For English Version
শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম বেড়িয়ে আসুন

উন্মুক্ত হলো দালাল বাজার জমিদার বাড়ি

Published : Sunday, 30 August, 2020 at 2:52 PM Count : 291

মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলা শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৩শ বছরের পুরানো দালাল বাজার জমিদার বাড়িটি সংস্কারের পর দর্শণার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ৭০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শেষে দর্শণার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। 

সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের প্রচেষ্টায় ও লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের অক্লান্ত পরিশ্রমে জমিদার বাড়ির চারপাশে রাস্তা নির্মাণ, পুকুর ভরাট, মাঝখানের পুকুরের চারপাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপনসহ শিশুদের বিনোদন সামগ্রী বসানো হয়েছে।

দীর্ঘ বছর থেকে বিধ্বস্ত প্রায় ত্রিতল প্রাসাদ, সুড়ঙ্গপথ আর ঐতিহ্যবাহী খাজনা আদায়ের কাছারি ঘরটিও দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। এই বাড়িটি সংস্কার করে একটি পর্যটন স্পট হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্য গ্রহণ করার দাবী দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয়রা প্রশাসনের নিকট করে এলেও কোন ফল পায়নি এলাকাবাসী। 

সাড়ে ৭ একর জমির ওপর তৈরি জমিদার বাড়ির ভেতরে ৪টি পুকুর, ৭টি ভবন ও একটি বিশাল বাগান রয়েছে। চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো সুন্দর এই জমিদার বাড়ির সামনে ১৬ একর জমির ওপর রয়েছে খোয়াসাগর দিঘি। সুন্দর সাজানো গোছানো বাড়িটি দেখলে জমিদারের নান্দনিক রুচির পরিচয় পাওয়া যায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, সরকারি উদ্বোগে প্রত্নত্বত্ত বিভাগ অথবা পর্যটন মন্ত্রণালয়ে যেকোন বিভাগের মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। লক্ষ্মীপুর জেলাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে ঘুরে ফিরে দেখার জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণের সঙ্গে এই জমিদার বাড়ির সম্পর্ক রয়েছে। ধারণা করা হয়, জমিদার লক্ষ্মী নারায়ণের নামানুসারে প্রথমে লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণ করা হয়। তবে শুরু থেকেই লক্ষ্মীপুর জেলা ছিল না। এটি প্রথমে একটি গ্রাম ছিল। তারপর ১৮৬০ সালে এটিকে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় উন্নীত করা হয়। এছাড়া, ১৯৮৪ সালে এটিকে লক্ষ্মীপুর জেলা ঘোষণা করা হয়। 

ধারণা করা হয়, রাজা গৌরকিশর রায়ের উত্তরসূরী নরেন্দ্র কিশোর রায় ও তার পরিবার পরিজন ১৮৩০ থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে এই জমিদার বাড়ির ভেতরে দালান কোঠাগুলো নির্মাণ করেন। 
১৯৪৬ সালে দালাল বাজারের জমিদার নবীন কিশোর রায় ও নরেন্দ্র কিশোর রায় প্রায় ৩৬ একর সম্পত্তি রেখে ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সালে সরকার জমিদার প্রথা বিলুপ্ত করায় সরকারি হিসেবে এ সম্পত্তি পরিণত হয়। এরপর ধীরে ধীরে একটি প্রভাবশালী চক্র জমিদার বাড়িটি অবৈধ ভাবে দখল করে নেয়ার চেষ্টা করে। 

২০১৫ সালে দালাল বাজার জমিদারবাড়ি ও খোয়াসাগর দিঘি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। কিন্তু স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট করলে উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। পরে গত বছর ২৯ অগাস্ট হাইকোটের রিট নিস্পত্তি হয়। রায় আসে সরকারের পক্ষে। রায় পাওয়ার পর বর্তমান জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জমিদার বাড়ির সরকারি সম্পদ উদ্ধার করে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু করেন।

এদিকে, প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ২০১৮ সালের ০৪ জানুয়ারি দালাল বাজার জমিদার বাড়ি সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে ঐতিহাসিক নিদর্শন বিবেচনা করে দালাল বাজার জমিদার বাড়িকে সংরক্ষণযোগ্য ভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

শরিফ উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, লিজাসহ বেশ কয়েকজন দর্শণার্থী জানান, এই জমিদার বাড়িকে খুব সুন্দর করা হয়েছে, আমরা খুব খুশি।

গেল বছরের ২৬ নভেম্বর প্রাচীন এ জমিদার বাড়ি পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।

তিনি বলেন, 'ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত জমিদারদের প্রাচীন এ বাড়িটি দীর্ঘদিন বেদখল ছিলো। বর্তমানে এটি সরকারের প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের আওতায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। যা পর্যটকদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি ভাবে এ প্রাচীন বাড়িটিতে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রাচীন নিদর্শণগুলোর সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে আরও উন্নয়ন কাজ করা হবে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, এত দিন কেবল নামেই দর্শণীয় তালিকায় ছিল এ জমিদার বাড়িটি। এবার মানুষের কাছে উপভোগ করার মত ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ পেয়ে উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। বাড়ির জঙ্গলগুলো পরিস্কার করা হয়েছে। চলাচলের সুবিধার জন্য ৪/৫টি ছোট-বড় রাস্তা করা হয়েছে। অনেকগুলো ডাস্টবিন দেয়া হয়েছে। পর্যটকদের বসার জন্য কয়েকটি গোল ঘর স্থাপন করা হয়েছে। মোটামুটি একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দর্শণার্থীদের জন্য একটি সুন্দর বিনোদন পর্যটন স্পট খুলে দেয়া হয়েছে। দূর দূরান্তের দর্শণার্থী ও পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক ভাবে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে জমিদার বাড়িকে এমন ভাবে সাজাবো যা লক্ষ্মীপুর জেলাবাসীর কাছে আজীবন দর্শণীয় স্থান হয়ে থাকবে।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর কুচক্রীদের হাত থেকে এই স্থাপনা উদ্ধার হয়েছে আদালতের রায়ের মাধ্যমে। এরই মধ্যে শত শত লোকজন স্থাপনাটি দেখতে প্রতিদিনই এখানে আসছেন। জেলার এই ঐতিহ্যকে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় করতে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

-আরআই/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft