English Version
সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম সারাদেশ

কমলার রঙে রঙিন পঞ্চগড়

Published : Tuesday, 24 November, 2020 at 1:23 PM Count : 928

পঞ্চগড়ে উৎপাদিত কমলা বাজারে আসতে শুরু করেছে। নভেম্বরের শেষ থেকেই কমলা বাজারে উঠতে শুরু করে। পাকা কমলায় ভরে গেছে গাছের শাখা-প্রশাখায় জেলার শতাধিক বাগান।

একেকটি গাছে দুইশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত কমলা ধরেছে। কমলার রঙে রঙিন হয়েছে বাগানগুলো। জেলার ৩টি কমলা বাগান ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

এবার কমলার ফলনে চাষিরা খুশী। পঞ্চগড়ে শুধু খাসিয়া জাতের কমলার চাষ হয়।

কমলা চাষি ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, পঞ্চগড়ে উৎপাদিত কমলার আকার, রং ও স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। অনেকেই পঞ্চগড়ের কমলাকে ভারতের দার্জিলিংয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন। ৮-১০ বছর আগের কথা। অনেকটা শখের বশে জেলার অনেক মানুষ বাড়ির পাশের খালি জায়গায় কমলার চারা লাগান। কয়েক বছর পরেই সেসব গাছে কমলা ধরতে শুরু করে। তা দেখে উৎসাহিত হয় আশপাশের লোকজন। এভাবে বাড়তে থাকে কমলা চাষ। পরে অবশ্য কৃষি বিভাগ কমলা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে কমলার চাষকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে শুধু খাসিয়া জাতের কমলার চাষ হয়। শীত বেশি হওয়ায় পঞ্চগড়ের মাটি ও পরিবেশ কমলা চাষের জন্য অনন্য।

অনেকে বলছেন, পঞ্চগড়ের কমলা সিলেটের কমলার চেয়েও ভালো। কমলার ফলন ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ধীরে ধীরে বাড়ে। ১৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে এবং ২৫-৫০ বছর পর্যন্ত ফলন আস্তে আস্তে কমে যায়। ২০০৬-১১ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদী প্রকল্পের অধীনে ২২৩টি বাগানে ৩৪ হাজার ৮৮৮টি কমলার চারা রোপণ করা হয়।

এছাড়া, বসতবাড়ির আশপাশে রোপণ করা হয় এক লাখ ৫৬ হাজার চারা। ১৫ হাজার কমলা চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০১১ সালের শেষে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে ২০১৪-১৫ সালে আবার সিডিপি (সাইটরাস ডেভলভমেন্ট প্রকল্প) নামে এ প্রকল্প শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় চারা, সার, কীটনাশক ছাড়াও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে কমলা চাষিদের। ৯৩৫টি বসতবাড়িতে ১২টি করে চারা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিলুপ্ত ছিটমহলেও কমলা চাষ শুরু করা হয়েছে। 

চলতি মৌসুমে জেলায় দুইশ মেট্রিক টন এবং আগামী মৌসুমে ৫শ মেট্রিক টন কমলার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পঞ্চগড়ে কমলা নতুন ধরনের ফসল। এ জন্য সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকদের কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখা দরকার বলে চাষিরা জানান।

সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের ভেলকুপড়া গ্রামে করতোয়া নদীর তীর ঘেষেই গড়ে উঠেছে ১২ বিঘার বিশাল কমলা বাগান। গত বাগানে গিয়ে দেখা যায়, থোকায় থোকায় ভরে আছে কমলার গাছগুলো। কোন কোন গাছের কমলা পাকতে শুরু করেছে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে।

বাগানের মালিক আবুল কাশেম প্রধান জানান, ‘এখনো বাজারে বিক্রি করিনি। তবে বাগান থেকে কমলা বিক্রি শুরু করেছেন। আকার ভেদে ৫০ থেকে একশ টাকা হালি বিক্রি করছি। ২০১০ সালে কমলা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ বাগান গড়ে তুলি। বাগানে খাসিয়া জাতের এক হাজার ৬৫টি কমলার গাছ রয়েছে। কম বেশি সব গাছেই ফল ধরেছে। গত বছর দুই লাখ টাকার কমলা বিক্রি করি। গত বছর ফলন ভালো হয়েছিল। এবার একটু কম। আশা করছি এবারও দুই লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবো। শীত বাড়লে কমলার মিষ্টিও বাড়বে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সেলিম কবীর বলেন, 'পঞ্চগড়ে উৎপাদিত কমলার রং, আকার, স্বাদ ভারতীয় কমলার মতো। পঞ্চগড়ে শুধু খাসিয়া জাতের কমলার চাষ হয়। বর্তমানে পঞ্চগড়ের কমলা ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। জেলার অন্যতম অর্থকারী ফসলের স্থান করে নিয়েছে কমলা।'

সদর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের হাবিব প্রধানের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কম বেশি ৫শ গাছে কমলা ধরেছে। একেকটি গাছে দুইশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত কমলা ধরেছে। কমলার ভারে নুয়ে পড়েছে ডালপালাগুলো। ২০১১ সাল থেকে তিনি কমলা বিক্রি করছেন। গত বছর তিনি লক্ষাধিক টাকার কমলা বিক্রি করেছিলেন। আশা করছেন এবার কমপক্ষে দুই লাখ টাকার কমলা বিক্রি করবেন।

হাবিব প্রধানের সহধর্মিণী শেফালী প্রধান বলেন,‘ দু'জনে মিলে (স্বামী স্ত্রী) বাগানটি করেছি। সারাদিন বাগানের পরিচর্যায় কেটে যায়। এবার কমলার আকার অনেক বড় হয়েছে। বাজারে দাম পাওয়া যাবে ভালোই। বাজারে কমলা বিক্রি শুরু করছি।’

একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক মো. সালাউদ্দিন প্রধান। সদর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী বড়বাড়ি গ্রামে দুই একর জমিতে কমলার বাগান গড়ে তুলেছেন। ৮/৯ বছর আগে লাগানো এ বাগানের ৪০/৫০টি গাছে গত ৫/৬ বছর ধরে কমলা ধরছে। গত বছর ৫০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। এ বছর লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি। জেলায় শতাধিক সফল কমলা চাষি রয়েছেন। তারা ৭ থেকে ১০ বছর ধরে কমলা উৎপাদন করছেন।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'কমলা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গড়ে ওঠা বাগানগুলোতে কয়েক বছর ধরেই কমলা ফলছে। প্রতি বছর কমলার উৎপাদন বাড়ছে। পঞ্চগড়ের কমলা অন্যান্য এলাকায় উৎপাদিত কমলার থেকে আকার, রং ও স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। জেলায় প্রায় ৩শ একর জমিতে কমলার বাগান রয়েছে। এছাড়া বসতবাড়ির আশপাশেও কমলার গাছ রয়েছে।'

-এসআই/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft