For English Version
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
হোম সারাদেশ

ঈদের কথা ভুলে গেছে ঢালচরের বাসিন্দারা

Published : Friday, 31 July, 2020 at 3:30 PM Count : 73
অবজারভার সংবাদদাতা

ভোলার চরফ্যাশনের মূল ভূ-খন্ড, শহর আর গ্রামে এখন ঈদের আনন্দ বইতে শুরু করলেও দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচরের চিত্র যেন ভিন্ন। এখানে কখন নদী ভাঙে, আর কখন সবকিছু গোটাতে হয় এই চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচরের বাসিন্দারা।

এখানকার মানুষের যেন ঈদের আনন্দ নেই।  প্রতিদিনের মত পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেয়ার যুদ্ধ তাদের। অনেকে সন্তানদের কিনে দিতে পারেনি নতুন জামা-কাপড়। ঈদের দিনও হয়তো তাদের ভালো খাবারের পরিবর্তে খেতে হবে ডাল-ভাত। জীবন আগে বাঁচাতে হবে সেই লড়াইয়ে ব্যস্ত সবাই।

সারাদেশে ঈদের আমেজ লাগলেও নদী ভাঙ্গণ কবলিত দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচরের ১৭ হাজার পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ। গত দুই বছরে নদীর অব্যাহত ভাঙ্গণে বসত-ভিটে হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা এখন নিজেদের একটু মাথা গোঁজার ঠাই খুঁজতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদের অধিকাংশের ভাগ্যে এখনও জোটেনি ঈদের নতুন পোশাক।

তবে জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ভাঙ্গণ কবলিত মানুষের মাঝে ঈদের আগেই সহযোগিতার হাত বাড়ানো হবে।

ভাঙ্গণ কবলিত এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুঃখের কাহিনী। 

জসিম উদ্দিন মাঝি। পেশায় জেলে। স্ত্রী নাজমা ও দুই সন্তানসহ হাজিপুর গ্রামের সাইফুল হাজির বাড়ির আঙ্গীনায় ঝুপড়ি করে আশ্রয় নিয়েছেন। ক’দিন আগেই গোয়ালপুরের তার ঘরটি মেঘনায় বিলীন হয়ে যায়।

আবেগ জড়িত কন্ঠে জসিম উদ্দিন মাঝি বলেন, বসতভিটা মেঘনার প্যাটে (পেটে)। আংগো (আমাদের) আবার কিসের ঈদ আনন্দ? প্যাটে খাওন না থাইক্যাও যদি বাড়ি ঘর থাকতো তাও ভাল ঠেকতো। এহন বাড়িঘর সব নদীতে। আমরা আছি মাইনসের বাইত্তে (মানুষের বাড়িতে)।

এছাড়া, স্কুল শিক্ষার্থী শিফাত, ফাহিমা ও জিলহজদের মতো প্রায় অর্ধশত শিশুর ভাগ্যেও এবার জোটেনি ঈদের নতুন পোশাক। তারাও তাদের পরিবারের অন্য সদস্যের সঙ্গে ঘরবাড়ি সারাতে ব্যস্ত। ঈদের আনন্দ তাদের মনেও নাড়া দিচ্ছে না। 

মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এ প্রচীন দ্বীপটির শত শত মানুষ ঘরভিটা হারিয়ে এখন নিঃস্ব। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। বহু পরিবার এখনও নদীর উপকূলে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। উপার্জনের জন্য সহায়-সম্বল হারিয়ে সেখানকার মানুষ এখন দিশেহারা। তাদের কষ্ট কেউ দেখছে না। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত দেড় মাস ধরে নদী ভাঙ্গণের কবলে বসতবাড়ি হারিয়েছে অন্তত ৮/৯শ পরিবার। সঙ্গে নদীতে চলে গেছে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও বিস্তর ফসলি জমি। বর্তমানে নিজেদের বাড়িঘর সরাতেই এখন ব্যস্ত এই এলাকার মানুষ। আবার অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিচ্ছেন। 





তাই আসন্ন ঈদ-উল-আযহার আনন্দ তাদের মনে আর কোন দাগ কাটছে না। ঈদের দিনের কথা বলতেই এভাবে ক্ষোভ আর দুঃখের কথা জানালেন গৃহবধু সেলিনা (৩৫)। 

তিনি বলেন, '১২ গন্ডা জমি ছিলো, পুকুর ছিলো, হাস-মুরগী আর গরু-ছাগল ছিলো। এখন আর কিছুই নেই। নদীতে ৬ ভাঙ্গা দিয়েছে, সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব। আমাদের আবার ঈদ আনন্দ কিসের? নদী তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এখন কোথায় আশ্রয় নেব সেই চিন্তায় আছি।'

সেলিনা বলেন, 'সরকারের দপ্তর থেকে ঈদ উপলক্ষে ঈদ বস্ত্র বিতরণ হলেও আমরা পাইনি। এই যে ঈদ আসছে, চারদিকে হাসি আনন্দ আর উৎসব। কিন্তু আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা কেউ শোনেনা।

-এসএফ/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft