For English Version
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০
হোম অনলাইন স্পেশাল

শহরের হাল-হকিকত দেখতে ছদ্দবেশে বাইসাইকেলে দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

Published : Sunday, 26 July, 2020 at 11:18 AM Count : 340
রুপম আচার্য্য

এবার সন্ধ্যার পর বাইসাইকেলে চড়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরতলী চষে বেরিয়েছেন দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। উদ্দেশ্য শহরের দোকানপাটগুলোর হাল-হকিকত দেখা, আইন অমান্যকারীর প্রতি আইন প্রয়োগ করা।

সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী বেশীর ভাগ ব্যবসায়ীরা আইন মেনে দোকান বন্ধ করে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু অল্প কিছু সংখ্যক দোকানী আইনকে তোয়াক্কা না করে দোকান খোলা রাখেন রাত অবধি। এদেরকে বাগে আনাও যাচ্ছিলো না, নিয়মিত অভিযানে বের হলেও কোনও না কোন ভাবে অভিযানের খবর পৌঁছে যেত এক এক করে খোলা রাখা দোকানিদের কানে।

ব্যাস.... খানিক সময়ের জন্য দোকানের বাতি বন্ধ আর সাটার নামিয়ে রেখে আশপাশে থেকে অবলোকন করা হয় কোন দিকে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ি। ফলে প্রশাসনের কাছে থাকা গোপন সূত্রের খবর আর অভিযানে বের হয়ে বাস্তবতার মধ্যে যেন বেশ ফারাক থেকে যাচ্ছিলো। আরও ব্যাপক নজরদারির মাধ্যমে বের হয়ে এলো, অভিযানিক দল অন্য কোন দিকে চলে যাওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েই পুনরায় খুলে যায় দোকান আবারও শুরু হয় স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করে নিয়ম ভঙ্গ করেই ব্যবসা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টার পর ব্যবসা জমে ভালো। সমজাতীয় অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে অনিয়মকারী ব্যবসায়ী নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন, তৈরী হয় জটলার। এগুলোর মধ্যে থাকে না মাস্ক ব্যবহারের বালাই। করোনার এই সময়ে, মানুষকে ঘরে রাখার অন্যতম নিয়ামক হলো হাট-বাজার জনশুণ্য রাখা আর তা করতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নিয়মানুযায়ী বন্ধ করার বিকল্প নেই।

যদিও জরুরী সেবার দোকানগুলো রয়েছে যথারীতি খোলা, তবে সেগুলোতেও উদাসীনতা লক্ষণীয়। একাধিক ফার্মেসীর সামনে দাঁড়ানো ঔষধপ্রত্যাশী মানুষগুলোর বেশীর ভাগেরই মুখে নেই মাস্ক, কারওবা পকেটে, কারওবা থুননিতে। ফার্মাসিস্টও যেন ভুলতে বসেছেন নিয়ম, নিজেদের মাস্ক ব্যবহারেও যেন প্রয়োজনীয়তা নেই। সে জন্য জরিমানাও গুনতে হয়েছে অনেকের। মুনাফালোভের কারণে নিজের ও অন্যদের জীবনকে বিপদাপন্ন করে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা এই ইঁদুর, বিড়াল খেলায় শামিল হয়েছিলেন। তবে আর শেষ রক্ষা হয়নি।

সবকিছু অনুধাবন করে উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি গ্রহণ করেছে ভিন্ন পদক্ষেপ। সরকারি গাড়ির বদলে উপজেলার দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেপে বসলেন বাইসাইকেলে। ছদ্দবেশে শহর ও শহরতলীর সন্ধ্যা ৭টার পরের চালচিত্র অবলোকন করলেন নিজ চোখে। টানা ৩ দিন ধরে প্রতিনিয়ত আইনভঙ্গকারী দোকানীদের চিহ্নিত করে ঠিক একই কায়দায় বাইসাইকেলে চেপে শনিবার অতি সংঙ্গোপনে হানা দেন অননুমোদিত সময়ে খোলা রাখা দোকানগুলোতো।

এক এক করে দুটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটের ২৫ মামলায় ১৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড গুনতে হলো স্বাস্থ্যবিধি লংঘনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে। শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোড, হবিগঞ্জ রোড হয়ে শহরতলীর সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

মূলত, শর্ত অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের পরেও দোকান খোলা রাখা, ক্রেতা ও বিক্রেতা পর্যায়ে এবং পাবলিক প্লেসে মাস্ক পরিধান না করা ইত্যাদি অপরাধে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এবং দণ্ডবিধিতে এসব মামলা ও অর্থদণ্ড করা হয়।

আর এ অভিয়ান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় হলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুর রহমান মামুন।





সঙ্গে ছিলেন ইউএইচএফপিও সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী। আর শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের দুটি পৃথক দল।

তবে শুধু জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ ছিলো না ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী দলটি। কাউন্সিলিং এর প্রতিও নজর ছিলো তাদের। তরুণদের মধ্যে যারা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেনি তাদের দাঁড় করিয়ে করোনার অভিঘাতে ভয়াভয়তা সম্পর্কেও সজাগ করেছেন তারা। আর এতেই জনশুণ্য হতে থাকে শহর ও শহরতলী।

এ সম্পর্কে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সবাইকে আবশ্যিক ভাবে মাস্ক ব্যবহার ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাইকেল চালিয়ে যেকোন সরু পথে শহরতলী ও গ্রামীণ অঞ্চলে যাওয়া যায়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এই মুহুর্তে আমাদের লক্ষ্য মানুষকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করা। সেটা করতে গিয়ে আমাদেরকে যখন যা, যেভাবে করতে হয় সেটাই করার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছি। অনেক রাস্তা আছে সরু বা যানবাহন চলার মতো নয়। সেগুলোতে আমাদের সাইকেল নিয়েই যেতে হচ্ছে। এতে আমাদের কোন কুন্ঠাবোধ নেই। আমাদের এ রকম অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft