For English Version
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম সারাদেশ

আবাসিক এলাকায় গাড়ির ওয়ার্কশপ

Published : Wednesday, 28 October, 2020 at 11:33 AM Count : 132

যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাঁঠালতলার আবাসিক এলাকায় যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠেছে গাড়ির গ্যারেজ, গাড়ি রং করার ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন শব্দ ও বায়ু দুষণের মত স্থাপনা। এর ফলে অসহায় অবস্থায় বসবাস করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

যদিও ২০২১ সালের মধ্যে দূষণমুক্ত বসবাসযোগ্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও মডেল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর গঠিত হয়।

সূত্র মতে, গত বছরের ৩০ জুলাই যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. রবিউল ইসলাম গং জেলা প্রশাসক বরাবর আবাসিক এলাকায় গাড়ি রং করা গ্যারেজসহ নানা ধরনের গাড়ির গ্যারেজ স্থাপন করা হয়েছে মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, গাড়ি রং করা ও গ্যারেজের অন্যান্য কাজের ফলে এলাকায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জীবনযাপন হয়ে উঠেছে দূর্বিষহ। শব্দ ও বায়ু দুষণের ফলে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় জনসাধারণ। অভিযোগ দায়ের করার প্রায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর সময় অতিবাহিত হলেও তা থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রবিউল ইসলাম গংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একপত্রে যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক ৭ দিনের মধ্যে মতামতসহ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়। পত্র প্রাপ্তির পর ওই বছরের ৭ অগাস্ট সরেজমিনে তদন্তে বিষয়টি সত্যতা পাওয়া যায় মর্মে জানানো হয়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত পুরাতন কসবা কাঁঠালতলার মেসার্স জামান ওয়ার্কশপের (গাড়ি রং করার প্রতিষ্ঠান) স্বত্তাধিকারী মো. জামাল হোসেনকে ২০১৯ সালের ০১ অক্টোবরের মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে অনুমোদিত স্থানে স্থানান্তরিত হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করতে বলা হয়।

ব্যর্থতায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ এর ৯ ও ১২ ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ বলেন, 'মূলত আমাদের সরেজমিনে তদন্তের পর অভিযুক্তকে একটা সময় দেয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত তা করতে ব্যর্থ হলে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ থাকে। পক্ষান্তরে যেহেতু সমস্ত কার্যক্রম অভিযোগকারী জ্ঞাত থাকেন। পরবর্তীতে তিনি অবহিত করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।'

তিনি আরও বলেন, 'যশোর অফিসের উপ-পরিচালক পদটি ফাঁকা আছে। এছাড়া, একজন মাত্র পরিদর্শক। ৪ জেলার ২১ উপজেলা আমাদের দায়িত্বে রয়েছে। আর জনবল মাত্র ৭ জন।

ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে আরও জানা যায়, তারা ইতিমধ্যে বায়ু দূষণের ফলে এ্যাজমা, মাথা ব্যথা, হার্টের অসুখসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে স্থানীয় বয়স্ক, বৃদ্ধ ও শিশুদের জীবন মারাত্মক ভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, 'আমরা গাড়ি রং করা ওয়ার্কশপসহ, গাড়ির গ্যারেজের ফলে নানাবিধ অসুখ বিসুখে আক্রান্ত। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় পরিবেশ ভীষণ ভাবে দূষিত হচ্ছে। বিষয়টি জামান ওয়ার্কশপসহ এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষকে বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা নিজেরাও অবহিত, কিন্তু কোন প্রতিকারের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইবুর রহমান মোল্যা বলেন, 'রংয়ের মধ্যে সীসা, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম ও মারকারী নামক উপাদান থাকে। আর ভেপার মেশিনে রং স্প্রে করার সময় তা খুব সহজেই বায়ুতে মিশে সরাসরি মানুষের শরীরের প্রবেশ করে। এছাড়া যে অংশ মাটিতে পড়ে তা মাটির মাধ্যমে খাদ্যচক্র আকারেও মানবদেহে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রবেশ করে। এর ফলে মানবদেহে নানা ধরনের রোগবালাই সৃষ্টিসহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফুসফুস ক্যান্সার, হাড় ক্ষয় রোগ, মাথা ব্যথা, অবসাদ, ত্বকের রোগসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। জীবনহানীর শংকা অনেক বেশি থাকে।

-এসকে/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft