For English Version
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম সারাদেশ

প্রণোদনার ঋণ না পেয়ে চড়া সুদ দিতে হচ্ছে মহাজনকে

Published : Friday, 25 September, 2020 at 11:34 AM Count : 182
অবজারভার সংবাদদাতা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর বাউফলে করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষীরা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রণোদনার ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে মৎস্য চাষীরা মহাজনের নিকট থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়াও অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাউফলে ৩৬ হাজার ২৬৫টি পুকুর ও ঘের এবং ৩১ হাজার ৪৬০ জন মৎস্য চাষী রয়েছেন। এদের সিংহ ভাগই উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে মাত্র ১০০ জনের মত চাষী বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করছেন। সাধারণত জুলাই ও অগাস্ট মাসে গ্রামীণ জনপদে মাছের পোনা বিক্রি করা হয়।

কিন্তু চলতি বছর করোনার কারণে তাদের উৎপাদিত মাছের পোনা এবং মাছ বিক্রি করতে পারেননি। ফলে চলতি বছর মাছের পোনা উৎপাদন ও মাছ চাষের পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করে তারা এখন বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। জাতীয় ভাবে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি প্রণোদনা হিসেবে মৎস্য চাষীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেন।

কিন্তু বাউফলের বেশির ভাগ মাছ চাষী ওই প্রণোদনার ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইতিমধ্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে ঋণের জন্য প্রত্যয়ন চেয়ে ৫০ জন মাছ চাষী আবেদন করেছেন। এদের মধ্যে ২৫ জনকে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রত্যয়ন পাওয়া অধিকাংশ চাষীকেই ঋণ দেয়া হয়নি।

বাউফলের মৎস্য চাষী দুলাল দালাল, কালাইয়ার শহিদুল ইসলাম, দাশপাড়ার মোসলেম উদ্দিন, নাজিরপুরের খলিলুর রহমান, কেশবপুরের মকবুল হোসেন, মজিবুর রহমান, মালেক, পলাশ হাওলাদার ও কালিশুরীর শিবলুসহ আরও অনেকে ঋণের জন্য আবেদন করেও ঋণ পাননি। এদের মধ্যে কয়েকজন চাষীকে কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখায় যাওয়ার পর ঋণ দেয়া শেষ হয়ে গেছে বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। 

এদিকে, ব্যাংক থেকে ঋণ না পেয়ে কয়েকজন চাষী চড়া সুদে স্থানীয় মহাজনদের নিকট থেকে ঋণ নিয়েছেন।

কেশবপুর কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইউনুচ মিয়া বলেন, 'আমরা প্রধাণত কৃষি কাজের ওপর ঋণ দেই। সুনির্দিষ্ট ভাবে মৎস্য চাষের জন্য ঋণ দেয়া হয় না। তারপরও কেউ আমাদের কাছে এলে দেখা যাবে।'

রুপালী ব্যাংকের কালিশুরী শাখার ব্যবস্থাপক নুরুল আলম বলেন, 'আমাদের বরাদ্দকৃত প্রণোদনার ১৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়ে গেছে।'

সোনালী ব্যাংক বগা শাখার ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান খান বলেন, 'মূলত এসব ঋণ আইএফআইসি ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়। আমাদের কাছে ২/১ জন মৎস্য চাষী এসেছেন, তাদের দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।'

একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর অনিহা, বরাদ্দ কম ও সুনির্দিষ্ট ভাবে মৎস্য চাষীদের ঋণ দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না থাকায় ব্যাংকগুলো এই খাতে ঋণ দিচ্ছে না। বরং ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে চাষীদের নিরুৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে, আবেদনকারীদের মধ্যে দু’একজনের পূর্বেই ঋণ নেয়া আছে বিধায় নতুন করে ঋণের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। এছাড়া মৎস্য অধিদপ্তরের প্রত্যয়নপত্র আমলে নিচ্ছে না কয়েকটি ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, 'করোনার প্রভাব ছাড়াও সম্প্রতি অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে মৎস্য চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংকগুলোর অনিহার কারণে মৎস্য চাষীরা প্রণোদনার ঋণ পাচ্ছেন না। এর ফলে মৎস্যখাত দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

-এএস/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft