For English Version
রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

মরিচের চারায় ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে শাহানগরবাসীর

Published : Tuesday, 8 September, 2020 at 11:09 AM Count : 131

বগুড়ার মরিচের খ্যাতি দেশ জুড়ে। কিন্তু দেশি মরিচের উৎপাদন বেশি না হওয়ায় কৃষকরা এখন হাইব্রিড মরিচ চাষে ঝুঁকছেন।

লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় মরিচ ও সবজির চারা উৎপাদন করে বগুড়ার শাজাহানপুরের শাহানগরের অনেকেই এখন স্বাবলম্বী।  বিভিন্ন আমদানিকারক কোম্পানী ভারত থেকে হাইব্রিড মরিচের বীজ এনে তুলে দিচ্ছেন নার্সারী মালিকদের হাতে। 

উপজেলার শাহানগর পল্লীর নার্সারীগুলোতে এই হাইব্রিড মরিচের চারা উৎপাদনে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। মরিচের চারা সংগ্রহ করতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন বগুড়ার শাহানগরে।

প্রতি বছরের মত এবারও শাহানগরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মরিচের চারা নিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সরব উপস্থিতি ঘটেছে।

শাহানগরে ২০০০ সালে একটি মরিচের চারা উৎপাদনের নার্সারী ছিল। চারা উৎপাদন লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় এখন সেখানে গড়ে উঠেছে ২০০ থেকে ২৫০ নার্সারী। এসব নার্সারী প্রায় ৪ কোটি মরিচের চারা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। মরিচের চারা উৎপাদন করে শাহানগরের নার্সারী মালিকরা বছরের কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। এবার বৃষ্টিতে প্রায় ১ কোটি টাকার চারা নষ্ট হয়ে যাবার পর বগুড়ার শাহানগরের মরিচের চারা উৎপাদনকারীরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বগুড়ায় মরিচের বীজতলাগুলোর চারা রক্ষায় নানা রঙের পলিথিন দিয়ে ছাউনি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। প্রতি বছরে বগুড়ার শাহানগর থেকে দেশের প্রায় ২৫-৩০টি জেলার কৃষক ও ছোট-বড় পাইকারি ব্যবসায়ীরা চারা সংগ্রহর জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শাহানগর ও আশপাশের ২০০ মরিচ নার্সারীর মালিকরা ভারতীয় হাইব্রিড মরিচের বীজ জমিতে ফলিয়ে চারা উৎপাদন করে নিজেদের ভাগ্য বদলেছে এবং দেশের দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। কিন্ত তাদের আক্ষেপ তারা মরিচের চারা উৎপাদন করে দেশের জন্য এত বড় অবদান রাখলেও তাদের উৎসাহ দিতে সরকারের তরফ থেকে পুরস্কৃত করা হয়না।

শাহানগর নার্সারী মালিক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, প্রথম ভারতে থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর  আমদানিকৃত হাইব্রিড মরিচের চারা দিয়ে উৎপাদন শুরু করেন। লাভজনক ব্যবসা দেখে এলাকার অনেকে এই হাইব্রিড মরিচের চারা উৎপাদনে এগিয়ে আসেন। ছোট-বড় প্রায় ২৫০টি মরিচের চারা উৎপাদনকারী নার্সারী মালিক চারা উৎপাদন করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রায় এক হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে নার্সারীগুলোতে। 

তিনি আরও জানান, বৃহত্তর রংপুর ও বগুড়ার শ্রমিক নার্সারী পরিচর্য়া করে তারাও তাদেরও ভাগ্য বদলেছে। এ বছর শাহানগরে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে মরিচের বীজ বপণ করা হয়েছে। এই ৩০ হেক্টর জমিতে ৩ থেকে ৪ কোটি চারা উৎপাদন হবে। এখন নার্সারী মালিকরা প্রতিটি চারা পাইকারী বিক্রি করছেন ৬০ থেকে ৮০ পয়সায়। দেশের অর্ধেক জেলার পাইকাররা সেই প্রতিটি চারা এক টাকা করে বিক্রি করছেন। পাইকাররা চারা নেয়ার জন্য শাহানগরে এলে নার্সারী মালিকরা তাদের থাকা-খাওয়া ও রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা করে থাকেন। তারা রাত্রীযাপন করে চারা নিয়ে যমুনা নদী দিয়ে নৌ-পথে খুব ভোরে গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা হয়ে যান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দুলাল হোসেন জানান, এ বছর ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বন্যায় চারা ও মরিচের গাছের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া দেশ জুড়ে কাঁচা মরিচের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ভারত থেকে আমদানি করে কাঁচা মরিচের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাহানগরের মরিচের চারা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

চারা উৎপাদনকারী নার্সারীর মালিকদের অনেকে জানান, এ বছর বৃষ্টিতে প্রায় এক কেটি টাকার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন যে মরিচের চারা লাগানো হচ্ছে তা থেকে ফলন পেতে এক মাস সময় লাগবে। এক মাস পর বাজারও স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে। 

মরিচের চারা উৎপাদনকারী কৃষকরা জানান, বিঘা প্রতি মরিচের চারা উৎপাদন করতে খরচ হচ্ছে (বীজ, সার, মজুরী, পলিথিন, কিটনাশক) প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এক কেজি মরিচের বীজ কিনে থাকেন ৩০ হাজার টাকায়। বিঘাতে ৪ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

সব মিলিয়ে এক মাস বয়স পর্যন্ত চারা উৎপাদনের পর তাদের এক তৃতীয়াংশ লাভ থাকে বলে জানান নার্সারী মালিক আব্দুল হামিদ।

কৃষকরা আরও জানান, বৃষ্টি হলে চারার দাম কমে যায়। গত বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় তারা ভাল দাম পেয়েছেন। রোববার থেকে বগুড়ায় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিটি মরিচের চারা (এক মাস বয়সের ) ৮০ পয়সা থেকে ৬০ পয়সায় নেমে এসেছে। আবহাওয়া ভাল না থাকলে চারা পঁচে যাবার সম্ভাবনা থাকে। তাই নার্সারী মালিকরা বৃষ্টি আতংকে ভুগছেন।

-এমএ/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft