For English Version
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
হোম সারাদেশ

কালাইয়ে পানিবন্দি ৩শ পরিবার

Published : Thursday, 6 August, 2020 at 3:38 PM Count : 285
অবজারভার সংবাদদাতা

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ৩শ পরিবার বৃষ্টির পানিতে বন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই  চলাচলের সড়ক ও গ্রাম দুটোই ডুবে যায়। এর ফলে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে প্রায় ৩শ পরিবার।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামের বৃষ্টির পানি পার্শ্ববর্তী ক্ষেতলাল উপজেলার সীমানা দিয়ে অপসারিত হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। কিন্তু ক্ষেতলাল সীমান্তে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিত ভাবে এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করার পর থেকে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রাম এবং যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। ডুবে আছে বেশকিছু বাড়ি-ঘরও। এছাড়া সারা বছর ঘর গৃহস্থালীর অপসারণ করা পানি প্রবাহের নর্দমাগুলোও ডুবে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ডুবে থাকার কারণে একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পশ্চিম কুজাইল সালাফিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষাদানে ঘটছে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে পথচারীরা চলাচল করতে পারেন না।

দীর্ঘ সময় পানিবন্দি হয়ে থাকার ফলে ওইসব পরিবারের সদস্যরা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রজাতীর গাছও মারা যাচ্ছে। সড়ক ডুবে থাকার ফলে কৃষকদের উৎপাদিত ধান, আলু ও অন্যান্য কৃষি পণ্যও হাট-বাজারে নিয়ে যেতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গ্রামবাসীরা উপজেলার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়েও কোন সমাধান মেলেনি। ফলে প্রায় দুই মাস ধরে জলমগ্ন অবস্থায় বসবাস করছেন গ্রাম দুটোর প্রায় ৩শ পরিবারের সদস্যরা।

পশ্চিম কুজাইল সালাফিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তাজমহল হোসাইন বলেন, 'পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে গ্রামের সড়ক ও মাদ্রাসা জলাবদ্ধ হয়ে আছে। বর্ষার পানিতে পুরো গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে প্রায় দুই মাস ধরে। এতে করে গ্রাম দুটোর প্রায় ৩শ পরিবারের মানুষ চলাচল করতে পারছে না।'

পল্লী প্রাণি চিকিৎসক নবীর উদ্দিন বলেন, 'বর্ষার পানি প্রবাহের পথ ভরাট করে পার্শ্ববর্তী ক্ষেতলাল উপজেলা সীমান্তে জনৈক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করার ফলে আমরা দুই গ্রামের মানুষ জলবদ্ধ হয়ে পড়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুরাহার জন্য দরবার বসিয়েও কোন লাভ হয়নি।'

জাহিদুল ইসলাম, কোহিনুর বেগম, পারুল, সালাম ও খালেকসহ কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, আগে যে জমি দিয়ে দুই গ্রামের বর্ষার পানি নিষ্কাশন হতো, সেই জমি ভরাট করার ফলেই তাদের এই ভোগান্তি। বর্ষার পানিতে গ্রামের সড়কসহ তাদের বাড়ি-ঘরও ডুবে আছে।





এ অবস্থায় প্রশাসনের ওপর মহলের হস্তক্ষেপে বিষয়টি দ্রুত সুরাহার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, 'গ্রামবাসীদের কষ্টের কথা ভেবে পানি নিষ্কাশনের বিষয় নিয়ে কয়েক দফা চেষ্টা করে আমি ব্যর্থ হয়েছি। বিশেষ করে ওই গ্রাম দুটো কালাই উপজেলার হলেও পানি নিষ্কাশনের পথটি ক্ষেতলাল পৌরসভা সীমানার মধ্যে। আমি ক্ষেতলাল পৌরসভা মেয়র সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি সহযোগীতা না করায় বিষয়টি এখনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।'

কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন বলেন, 'যেহেতু ক্ষেতলাল উপজেলা দিয়ে ওই গ্রাম দুটোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আছে। ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

-টিআইটিএল/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft