For English Version
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০
Advance Search
হোম সারাদেশ

সিরজগঞ্জে যমুনার পানি বিপৎসীমার উপরে

Published : Friday, 18 September, 2020 at 8:18 PM Count : 55

গত চার দিন ধরে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বেড়ে এখন তা বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। তবে কাজিপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি বেড়েছে ৩৯ সেন্টিমিটার। 

অপরদিকে একই সময়ে যমুনা নদীর কাজিপুর পয়েন্টে পানি বেড়েছে ৩৫ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পানি আরো বাড়বে। এদিকে দফায় দফায় পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করায় সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা নদী তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার মানুষের মাঝে আবারও নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি ৩৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে, কাজিপুর পয়েন্ট যমুনা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় উপ সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরো বাড়বে। 

এদিকে আবারো যমুনায় পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় করতোয়া,বড়াল, হুরাসাগর, ফুলজোড়, গুমানী ইছামতি সহ অভ্যান্তরিন  সকল নদনদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের রোপা আমন ধান, সবজি ও নতুন করে বোনা মাসকলাইয়ের জমিতে পানিপ্রবেশ করছে এবং তলিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে আবারো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে জেলার কৃষক। জুন মাসের প্রথম থেকে শুরু হওয়া  তিনদফা দীর্ঘ স্থায়ী বন্যায় ইতোমধ্যে কৃষি খাতে প্রায় সোয়া ২’শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

কৃষক আবারো উঠে দাঁড়াতে রোপা আমন ধান চাষ, মাসকলাই, গমভুট্টা ও সবজি সহ নানা ফসল আবাদে ঝুঁকে পড়ে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারও কৃষিতে প্রণোদনা সহ নানাসুবিধা প্রদান করেছে। কিন্তু যমুনায় পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় আবারো বন্যায় ক্ষতির আশংকায় অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যার ক্ষতি কাটাতে জেলায় ১ হাজার ২৮৫ কৃষককে ধানের চারা এবং ৫ হাজার কৃষককে একবিঘা করে জমি আবাদের জন্য মাসকলাইয়ের বীজ ও সার বিনামূল্যে দেয়া হয়। নতুন উদ্যেমে কৃষক ধানের আবাদ শুরু করে। চলতি মৌসুমে জেলায় রোপাআমন ধান আবাদের লক্ষমাত্রা ৬৯ হাজার ২৫০ হেক্টর ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৭১ হাজার ৮১২ হেক্টর জমিতে। কিন্ত নতুন করে বন্যার আতঙ্কে ভাবনায় পড়েছেন কৃষক। ফসল হয়তো আর রক্ষা করা যাবে না। 

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়ার আবু সেখ বলেন, কৃষি অফিস থেকে একবিঘা জমিতে আবাদেও জন্য মাসকলাই বীজ সার দিয়েছিলো তা রোপন করেছিলোম। কিন্ত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই জমি তলিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে।





কাজিপুর উপজেলার নতুন মাইজবাড়ি চরের কৃষক শাহীনুর আলম জানান, দুই দফায় আমার চার বিঘা জমির রোপাধান নষ্ট হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে আবারো চারা এনে জমিতে রোপন করেছিলোম। সেটা তলিয়ে গেছে। এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোস্তম আলী জানান, তার উপজেলার চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানিপ্রবেশ করতে শুরু করেছে। এর আগে বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে যার কারণে আবারো পানি বৃদ্ধি পওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হবার কিছুটা আতঙ্কে রয়েছেন কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হানিফ বলেন, গত বন্যায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি কাটাতে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছেন। আগামীতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত থাকবে। পানিবৃদ্ধিতে বন্যার আশঙ্কাতো রয়েছেই। তবে তিনি বলেন, নতুন করে পানি বাড়লেও এখনো ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের এবিষয়ে দেখভাল করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

এবি/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft