For English Version
রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম সারাদেশ

যমুনা নদীর ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু না হলে ব্যয় বাড়বে

Published : Wednesday, 30 September, 2020 at 12:21 PM Count : 147

কোন ভাবেই শুরু করা যাচ্ছে না সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী খননের (ড্রেজিং) কাজ। নানা কারণে শুধু সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তন হচ্ছে। যে কারণে এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে অনেকগুণ।

সূত্র জানায়, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে গত বছর খনন (ড্রেজিং) করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর এখনও শুরু হয়নি টাস্কফোর্স কর্তৃক যৌথ প্রি-ওয়ার্ক। অথচ এই কাজের ডিজাইন শেষ হয়েছে ৩ বছর আগে। ওই সময় নদী যে অবস্থায় ছিল, বর্তমানে সে অবস্থায় নেই। পলি পড়ে ভরাট হওয়া জায়গার পরিমাণ বেড়েছে। এতে টেন্ডার অনুযায়ী যে পরিমাণ মাটি কাটার কথা, তার চেয়ে বেশি খনন করতে হতে পারে। আর এমনটি হলে ডিপিপি পুনঃমূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। ফলে বৃদ্ধি পাবে প্রকল্প ব্যয়।

সূত্র আরও জানায়, এই প্রকল্পের ঠিকাদাররা ড্রেজিং করার জন্য ড্রেজারসহ তাদের সকল প্রস্ততি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন। টেন্ডার অনুযায়ী ৮টি প্যাকেজে ৯ দশমিক ১২ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং করতে হবে। গত বছর এই প্রকল্পের সবগুলো টেন্ডার একত্রে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে টাস্ক ফোর্স থেকে বলা হয়েছিল, পৃথক ভাবে কাজ না করে একত্রে শুরু করার জন্য। সে মোতাবেক গত বছর নদী ড্রেজিং করা হয়নি। চলতি বছর একত্রে শুরু করা যাচ্ছেনা যৌথ প্রি-ওয়ার্ক না হওয়ার কারণে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদী ড্রেজিং প্রকল্পের জন্য দু’টি প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। যার প্রথমটি হচ্ছে, ২১৫ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয়টি ৩২০ কোটি টাকার। এই ড্রেজিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- যমুনা নদীর মাঝ বরাবর ক্ষীণকায় পানির প্রবাহকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল করা। আর নদীর তীরের কাছে যে চ্যানেলটি রয়েছে তা ভরাট করে ফেলা। এতে করে যমুনা নদীর মূল প্রবাহ ঠিক থাকবে আর নদী ভাঙ্গণ রোধ পাবে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমে যাবে।  মাঝ বরাবর যমুনা নদীর পানি প্রবাহিত হলে উভয় তীরের সম্পদ রক্ষা পাবে।

প্রথম প্রকল্পের প্রতিরক্ষা কাজ টাঙ্গাইলের কাউলিবাড়ী থেকে শাখারিয়া পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার খনন কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ ঠিকাদাররা শুরু করতে পারবে প্রি-ওয়ার্ক সম্পন্ন হওয়ার পরই। 

দ্বিতীয় প্রকল্পের ৫ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা কাজের মধ্যে ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ চলতি বছর সম্পন্ন করার কথা। আর টাস্কফোর্স কর্তৃক যৌথ প্রি-ওয়ার্ক সম্পন্ন হলে ৬ দশমিক ১২ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের কাজ শুরুহবে। দু’টি প্রকল্পে ৯ দশমিক ১২ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজের শুরু হবে জামালপুর জেলার পিংনা থেকে এবং শেষ হবে বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রায় ১০ কিলোমিটার উজানে টাঙ্গাইলের অর্জুনা নামক স্থানে এসে।

এ ব্যাপারে পাউবো মহাপরিচালক প্রকৌশলী এ এম আমিনুল হক বলেন, 'যমুনা নদীর খনন কাজ কোন ভাবেই বন্ধ রাখা যাবে না। এ ব্যাপারে স্থানীয় পাউবোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'এখন নদী-খাল ড্রেজিং নিয়ে কোন অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ নেই। যেকোন সময়ের চেয়ে ভাল কাজ হচ্ছে। নদ-নদী খননের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ রক্ষা, নৌপথ সচল করা, কৃষি কাজে পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং নদীতে সারা বছর পানি ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাও রয়েছে। আমরা যমুনা নদীর খনন কাজ দ্রুত শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে চাই।'

পাউবো’র টাস্কফোর্স প্রধান (এডিজি) কাজী তোফায়েল হোসেন বলেন, 'যৌথ প্রি-ওয়ার্কের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে সার্ভের কাজ শুরু হবে। ইকো সাউন্ডের মাধ্যমে এই সার্ভে সম্পন্ন করা হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'গত বছর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় আমরা খনন কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। যেন চলতি বছর সবাই একত্রে কাজ করতে পারে। ৩ বছর আগে এই প্রকল্পের ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। ওই সময় নদীর যে অবস্থা ছিল, এখন সে অবস্থায় রয়েছে কি না এটাও দেখা হবে। যদি পলির পরিমাণ বাড়ে, তাহলে মাটি খননের পরিমাণও বাড়বে। আর এমনটি হলে ডিপিপি রিভিশন করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সার্ভে সম্পন্ন হওয়ার পর আমরা সবকিছু নিশ্চিত হতে পারবো।

টাঙ্গাইলের পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'সহসাই যমুনা নদী ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হওয়া প্রয়োজন। সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে ড্রেজিং করার জন্য ড্রেজারসহ তাদের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন। কিন্ত এই সময়ে যমুনায় পানি বৃদ্ধির কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।'

তিনি বলেন, 'যথাসময়ে খনন কাজ শুরু করা না গেলে চলতি বছর এই কাজ সম্পন্ন করা অনেকটা কঠিন হয়ে যাবে।'

-এবি/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft