For English Version
শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম বেড়িয়ে আসুন

নতুন রুপে সেজেছে কুকরি-মুকরি

Published : Tuesday, 8 September, 2020 at 11:28 AM Count : 291
শিপুফরাজী

নতুন রুপে সেজেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার পর্যটন দ্বীপ কন্যা কুকরি-মুকরি। চর কুকরি-মুকরির যে দিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। গত ৪ মাস করোনাকালীন সময়ে এর সৈন্দর্য আরও বেড়ে গেছে। 

দ্বীপের যে দিকেই তাকাবেন, সে দিক থেকেই দৃষ্টিকে সম্মোহন করে হাতছানি দিতে থাকবে টুকরো টুকরো নিবিড় বনভূমি। একদিকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ, বৈরী বাতাস, চির সবুজ গাছ-গাছালি, মন ভোলানো সমুদ্র সৈকত, মায়াবী হরিণের দল আর অসংখ্য নাম না জানা পাখ-পাখালি বিস্তৃত সবুজ বনাঞ্চল কুকরী-মুকরীকে ভ্রমণ পিপাসুদের তীর্থ ভূমিতে পরিণত করেছে।

দ্বীপের পর্যটন সুবিধার পাশাপাশি বনের পরিবেশ রক্ষার দিকে নজরদারী বাড়ানোর কথা বলছে স্থানীয় বন বিভাগ।

কুকরি-মুকরি উপকূলীয় জেলা ভোলা থেকে বিচ্ছিন্ন জনপদ চরফ্যাশন উপজেলার একটি ইউনিয়ন। জেলা শহর থেকে কুকরি-মুকরির দূরত্ব ১২০ কি. মি.। দ্বীপের পূর্ব দিকে প্রমত্তা মেঘনা ও শাহাবাজপুর চ্যানেল। দক্ষিণান্তে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বুড়াগৌড়াঙ্গ এবং মেঘনার মিলনস্থল।

চরফ্যাশনের এই সুন্দর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে দীর্ঘদিন পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ ছিল। ফলে বনে বেড়েছে সবুজের সমারোহ, সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনে কেওড়া, বাইঙ্গি, গোলপাতা, সুদর্শণ সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, খুলসী, দিশারী, আমলকিসহ নানা বৈচিত্রময় উদ্ভিদ। আর এই এই করোনাকালীন সময়ে উদ্ভিদের সৌন্দর্য যেন বেড়ে গেছে।

এই দ্বীপে পর্যটক যাতায়ত না থাকায় বনের উদ্ভিদের পাশাপাশি বেড়ছে হরিণ, বানর, বনবিড়াল, ভুবনচিল, উদবিড়াল, শেয়াল, বনমোড়গ, কাঠময়ূর, জুলফি পানচিল, গাঙচিল, সোনা জিরিয়া, মথুরা ,কোয়েল , ধূসরবগা, ময়না , টিয়া, খয়রা চখাচখি, কাঠ ঠোকরার মত বিরল প্রজাতীর পশু-পাখি। এখানে অন্যান্য প্রাণীর পাশাপাশি লোকালয়ে চলে আসে হরিণের পাল।

বরিশাল থেকে ঘুরতে আসা মৌলভী আ. কাদের বলেন, 'এখানে ঘুরতে এলে যেকোন ব্যক্তির মন ভালো হয়ে যাবে।'

এই দ্বীপে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী আ. রহমান বলেন, 'পর্যটন দ্বীপ কুকরী-মুকরী একটি সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র, এখানে নদীর দু'দিকে বন মাঝখানে সরু খাল। এ খাল দিয়ে আপনি যেকোন সময় অনায়াসে স্পীডবোট, বনের খালে থাকা রঙ্গীন নৌকায় চেপে প্রকৃতি ও পরিবেশ দর্শণ করতে পারবেন।

স্থানীয় বন বিভাগের কর্মীরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন পর্যটকদের আনাগোনা কম ছিল। আর সেই ফাঁকে যেমনই সুন্দর ভাবে বেড়েছে বনের গাছপালা তেমনই বেড়েছে বনের পশু-পাখি। বনের জীব বৈচিত্রের ইতিবাচক দিকটি ধরে রাখতে চায় বন বিভাগ।

জেলা বন কর্মকতা তৌফিকুল ইসলাম বলেন, 'এখানে এখন আগের মত অনেক বেশি বিভিন্ন জাতের পশু-পাখি দেখা যায়, যা কখনো আগে দেখা যায়নি। বনে অবশ্য এই পশু-পাখিরা আগেও ছিল, কিন্তু মানুষের আনাগোনার কারণে তা সচরাচর বনের ভেতর থেকে বেড়িয়ে লোকালয়ে আসত না। করোনার কারণে গত ৪ মাস এই দ্বীপে পর্যটক আসা বন্ধ থাকায় এই সকল বিরল প্রজাতীর বণ্য প্রাণীরা বন থেকে এখন লোকালয়ে বের হয়ে আসছে। আর মানুষ তাদের সৈন্দর্য অনায়াশে উপভোগ করতে পারছে। আমরা মূলত চাচ্ছি এই দ্বীপে মানুষ ও প্রাকৃতিক পশু-পাখিদের সহঅবস্থান ঘটুক। দ্বীপে পর্যটন আনাগোনা কম থাকায় কুকরী নাড়িকেল বাড়িয়া ও বালুর দমের মত মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পটগুলো এখন নতুন রুপ ধারণ করেছে।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft