For English Version
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০
Advance Search
হোম সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে যমুনার ব্যাপক ভাঙ্গণ

Published : Friday, 25 September, 2020 at 2:43 PM Count : 123

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। এমন অবস্থায় জেলার শাহজাদপুর, সদর, চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি, পাকুড়তলাসহ পাশের গ্রামগুলোর প্রায় দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে ভাঙ্গণের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। ভাঙ্গছে চৌহালী ও সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী এলাকা।

আর যমুনার ভাঙ্গণের কবলে পড়ে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন নদীর তীরবর্তী অসংখ্য মানুষ। চোখের সামনে একের পর এক ঘরবাড়ি, জমিজমাসহ বিভিন্ন স্থাপনা যমুনার পেটে বিলীন হয়ে যাওয়ার পরও ভাঙ্গণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় যমুনা তীরবর্তী এলাকাবাসী মানববন্ধন ও অনশন পর্যন্ত করেছেন।

শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি এলাকার বৃদ্ধ ইয়াছিন প্রামাণিক (৮০) ও রহম আলী মোল্লা (৭২) গত ০২ সেপ্টেম্বর থেকে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে যমুনার তীরে অনশন শুরু করেন। পরে ২২ সেপ্টেম্বর পাউবোর কর্মকর্তারা গিয়ে বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিলে অনশন ভাঙ্গেন তারা। এখন তাদের একটাই দাবি 'ত্রাণ চাই না, যমুনা তীর সংরক্ষণ বাঁধ চাই।'

ইয়াছিন প্রামাণিক (৮০) ও রহম আলী মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, '৭-৮ বার বাড়ি ভাঙ্গণের কবলে পড়েছেন তারা। জমি জমা সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন সামান্য বাড়ির ভিটা আছে। আবারও শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙ্গণ। ভিটেটুকু গেলে আর যাব কোথায়। কিন্ত ৩/৪ বছর হয় শুনছি বাঁধ নির্মাণ হবে কিন্ত আজও তা হলো না। সরকার এই জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করে দিলে ভাঙ্গণ রোধ হতো। আমাদের মতো  শত শত গরীব মানুষের বাড়ি জমি রক্ষা হতো।'

জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি এলাকার নুরু ফকির (৭২), শফিউল্লাহ মুন্সী (৮০), তয়জাল ফকির (৬৫) ও রহম আলী মোল্লাসহ (৭২) এলাকাবাসী জানান, এনায়েতপুরের ব্রাক্ষণগ্রাম থেকে হাট প্রাচীল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা যমুনার ভাঙ্গণমুক্ত না করায় চোখের সামনে একের পর এক তাদের জমি জমা ঘর-বাড়ি সব যমুনার পেটে যাচ্ছে। ১০ বার যমুনার ভাঙ্গণের স্বীকার হয়ে তারা ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। শেষ সম্বল তাদের ভিটাটুকু আর যমুনাকে দিতে চান না। ভাঙ্গণের হাত থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, 'চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ব্রাক্ষ্মণগ্রাম, আড়কান্দি, ঘাটাবাড়ি, পাকুরতলা, কুঠিপাড়া, ভেকা ও পাচিল গ্রামের দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি ও বিস্তর্ণ ফসলি জমি যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙ্গণের কারণে নদীর অদূরে রয়েছে এনায়েতপুর-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক ও দেশের সর্ববৃহৎ এনায়েতপুর কাপড়ের হাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ক্রমাগত ভাঙ্গণের হুমকির সন্মুখীন হয়ে পড়েছে।' সংশ্লিষ্টদের প্রতি ভাঙ্গণ রোধে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার জোর দাবি জানাই।

এদিকে, ভাঙ্গণের কবলে পড়েছে সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা। তীব্র ভাঙ্গণের ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে দক্ষিণ চৌহালির বিস্তীর্ণ অঞ্চল। 

স্থানীয়রা জানান, অগাস্ট মাসের শেষ দিক থেকেই দক্ষিণ চৌহালির বাঘুটিয়া ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নে ভাঙ্গণ শুরু হয়। এরই মধ্যে ওই দুটি ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক ঘর-বাড়ি, শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙ্গণ আতঙ্কে মানুষ ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। গত কয়েক সপ্তাহ আগেই এসব অঞ্চলের মানুষ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছিলেন। এ অবস্থায় ভাঙ্গণ আতঙ্কে যমুনা পাড়ের জনগণ চরম বিপাকে পড়েছেন। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাসপুখুরিয়া থেকে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর বিনানুই পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙ্গণ  শুরু হয়। যমুনার পানি দফায় দফায় হ্রাস বৃদ্ধির ফলে ভাঙ্গণ তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। 

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে খাসপুখুরিয়া ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর বিনানুই হাটাইল, চর নাকালিয়া, ভুতেরমোড়, খাসপুখুরিয়া, মেটুয়ানী এলাকার ৫ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। একই সঙ্গে কয়েক শত বিঘার ফসলি জমিও বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে বহু ঘর-বাড়ি ও স্থাপনা।





চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল কাহার সিদ্দিকী, স্থানীয় মোল্লা মুকুট ও কালাম মোল্লা বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে চৌহালী উপজেলায় নদী ভাঙ্গণ চলছে। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। চলতি মাসে আবারও শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙ্গণ। এতে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। পাউবোসহ বিভিন্ন দফতরে জানিয়েও কার্যকরী কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বাধ্য হয়ে মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়েছে এলাকাবাসী। তারাও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামানা করেন।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, 'অনশনকারীদের সঙ্গে আমরা সমব্যথী। কাজীপুরের পাটাগ্রাম ও এনায়েতপুরের ব্রাক্ষণগ্রাম থেকে শাহজাদপুরের কৈজুড়ী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকা অনেকটা অরক্ষিত রয়েছে। এই দুটি স্থানে ভাঙ্গণ রয়েছে। ভাঙ্গণরোধে সাড়ে ১১শ’ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

চৌহালী উপজেলার দায়িত্বে থাকা টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'ভাঙ্গণরোধে এখন ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ চলছে। এছাড়া ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া আছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই এই এলাকায় স্থায়ী বাধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।'

-এবি/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft