For English Version
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০
হোম সারাদেশ

বাগেরহাটে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত ৪৪ হাজার পশু

Published : Thursday, 16 July, 2020 at 8:58 PM Count : 65

আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে বাগেরহাটে প্রস্তুত রয়েছে ৪৪ হাজার পশু। করোনায় দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারীরা। প্রতি বছরের মত এবারও রাতদিন খামারে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

চড়া দামের গোখাদ্য খাওয়ানোর ফলে পশু মোটাতাজা হয়েছে। জেলায় চাহিদার তুলনায় এবার পশুর পরিমানও বেশি। তারপরও হাসি নেই খামারীদের মুখে। করোনা পরিস্থিতিতে নিজেদের  লালন ও পালন করা পশুর উপযুক্ত দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারীরা। এসব গরু পালনকারীরা পশুর উপযুক্ত দাম পেতে ভারতীয় সিমান্ত পেরিয়ে অবৈধ ভাবে যাতে গরু  আসতে না পারে সেদিকে সরকারের নজরদারীর দাবী খামারীদের।

জেলা পশু খামারী সমিতির সভাপতি মো. ফিরোজুল ইসলাম জানান,কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে করোনায় খামারীরা যাতে উপযুক্ত দাম পায় এবং ক্রেতা বিক্রেতারা নিরাপদে থেকে বেচাকেনা করতে পারে দেদিকে লক্ষ্য রেখে অনলাইলে পশু কেনা-বেচার জন্য বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ‘কোরবানীর হাট’ নামে একটি এ্যপস চালু করেছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে দুই দফায় জেলার ৬০ জন পশু খামারীকে অনলাইনে পশু কেনা-বেচার বিষয় হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই অনলাইন এ্যাপস ও প্রশিক্ষনের আয়োজন করে। জেলার ৯টি উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পশু খামারীদেও প্রশিক্ষণ ও প্রচারনা চালানো হচ্ছে।

জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের হিসেবে এ জেলায় ছোট-বড় ৭ হাজার খামার রয়েছে। এ সব খামারে আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে বাগেরহাট জেলায় ৪৩ হাজার ৮‘শ ২৫টি গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু ৩০ হাজার ৭‘শ ২৩, মহিষ ১ হাজার ১৩, ছাগল ১০ হাজার ৭‘শ ৮৬, ভেড়া ১ হাজার ১‘শ ৫৩ এবং ১৫০টি অন্যান্য পশু রয়েছে। তবে বাস্তবিক অর্থে কোরবানি উপলক্ষে প্রস্তুত পশুর পরিমান অর্ধলক্ষের কম নয়।জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায়ও যাবে বাগেরহাটের গরু। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এবারের কোরবানির ঈদের বাজার তেমন ভাল যাবেনা বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও খামারীরা।কোরবানির হাটে গবাদি পশুর দাম কম থাকলে খামারীদের সাথে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পরবে। করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির আগ মুহুর্তের হাটের জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকেই গবাদি পশু বিক্রির পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান।

কোরবানি উপলক্ষে গবাদি পশু পালনকারীরা বলছেন, মূলত কোরবানি উপলক্ষেই গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন পশু মোটাতাজা করি।কোরবানির ৪-৫ মাস আগে থেকে কোরবানি পর্যন্ত কয়েক দফা পশু খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পায়।সে অনুযায়ী কোরবানির সময় পশুর দামও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এবছর করোনা পরিস্থিতিতে পশু খাদ্য ও আনুসঙ্গিক সকলকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে পশুর হাট তেমন বসছে না, আবার কিছু হাট বসলেও ক্রেতার দেখা নেই। এই পরিস্থিতিতে কোরবানির আগ মুহুর্তেও গবাদী পশুর তেমন দাম হবে না। এই পরিস্থিতি থাকলে এ বছর  লোকসানে পরতে হবে আমাদের।

বাগেরহাট সদর উপজেলার দেপাড়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আজিজুল হাওলাদার বলেন, প্রতিবছর গাভী ও ষাড় মিলিয়ে ২০টির উপরে গরু পালন করি। এবছর কোরবানিতে বিক্রির জন্য ৪টি বড় গরু রয়েছে। যার স্বাভাবিক মূল্য প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। কিন্তু এখনও তেমন কোন ক্রেতা আসছেন না। দু একজন মৌসুমী ব্যবসায়ী আসলেও গরুর দাম অর্ধেক বলছে। আসলে এই গরু পালনের জন্য যে পরিমান টাকা খরচ করেছি, তাও উঠবে না।করোনা পরিস্থিতি এরকম থাকলে এবং গরুর দাম না বাড়লে এবার মাঠে মারা যাব। শুধু আজিজুল হাওলাদার নয় এরকম আশঙ্কা বাগেরহাটের বেশিরভাগ খামারীর।

দেপাড়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আলমগীর মোল্লা বলেন, প্রতি বছর কোরবানিতে ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকার আইড়া (গরু) বিক্রি করি।কোরবানির দুই মাস আগে থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা খামার থেকে গরু নিয়ে যায়। কিন্তু এবছর খামারে ১৫টি গরু থাকলেও, তেমন কোন ক্রেতা নেই।ব্যবসায়ীরাও গরু নিতে সাহস পাচ্ছেন না। স্বাভাবিক দাম পেলে ৩০ লক্ষ টাকার উপরে বিক্রি হবে এবার।কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হবে বলা যাচ্ছে না।

মৌসুমী ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, সারা বছরই আমরা গরু কেনা বেচা করে থাকি। কোরবানির আগের কিছুদিন সব থেকে বেশি ব্যবসা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে গত তিন মাস ধরে কোন হাট বসতে পারছে না।আর কোরবানির আগ মুহুর্তেও হাট বসার সম্ভাবনা নেই। এই অবস্থায় বাজার খুবই মন্দা থাকবে। কোন ভাবেই ভাল ব্যবসা আশা করা যায় না। তবে সরকারি ভাবে যদি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে গবাদি পশুর হাটের ব্যবস্থা করে তাহলে ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ী সবাই উপকৃত হবে।

কচুয়া উপজেলার গরু খামারী হানিফ শেখ বলেণ, বাইরে তেমন কোন কাজ করতে পারি না। প্রতিবছর ২-৩টা গরু পালন করি। ৪-৫ লাখ টাকা বিক্রি করি। খরচ করে, যে লাভ হয়, এই দিয়ে সারা বছর চলি।করোনার কারণে এবারের অবস্থা তেমন ভাল না। কি হবে আল্লাহ ই ভাল জানেন।পশুর ন্যায্য মূল্য পেতে  ভারতীয়  সিমান্ত পেরিয়ে অবৈধ ভাবে যাতে গরু  আসতে না পারে সেদিকে সরকারের নজরদারীর দাবী তার।

বাগেরহাট জেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির বাজার কিছুটা মন্দা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বাজার ভাল আছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্থ্যাৎ যেসব জায়গায় বেশি পশু বিক্রি হয়, সেসব এলাকায় সামাজিক দূরত্ব মেনে পশুর হাট বসানোর চিন্তা রয়েছে। অনলাইনেও পশু বিক্রির জন্য খামারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।আমরাও চেষ্টা করছি যেসব খামারির বেশি গরু রয়েছে, তাদের সাথে ব্যবসায়ী ও বড় ক্রেতাদের সংযোগ করিয়ে দেওয়ার।পশুর খামারিদের সাথে আমরা সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি। কোরবানি উপলক্ষে অতিরিক্ত লাভের জন্য খামারীরা তাদের পশুকে ইনজেকন বা অন্যকোন ক্ষতিকারক খাবার না খাওয়ায় সে জন্য আমাদের মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির আগ মুহুর্তের হাটের জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকেই গবাদি পশু বিক্রির জন্য পরামর্শ দিয়েছি চাষীদের। কিছু কিছু খামারী তাদের পশু বিক্রিও শুরু করেছে। তারা ভাল দামও পাচ্ছে। সব মিলিয়ে খামারিদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা জানান তিনি।





এসএটি/এসআর


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft