For English Version
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

ঘরে বসেই নৃত্য চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন শিল্পীরা

Published : Wednesday, 29 July, 2020 at 1:41 PM Count : 579
রুপম আচার্য্য

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নৃত্যশিল্পীদের জীবনে এসেছে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান না থাকায় আয় নেই একেবারেই।

নৃত্যশিল্পীরা বাসায় বসে অনলাইনে টুকটাক চালিয়ে যাচ্ছেন সংগীত শিক্ষা। তবে নেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদানের কোন সুযোগ। করোনাকালে উপজেলার অনেক শিল্পীরা নিজ নিজ ঘরে নৃত্য চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। বসে নেই প্রশিক্ষকরাও। শিক্ষা উপকরণ বানিয়ে ফেসবুক বা ইউটিউবে দিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক শিল্পীরা নৃত্যের ভিডিও করে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করছেন। করোনার এই প্রকোপ এমন সময়ে আঘাত হেনেছে, যখন বাঙালিদের জন্য অনেকগুলো বড় উৎসব পর পর অপেক্ষায় ছিলো। যেমন- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন, পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন, ঈদ, কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীসহ আরও বিভিন্ন বড় অনুষ্ঠান। যার সবই বন্ধ রয়েছে করোনার কারণে। নেই বিবাহের গায়ে হলুদের জমজমাট পারিবারিক নাচ-গানের মতো অনুষ্ঠান।

প্রতিটি সেক্টরের মতো নৃত্যশিল্পীদেরও অনেক বড় ক্ষতি হচ্ছে। উপজেলায় অনেক নৃত্য প্রশিক্ষক আছেন, যারা করোনার কারণে তাদের স্কুল ও অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন।

দেখা গেছে, অনেক নৃত্য শিক্ষক স্কুলে ও বাসায় নৃত্য শিখিয়ে যে সম্মানী পান তা দিয়ে সংসার চালান। কিন্তু করোনার কারণে তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অনেকে কয়েক মাস ধরে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া, বাসা ভাড়া দিচ্ছেন ঘরে বসে থেকে।

করোনার এমন পরিস্থিতিতে কেমন চলছে নৃত্য প্রশিক্ষকদের জীবন? বর্তমানে নৃত্যর স্কুল বন্ধ থাকায় বাসায় কি করছেন নৃত্যশিল্পীরা? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে জানতে কথা হয় কিছু নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষদের সঙ্গে। তারা অবজারভার অনলাইনকে জানিয়েছেন তাদের কথা।

শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের পরিচালক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক দ্বীপ দত্ত আকাশ বলেন, 'বর্তমানে এমনিতে অনেক অনলাইন নৃত্য প্রতিযোগিতায় ভারত ও বাংলাদেশের বিচারক হিসেবে কাজ করছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে লাইভ এ আমন্ত্রণে আলাপ করছি। আর সবচেয়ে বেশি মিস করছি আমার প্রিয় শিক্ষার্থীদের, সহকর্মীদের। আসলে সারাদিন কাজ করে সময় যায়। কিন্তু বর্তমানে ঘর বন্দি, তাই সময় যেন কাটে না। তবুও প্রার্থনা করি যেন এই যুদ্ধ থেকে মুক্তি পাবো খুব তাড়াতাড়ি এটাই বিশ্বাস রাখি। এ বছর তো অনেক অনুষ্ঠান ছিল মুজিববর্ষ, ২৬ মার্চ, পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী, নজরুল জন্মজয়ন্তী, ঈদ অনুষ্ঠান আরও অনেক অনুষ্ঠান তা হলো না। তবে অবস্থা ভালো হলে যে আবার অনুষ্ঠান করতে পারবো তা ঠিক বলতে পারছি না কারণ বর্তমানে সবাই খুব আতঙ্কে আছে।'

তিনি আরও বলেন, 'শিল্পীরা না যত টাকা অর্জন করছে তার চেয়ে বেশি অর্জন করেছে মানুষের ভালোবাসা ও সন্মান। বর্তমানে শিল্পীদের অবস্থা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ যারা এই শিল্প জগৎকে পেশা হিসেবে নিয়েছে তারা এখন অনেক সংকটে। শিল্পীদের সমস্যা একজন শিল্প মন ছাড়া কেউ বুঝবে না। অনেকেই আছে বাসা ভাড়া, প্রতিষ্ঠান ভাড়া সব দিতে হচ্ছে, তার মধ্যে সংসার খরচ কিন্তু তাদের আয়ের পথ এখন বন্ধ। আর কত দিন? ধীরে ধীরে হয়তো সব কিছু স্বাভাবিক হবে। কিন্তু সংগীত, নৃত্য বা অন্যান্য চর্চা কতজনেই বা এগিয়ে আসবে। তাই আবার শিল্পীজগৎ শুরু হতে আসলে অনেক সময় লাগবে।'

ব্যাচেলার অফ ডেন্টাল সার্জারীতে অধ্যয়নরত নৃত্যশিল্পী প্রাপ্তি লাবনী তৃষা বলেন, 'জাতীয় এই বিপর্যয়ে এই মুহূর্তে নাচ নিয়ে কিছু ভাবছি না। তবে রবীন্দ্রজয়ন্তীতে আমরা সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাসায় থেকে অনলাইনে ও ইউটিউবে নাচের ভিডিও আপলোড করেছি। আশা করছি- আগামী সময়ে আরও ভালো ভালো নৃত্যর ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড দিতে পারবো।'

তিনি আরও বলেন, 'পেশা হিসেবে চিকিৎসা সেবা বেছে নিয়েছি। চিকিৎসার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানের নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে পরিচিত হতে চাই। জানতে চাই, নাচের সঙ্গে জড়িয়ে তাদের জীবন কাহিনী ও তাদের বিভিন্ন অর্জনের কথা। আহরণ করতে চাই নতুন নাচের শিক্ষা।'

মাস্টার্স পড়ুয়া নৃত্যশিল্পী অনিন্দ্রিতা দাশ গুপ্ত প্রীমা বলেন, 'রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তীতে ঘরে বসেই কিছু করার চেষ্টা করেছি। ঘরে বসে আরও নতুন কিছু করার ইচ্ছে আছে। গুরুদের কাছে আরও ভালো প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং আমার ছাত্রীদের আরও ভালো কিছু দেওয়া।'

অনার্স পড়ুয়া নৃত্যশিল্পী লিপি রায় বলেন, 'করোনার সময়ে ঘরে বসে নাচ নিয়ে অনেক কিছুই ভাবি। কিভাবে নতুন ভাবে নাচ তোলা যায়। নিজে নিজে নাচ তুলে করলে কেমন হয়। পুরাতন নাচগুলোও করি যেন ভুলে না যাই। এগুলো করতে করতেই নাচ নিয়ে লকডাউনের সময় পার হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার যাপিত জীবনের সঙ্গে নাচ একটা বিশেষ অংশ জুড়েই আছে। প্রতিটি মানুষেরই কিছু স্বপ্ন বা লক্ষ্য থাকে। নাচ নিয়ে কিছু একটা করা ও আমার স্বপ্ন এবং লক্ষ্যই বলতে পারেন। তাই সাধনার মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণ ও লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অবশ্যই করবো। তাছাড়া অনেক কবি লেখক বলে থাকেন যে জীবনের প্রথম প্রেম কখনওই ভোলা যায় না। আমার কাছে নাচই হচ্ছে আমার প্রথম প্রেম। তাই সব সময় নাচের সঙ্গে থাকব। কারণ মন তো জড়িয়ে আছে নাচের সঙ্গেই।'

অনার্স পড়ুয়া নৃত্যশিল্পী অপরাজিতা সেন গুপ্তা বলেন, 'ঘরে থেকে নাচের কভার ভিডিও করছেন। সেই ভিডিওগুলো সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে শেয়ার করছি। ভবিষ্যতে একজন প্রকৃত দক্ষ নৃত্যশিল্পী হতে চাই। একটা ছোট্ট স্কুল দিতে চাই।'

অনার্স পড়ুয়া নৃত্যশিল্পী প্রজ্ঞা দাশ গুপ্তা বলেন, 'করোনার সময়কালীন নাচ নিয়েই নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টায় আছি। এখনো কিছু ভাবা হয়নি। তবে নাচ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।'





মনিপুরী নৃত্যশিল্পী কেয়া সিনহা বলেন, 'বর্তমান করোনার সময় নাচ নিয়ে চিন্তা ভাবনা, আসলে নাচ কখনো থেমে থাকেনি। বিভিন্ন অনলাইনে কাজ করছি এবং নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, কি করা যায়। নাচ ছোট বেলা থেকেই করে আসছি। এখনো করছি। ভবিষ্যতে এই মনিপুরী নাচকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।'

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'করোনার অভিঘাতের কারণে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গণ অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নৃত্যাঙ্গণ ও এই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতোই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক প্রশিক্ষকই আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'ইতোমধ্যে সরকারি ভাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমি, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সংস্কৃতিসেবী ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সাধ্যমত সহায়তা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো স্থায়ী সমাধান নয়। এক্ষেত্রে শিল্পী/ প্রশিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে কার্যক্রমগুলো সহজেই চালু রাখা যায়। বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে প্রশিক্ষক/প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন কিছু নয়।'

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft