For English Version
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

সন্তানদের সম্পত্তি লিখে দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করছেন বাবা

Published : Monday, 12 October, 2020 at 11:06 AM Count : 214
আব্দুর রউফ রিপন

নওগাঁর রাণীনগরে মজিবর ফকির নামের এক ব্যক্তির সম্পত্তি লিখে নিয়ে সন্তানরা তার পায়ে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছে।

উপজেলার ৭ নং একডালা ইউনিয়নের শড়িয়া গ্রামের মজিবর ফকির এলাকায় মজি ফকির হিসেবেই পরিচিত। ঠিকমতো খাবার, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা-যত্ন না পাওয়ায় মজিবর ফকির এখন অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। লোক দেখলেই বলে 'খাবার দে হামাক (আমাকে) খাবার দে'। টয়লেট সংলগ্ন খোলা মাটির ঘরে একটি চকিতে এক পায়ে দঁড়িতে বেঁধে রাখা হয়েছে তাকে।

মজিবর ফকিরের প্রথম স্ত্রী মারা গেছেন। সেই ঘরে আব্দুল খালেক নামের এক ছেলে রয়েছে। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই সংসারে দুই ছেলে ও ৫ মেয়ে রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শড়িয়া গ্রামের মৃত বয়তুল্লাহ ফকিরের ছেলে মজিবর ফকির। বয়স ৭৮ বছর। দুই বছর আগে স্বাভাবিক ছিলেন মজিবর। তখন ছেলেদের মাঝে কিছু সম্পত্তি লিখে দেন। এরপর কৌশল করে বড় ছেলে আব্দুল খালেক বসতবাড়িসহ অবশিষ্ট সম্পত্তির অধিকাংশ লিখে নেওয়ার কিছুদিন পর থেকে কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। রাস্তায় বের হয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করা, দোকানে গিয়ে বিভিন্ন খাবার জিনিসপত্র খাওয়াসহ নানা রকমের পাগলামী আচরণ শুরু করেন মজিবর। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে কোন  চিকিৎসা ছাড়াই প্রায় এক বছর যাবৎ মজিবরের পায়ে দঁড়ি লাগিয়ে একটি নোংরা, খোলা মাটির ঘরে বেঁধে রেখেছে তার সন্তানরা।

মজিবরের দ্বিতীয় স্ত্রী ও আশপাশের লোকেদের দাবি, সম্পত্তি লিখে নেওয়া ও দীর্ঘদিন যাবৎ ঠিকমতো খাবার, সুচিকিৎসা, সেবা-যত্ন না পাওয়া ও দঁড়িতে বেঁধে রাখার কারণে দিন দিন মজিবর ফকির মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছেন। বড় ছেলে ৩ বেলা যে পরিমাণ খাবার দেয় তাতে তার ক্ষুধা পূরণ হয় না। এ কারণে তার কাছে কেউ গেলে মজিবর তার কাছে খাবার চায়। অভাবের সংসার হওয়ার কারণে মজিবরের ছোট স্ত্রীকে অধিকাংশ সময় মেয়েদের বাড়িতে থাকতে হয়। তখন মজিবরকে দেখার কেউ থাকে না। ওই মাটির ঘরেই তাকে মশার কামড়ে অবহেলা আর অযত্নে পড়ে থাকতে হয়। অসহায় ভাবে পেট ভরে খেতে না পেয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বৃদ্ধ মজিবর ফকির।

স্থানীয়রা জানান, হয়তো বা সুচিকিৎসা, ভালো সেবা যত্ন, পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার ও মুক্ত পরিবেশ পেলে বৃদ্ধ মজিবর সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। মজিবরকে একবার খাবার দিলে সে আবারও খেতে চায়। কিন্তু সন্তানরা মজিবরের সম্পত্তি লিখে নিয়ে এখন আর বাবাকে ভালো ভাবে দেখে না। বাবার পাগলামীতে অতিষ্ঠ হয়ে সন্তানরা তাই দঁড়ি দিয়ে মজিবরকে বেঁধে রেখেছে। বিষয়টি খুবই অমানবিক।

মজিবরের বড় ছেলে আব্দুল খালেক বলেন, 'স্বজ্ঞান থাকতেই বাবা আমাদেরকে সম্পত্তি দিয়েছেন। আমি বাবাকে  ৩ বেলা খাবার দেই। তবে তার কোন চিকিৎসা এখন পর্যন্ত করা হয়নি। অস্বাভাবিক আচরণ করার কারণে পায়ে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছি।





মজিবরের দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, 'বড় ছেলে বসতবাড়িসহ বেশি সম্পত্তি লিখে নেয়ার পর থেকে স্বামীর মাথার সমস্যা দেখা দেয়। অভাবের সংসার। তাই আমাকে মেয়ে-জামাইয়ের ওপর নির্ভর হয়ে থাকতে হয়। আমি যতটুকু পারি করার চেষ্টা করি। আর টাকা পয়সার অভাবে চিকিৎসা করা হয়নি। চিকিৎসা, ভালো সেবা-যত্ন, পেলে হয়তো আমার স্বামী ভালোও হতে পারেন।'

একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল লতিফ বলেন, 'বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। আমি খোঁজখবর নিয়ে তার জন্য স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোন কিছু করার সুযোগ থাকে অবশ্যই তা করবো।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, 'ইতিপূর্বেও আমরা এ রকম একাধিক ব্যক্তিকে সরকারি সহায়তা দিয়েছি। মজিবর ফকিরের খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত তার জন্য কিছু করার প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টাও করবো।'

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft