For English Version
রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম বেড়িয়ে আসুন

পঞ্চগড়ে টি ট্যুরিজমের সম্ভাবনা

Published : Sunday, 22 November, 2020 at 11:10 AM Count : 304
এস কে দোয়েল

সবুজ চা শিল্প যেমন বদলে দিয়েছে অর্থনীতির দীর্ঘ আয়ের পথ তেমনই সবুজের সৌন্দর্যের লীলাভূমি তৈরি করেছে পর্যটনের নতুন মাত্রা। চোখ যে দিকে যায় শুধু দেখা মেলে সবুজ চায়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। 

এই সবুজ চা বাগানের দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটক। এতে করে সম্ভাবনা তৈরি করেছে নতুন এক টি ট্যুরিজমের। পর্যটন মৌসুমে দর্শণীয় স্থানগুলোর মধ্যে যুক্ত হচ্ছে সমতল, ঢেউ দোলানো ভূমিতে সবুজ চা বাগান। পর্যটকরা স্থাপত্য দর্শণীয় স্থানগুলোর পাশাপাশি ঘুরে ঘুরে দেখছেন সবুজ কুড়ি চা বাগানের মনোরম দৃশ্য।

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের পর দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়। চা চাষে অর্থনৈতিক উন্নয়নে তৈরি করেছে নতুন দিগন্তের সূচনা। 

এক সময়ের পতিত গো-চারণ ভূমি এখন ভরে গেছে চায়ের সবুজ পাতায়। কোথাও কোথাও চা বাগানের মাঝে দেখা মিলছে বাড়িঘর। এতে সৃষ্টি হয়েছে মুগ্ধকর সৌন্দর্য। এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে পর্যটকের কাছে তুলে ধরতে গড়ে তোলা যেতে পারে টি ট্যুরিজম। 

চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য মতে, বর্তমানে পঞ্চগড়ে দুই হাজার ২৫৫ দশমিক ৫৫ একর জমিতে সম্প্রসারিত হয়েছে চা চাষ। দিন দিন বাড়ছে চা শিল্পের গুরুত্ব। চা চাষ করছে ১৮২ জন স্মল গ্রোয়ার্স যাদের জমি ৫ একরের নিচে। ৫ থেকে ২০ একরের মধ্যে স্মল হোল্ডার্স ১১ জন। ২০ একরের ওপরে ১৯টি টি এস্টেট। যাদের ৫ থেকে ২০ একরের জমিতে চা বাগান রয়েছে, তারা নিতে পারেন এ সুবর্ণ উদ্যোগ।

বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, যাদের ৫ থেকে ২০ একরের জমিতে চা বাগান রয়েছে। সেসব চা বাগানে অনেকেই বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়েছেন। এসব গাছের মধ্যে আম, আমলকি, মেহগনি ও সুপারি গাছ দেখা যায়। গাছগুলো বেশ আবহ তৈরি করছে। চোখে পড়েছে টি ট্যুরিজমের আদলে গড়া এ রকম কিছু চা বাগান। 

রওশনপুরের জেমকন গ্রুপের কাজী এন্ড কাজীর টি এস্টেটে আনন্দধারা রিসোর্ট। পর্যটন শিল্পের এ দর্শণীয় স্থানটি পর্যটকদের টানছে বার বার। কিন্তু জেমকন গ্রুপের ব্যক্তিগত মালিকানা হওয়ায় এ আনন্দধারা রিসোর্টে বিনা অনুমতি প্রবেশ নিষেধ রয়েছে পর্যটকদের। 

পঞ্চগড়ের চাকলায় আমেরিকান প্রবাসী মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু ৬০ বিঘা জমিতে চা বাগানের সঙ্গে লাগিয়েছেন বিভিন্ন দেশি বিদেশি ফুল, ফলের বাগান। পর্যটক আকর্ষণে চা বাগানে বাংলো গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। টি ট্যুরিজমের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে চান তিনি।

মিজানুর রহমান জানান, পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠছে আমাদের হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়। প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক সমাগম হচ্ছে এখানে। পর্যটকদের আকর্ষণে যাদের বড় বড় বাগান রয়েছে, তারা যদি বিশেষ বাংলো, বিনোদন আড্ডা ও টি স্টল গড়ে তুলতে পারি, তাহলে এসব বাগানগুলোতে পর্যটকদের সমাগম ঘটবে। 

এছাড়াও তেঁতুলিয়া উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, ডাহুক টি এস্টেট, টিটিসিএল, সদর ইউনিয়নের মাগুড়ায় কাজী টি এস্টেট, দর্জিপাড়ার রহমান টি এস্টেট, শারিয়ালজোত টি গার্ডেনগুলো টি ট্যুরিজমের গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে সীমান্ত ও নদীর কিনার সংলগ্ন স্থানগুলোতে যেসব একরের একর চা বাগান রয়েছে, এসব চা বাগানগুলো পর্যটকদের বেশ দৃষ্টি কাড়ছে।

অন্যদিকে, পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ চা বাগানের সঙ্গে এখানকার চা পান। এ অঞ্চল থেকে ভারতের প্রসিদ্ধ চা শিল্পের দার্জিলিং কাছে থাকায় এর প্রভাব রয়েছে চা উৎপাদনে। যে কারণে এখানে উৎপাদন হচ্ছে পৃথিবীর সেরা চা। এখানকার চা দেশিয় বাজারসহ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে। এখানকার অর্গানিক চা বিক্রি হচ্ছে লন্ডনের হ্যারোড অকশন মার্কেটে। রপ্তানি হচ্ছে দুবাই, জাপান ও আমেরিকার মতো দেশে। এখানকার উৎপাদিত চা পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারলে দর্শণীয় স্থানের সঙ্গে অর্থ বাণিজ্য রূপ দিতে পারে।

সম্প্রতি চা বাগান ঘুরে ইমরান খান নামের এক পর্যটক বলেন, 'এ অঞ্চলে টি ট্যুরিজমের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, চা বাগানের কথা উঠলেই সবার আগে মনে পরে সিলেট বা শ্রীমঙ্গলের কথা। উচু নিচু সবুজে ঘেরা টিলা আর পাহাড়, তার গাঁয়ে সারি সারি চা গাছ। কিন্তু সমতল ভূমিতেও যে চা বাগান হতে পারে তা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় না এলে বুঝতে পারতাম না। সমতল ভুমিতে সুন্দর পাকা রাস্তা যতদূর এগিয়ে যাচ্ছি সবুজ চা বাগান ক্রমেই আমাদের ট্রাভেল বি’ গ্রুপকে মোহিত করেছে। সীমান্তের কাঁটাতারও যেন ঢাকা পড়েছে সবুজের সমারোহে। এ এক অন্য রকম ভালোলাগার রাজ্য তেঁতুলিয়া। সিলেট বা শ্রীমঙ্গলের মতো টি ট্যুরিজমের যথেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে, কাজে লাগানো যেতে পারে।'

উপমহাদেশের অন্যতম পর্যটনবীদ ও প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির পর্যটন বিভাগের প্রধান ড. এ আর খান বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের চা বাগান দেখতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে সেখানে। সে ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড় চা শিল্পে তৃতীয় অঞ্চল হয়ে উঠায় টি ট্যুরিজমের প্রচুর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখানকার মনোমুগ্ধকর এই চা বাগানগুলো পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত মনোরম ও উপভোগ্য। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মন জুড়িয়ে দেয়। বাগানগুলোতে যদি পর্যটকদের ভ্রমণ বিলাসের জন্য বিশেষ রিসোর্ট, হোটেল ও বাংলো গড়ে তোলা যায়, তাহলে পর্যটন শিল্পে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।'

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদুল হক বলেন, 'পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় এখানকার চা শিল্প টি ট্যুরিজমে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। এখানে পর্যটকরা এসে এপার-ওপার বাংলার আন্তঃসীমানা চা বাগান উপভোগ করতে পারছেন। এছাড়া সমতল ও কোথাও উচু-নিচু ঢেউ তোলা জমিতে বিস্তৃত চা বাগানের সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্য যেকোন সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকের মন কাড়বে। তাছাড়া এখানে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক চা বাগান, যা দেশের অন্য কোথাও নেই। প্রতিদিন অগণিত পর্যটক এখানকার দর্শণীয় স্থানসমূহ দেখা ছাড়াও অতি আগ্রহে চা বাগানগুলোতে দেখছে, ছবি তুলছে, সে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, 'পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দ্বার এখন উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। পৃথিবীর দ্বিতীয় পর্বতশৃঙ্গ হিমালয় ও হিমালয়ের দ্বিতীয় পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা যেমন পর্যটকের আকর্ষণ তৈরি করেছে। তেমনি এখানকার সবুজ চা বাগান সিলেট, চট্টগ্রামের মতো পর্যটকদের দৃষ্টি কারছে। এখানে বাগানগুলোতে চা পাতা কাটা, ফ্যাক্টরিগুলোতে চা প্রক্রিয়াকরণ আর স্থানীয় ভাবে চা পাওয়া যাচ্ছে তা পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রশাসনিক ভাবে চেষ্টা করবো এখানকার বড় বড় চা বাগানের মালিকদের সঙ্গে টি ট্যুরিজমের বিষয়টি জানিয়ে উদ্যোগী করে তুলতে।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft