For English Version
বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম মতামত

একজন জ্যাক স্যার ও খণ্ডস্মৃতি

Published : Tuesday, 11 August, 2020 at 9:16 PM Count : 546
মশিউর রহমান মিলন

প্রফেসর শফিউল আলম তরফদার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক। আমরা যাকে 'জ্যাক স্যার' নামে ডাকতাম।

চতুর্থ বর্ষে তিনি আমাদের কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়াতেন। বিভাগের কঠিন বিষয়গুলোর মধ্যে কোয়ান্টাম মেকানিক্স ছিল অন্যতম। তিনি ক্লাস নিতেন কম, পড়াতেন কম, বুঝাতেন কম, গল্প করতেন বেশি। গল্পের ফাঁকেফাঁকে যতোটুকু বুঝাতেন আমাদের বুঝার পরিধিটাও ঠিক ততোটুকুই ছিল। হাসি ঠাট্টার আড়ালে কঠিন বিষয়টাকে তিনি সহজভাবে উপস্থাপন করার কৌশল জানতেন।

২.

জ্যাক স্যারকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আবেগটা বরাবরই বেশি ছিল। অবশ্য কারনও আছে। তিনি প্রায় সব শিক্ষার্থীদের নাম জানতেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শত শত শিক্ষার্থীর নাম মনে রাখার আগ্রহ সব শিক্ষকদের থাকে না। উদার মানসিকতা লালন করতেন বলে আমাদের সবার জন্য তাঁর ঘরের দ্বার উন্মুক্ত ছিল। 

বিভাগের যেকোন সমস্যা, সম্ভাবনা ও অব্যবস্থাপনার কথা সবার আগে তিনি শুনতেন। আমাদের যৌক্তিক দাবীগুলো একাডেমিক সভায় তুলে ধরতেন। ছাত্রবান্ধব হতে গিয়ে মাঝেমধ্যে সহকর্মীদের  বিরাগভাজনও হতেন।

আমরা যারা পরিবার পরিজন ছেড়ে হলে থাকতাম এক রকম অভিভাবকহীনতায় ভুগতাম। ক্লাসের বাইরে তিনি ছিলেন আমাদের স্থানীয় অভিভাবকতুল্য।

তিনি আমাদের ব্যক্তিগত সুখ, দু:খের কথা শুনতেন। বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন। যেকোন সংকট উত্তরণে সহযোগিতা করতেন সবার আগে।

৩.

স্যারের সাথে আমার সম্পর্কটা ছিল একেবারে আত্মার।

এ বিষয়টা টের পাই চতুর্থ বর্ষের শেষের দিকে।
বিভাগের কিংবদন্তি শিক্ষক, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ইমেরিটাস প্রফেসর ড. জামাল নজরুল ইসলাম স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিক উপলক্ষে 'জামাল নজরুল ইসলাম স্মারক গ্রন্থ' প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদনায়।

এ উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনও হয়।

স্যার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকটা স্মারক গ্রন্থের কপি নিয়ে। অল্প সময়ে সীমিত সংখ্যক কপি বের করেছিলেন জানতাম। আমন্ত্রিত অতিথি ও স্মারক সংখ্যায় যারা লিখেছেন তাদের সৌজন্য সংখ্যা দেয়ার জন্য।

তারপরও আবদার করলাম, স্যার বেঁচে গেলে একটা কপি দেবেন। পড়ার ইচ্ছে ছিল।

কিছুক্ষণ পর তিনি আমাকে খুঁজছেন।

কাছে এসে বললেন, ধর! এটা আমার কপি ছিল। যত্নে রাখিস।

৪.

বিভাগের বারান্দায় হাঁটছি। ঝুম বৃষ্টি। আশেপাশে কেউ নেই। শব্দ করে কবিতার বুলি আওড়াচ্ছি ।

পেছনে সিঁড়ি দিয়ে এসে কেউ একজন জোরে পিঠ চাপড়ে দিলেন!

চোখ ফেরাতেই দেখি স্যার!

ভড়কে গেলাম কিছুটা। প্রেমের কবিতা পড়ছিলাম।
স্যারও সেদিন দুষ্টামির মুডে ছিলেন।

বললেন, কী সব ছাইপাঁশ  কবিতা লিখস? একটা বই বের করার সাহস পাস না!
ফেসবুকে তো শুধু মেয়েদের সাথে কাপল ছবি আপলোড দিয়ে সাহস দেখাস!

অথচ তিনি জানতেন না তাঁর আকস্মিক প্রস্থানে তাঁকে নিয়েই কিছু লেখার দুঃসাহসটা একদিন দেখাবো!

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft