For English Version
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম জাতীয়

তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে চরম অসন্তোষ

মসজিদে বিস্ফোরণ: তিতাসের ৮কর্মকর্তা-কর্মচারী দুদিনের রিমান্ডে

Published : Saturday, 19 September, 2020 at 7:12 PM Count : 126

নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত তিতাস গ্যাসের ৪ কর্মকর্তাসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

শনিবার দুপুরে গ্রেফতারের পর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে গ্রেফতারকৃতদের হাজির করা হয়। এসময় ঐ আটজনকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন তিতাসের ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম, উপ ব্যবস্থাপক মাহামুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মো. মুনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী মো. আইউব আলী, হেল্পার মো. হানিফ মিয়া ও কর্মচারী মো. ইসমাইল প্রধান। 

এদিকে পাইপ লাইনের লিকেজ থেকেই বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে সবগুলো তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করলেও তিতাসের তদন্ত রিপোর্টকে ‘দায় এড়ানো’ বলে অভিহিত করেছেন অনেকেই। বিশেষ করে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই ঘটনায় নিহতের স্বজনসহ এলাকাবাসী এবং মসজিদ কমিটি সদস্যরা। 

তারা বলছেন, তিতাসের গঠিত তদন্ত কমিটির সকল সদস্যই তিতাসেরই কর্মকর্তা। ফলে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হয়েছে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের অভিযোগ, গ্যাসের লিকেজ সাড়াতে তিতাসের ঘুষ দাবী ও কর্তব্যের অবহেলার বিষয়টি খুবই কৌশলে তাদের এড়িয়ে গেছে তদন্ত কমিটি। তাছাড়া ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি যদি সত্য নাও হয়, তবে গ্যাসের লিকেজের ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়নি এমনটা দাবী করে তিতাস কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করেছে এই রিপোর্ট কতটা স্বচ্ছ।

এদিকে শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিআইডির কার্যালয়ে সাংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি মো. মাঈনুল হাসান বলেন, শনিবার সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে তিতাসের ৮বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়। মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গাফিলতি থাকায় স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে। মসজিদ কমিটির গাফিলিত পাওয়া গেলে তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে।  

এব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, এই আট কর্মকর্তা কর্মচারিকে তিতাস কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করার পর থেকে পুলিশ তাদের নজরদারিতে রেখেছিল। পাশাপাশি তিতাস, ডিপিডিসিসহ অন্যান্য সংস্থার সন্দেহ ভাজনদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের ব্যাপারে জেলা পুলিশ তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশকে সহযোগিতা করছে। 

এঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানার এসআই হুমায়ন কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

তিতাসের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে চরম অসন্তোষ 

তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদের বিস্ফোরণের ঘটনা অনুসন্ধানে তিতাসের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন সহ এলাকাবাসী এবং মসজিদ কমিটি সদস্যরা। নিহতদের পরিবার, এলাকাবাসী এবং মসজিদ কমিটির দাবি, তিতাস তাদের দায় এড়ানোন জন্য নিরেপেক্ষ রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাঁচানোর জন্যই তদন্ত প্রতিবেদনে নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছেন তারা।

এব্যাপারে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিতাস কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় এড়ানোর জন্য পুরো রিপোর্টে মসজিদ কমিটির উপর দোষ চাপিয়েছেন। তিতাস ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করে এমন প্রতিবেদনে আমরা হতাশ। তিনি বলেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তিতাস গ্যাস লিকেজ মেরামত করার জন্য তিতাস গ্যাস অফিসে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সাধারণ সম্পাদকের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল এটা মসজিদের মুসল্লিসহ এলাকার শত শত লোক জানেন। অথচ এব্যাপারে তারা কৌশলে নিজেদের আত্মরক্ষা করেছে।

এদিকে বিস্ফোরনে নিহত মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল মালেক নেসারীর ছেলে নাইমুল ইসলাম জানান, তিতাস নিহতদের পরিবারের প্রতি যাতে ক্ষতিপুরন দিতে না হয় এজন্য তারা পায়তারা করছে। তিনি বলেন পরিকল্পিত ভাবে তিতাস দায় এড়ানোর জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছে। 

মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক( যিনি এই ঘটনায় মারা গেছেন) হান্নান সাউদ তিতাস কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার পরেই এক জুম্মার দিন গ্যাসের লিকেজ মেরামত করতে ৫০হাজার টাকা ঘুষের ব্যাপারে মুসল্লিদের অবগত করেছিলেন। তিনি এই টাকা যোগাড় করতে মুসল্লীদের কাছে সাহায্যের আবেদনও করেছিলেন। 

এদিকে নিহত অনেকের স্বজনরা বলেন, মসজিদ কমিটির গাফিলতি আর দোষ থাকলে তাহলে মসজিদ কমিটির লোকজন কিভাবে এই বিস্ফোরণে মারা গেলেন? যে সাধারন সম্পাদকের কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছিল তিনিও তো মারা গেছেন। তারা বলেন, তিতাসের রিপোর্ট একপেশে ও নিরপেক্ষ নয়। 

তারা বলেন, জেলা প্রশাসনের রিপোর্টেও কাউকে এককভাবে দায়ী না করায় আমরা মর্মাহত। 

যদিও তদন্ত রিপোর্টে তিতাস কর্তৃপক্ষের দাবী, ২ গ্রাহকের অবৈধপন্থায় গ্যাসের বিতরন লাইন শিফটিং কারণেই মসজিদের নিচে ২টি পাইপ পরিত্যাক্ত অবস্থায় ছিল এবং মসজিদের স্থাপনার কাজ করার সময় সেটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। যার ফলেই মরিচাজনিত কারণে লিকেজ হয়ে গ্যাস নির্গত হয়েছিল। পাশাপাশি ঘুষ দাবীর বিষয়টি নিয়েও তদন্তে দাবী করা হয় এমন কোন অভিযোগের সত্যতা তদন্ত কমিটি পায়নি। 

এবিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল ওহাব বলেন, আমরা মসজিদ কমিটির সভাপতি স্থানীয় কমিশনার এবং মসজিদটির আশে পাশের মানুষদের কাছে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া তিতাসের স্থানীয় কার্যালয়ের ছয় মাসের কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখেছি সেখানে লিকেজের ব্যাপারে ধরনের কোন অভিযোগ করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  

প্রসঙ্গত গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টায় সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও শিশু সহ ৩৯ জন দগ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিন প্লাস্টিক সার্জারী ও বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকাল পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আইসিইউতে আশঙ্কাজনক রয়েছেন ৪ জন। 
 
আরএ/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft