For English Version
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
হোম সারাদেশ

বন্যার পানিতে জেলেদের মাছ শিকারের ধুম

Published : Sunday, 9 August, 2020 at 1:34 PM Count : 126

উত্তরবঙ্গের মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁর আত্রাই উপজেলা। এই উপজেলার নদী-নালা, খাল-বিল ও ফসলের মাঠে থৈ থৈ করছে অথৈ পানিতে। যে দিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি।  এবার তৃতীয়বারের বন্যায় আত্রাই উপজেলার ৩ শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে ভরি বর্ষণ ও আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙন এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্রতিটি মাঠ প্লাবিত হয়ে গেছে। এসব খাল-বিলে এখন মাছ শিকারে ব্যস্ত রয়েছেন এলাকার মৎস্যজীবীরা। তারা বিভিন্ন ব্রিজ, কালভার্ট ও স্রোতের মুখে খড়াজালসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে দিন রাত মাছ শিকার করছেন। আর মাছ বিক্রি করে স্বাচ্ছন্দে চলছে তাদের পরিবার।

জানা যায়, আত্রাই উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ১৯টি মৎস্যজীবী সমিতির আওতায় প্রায় ৬ হাজার মৎস্যজীবী রয়েছেন। যারা মাছ শিকার করে তাদের পরিবারের ব্যয় ভার বহন করেন। শুষ্ক মৌসুমে খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় এসব জেলে পরিবারে নেমে আসে হতাশা। বছরের বেশ কয়েক মাস নদী নালাতে পানি না থাকায় তারা মাছ শিকার করতে পারেন না। ফলে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তাদের অন্য পেশায় আত্মনিয়োগ করতে হয়। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এবারে নদী-নালা, খাল-বিলে আগাম পানি আসায় এবং সর্বত্র বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় অধিক হারে তারা মাছ শিকার করতে পারছেন। বিশেষ করে খড়াজাল দিয়ে মাছ শিকার সর্বত্র চোখে পড়ার মত। যেসব জায়গায় লোকজন খড়াজাল কোন দিন দেখেনি সেখানেও এবার স্থাপন করা হয়েছে খড়াজাল। 

উপজেলার খনজোর গ্রামের জেলে যুগল চন্দ্র হাওলদার বলেন, 'অন্যান্য বার আমরা এত অধিক হারে খড়াজাল পাততে পারতাম না। এবারে বন্যার পানি বেশি হওয়ায় খুব দূরে যেতে হচ্ছে না। বাড়ির কাছেই খড়াজাল পেতেছি। মাছ যা হচ্ছে তা বিক্রি করে ভাল ভাবে সংসারের খরচ মিটছে।'





পারকাসুন্দা গ্রামের এরশাদ আলী বলেন, 'আমাদের এলাকাতে এবার অনেক খড়াজাল দিয়ে জেলেরা মাছ শিকার করছেন। বিশেষ করে খনজোর ও পারকাসুন্দার মাঝখানে আত্রাই-পোরাখালী রাস্তার পাশে বেশ কয়েকটি খড়াজাল পাতা হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে এসব জালে মাছ শিকার দেখতে এলাকার অনেক নারী পুরুষ সেখানে ভীড় জমায়। ওই স্থান এখন অনেকটা বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে।'

উপজেলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ভূষণ চন্দ্র হাওলদার বলেন, 'বর্ষা মৌসুমে মৎস্যজীবীরা যদিও মাছ শিকার করে তাদের পরিবারের ব্যয় ভার বহন করছেন। তাবে শুষ্ক মৌসুমে তাদের সহায়তা করা প্রয়োজন।

জেলা মৎস কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, 'এবারের বন্যায় জেলায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ভারি বর্ষণ ও ঢলের পানিতে আত্রাই নদীসহ উপজেলার প্রতিটি মাঠে থৈ থৈ করছে অথৈ পানি। আর এ পানিতে জেলেদের মাছ শিকারের যেন ধুম পড়েছে। জেলেরা যেন রেণু পোনা শিকার করতে না পারে সে জন্য প্রতিটি এলাকায় আমাদের মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।'

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft