For English Version
বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২০
হোম সারাদেশ

কলাপাড়ার সেই অধ্যক্ষ’র দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড়!

Published : Saturday, 11 July, 2020 at 6:15 PM Count : 323
অবজারভার সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারী মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহীদুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা রকম অভিযোগের পরও অধ্যক্ষের পদে বহাল আছেন তিঁনি।  অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক শিক্ষামন্ত্রী, দুদক চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও কিছুই হয়নি তাঁর। 

সবশেষ স্থানীয় সাংসদ অধ্যক্ষ মো. মহিব্বুর রহমান শিক্ষা সচিব ও মহাপরিচালক, মাউশি’র কাছে সরকারী এ প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ নিয়োগপূর্বক উপাধ্যক্ষ শহিদুল আলমের দূর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ডিওলেটার দেয়ার পর শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মাউশি’র বরিশাল অঞ্চলের পরিচালককে তদন্তের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।  উপাধ্যক্ষের দুর্নীতি ও অনিয়মের সব অভিযোগ যেন এখন হিমাগারে।  উল্টো অভিযোগকারী শিক্ষকরা আছেন তাঁর রোষানলে। 

মাউশি’র বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক বললেন করোনা পরিস্থিতির কারণে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।  পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

ওই কলেজের শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জেলা পরিষদ থেকে সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল আলম (ইনডেক্স নং-০১৪৭৯৪) কলেজের শৌচাগার, ছাত্রাবাস, শিক্ষক মেস, মসজিদ সংস্কার, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের কোয়ার্টার নির্মান সহ নানা প্রকল্পের নামে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ভুয়া সিপিসি তৈরী করে কোন কাজ না করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করেন। ইসমাইল তালুকদার অডিটোরিয়াম নির্মানে বরাদ্দকৃত ২০ লক্ষ টাকার কাজ ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে নিম্নমানের একটি টিনশেড বিল্ডিং তৈরী করেন যা ‘আইলা’ ঝড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। 

৯ বছর কলেজের পুকুরের মাছ বিক্রি করে ১০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা কলেজ ক্যাশে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেন। কলেজের গেট ও শিক্ষক মেস সংলগ্ন ১২টি বড় সাইজের মেহগনি, চাম্বল ও রেইনট্রি গাছ কেটে নিজের বাসার দরজা, চৌকাঠ ও আসবাবপত্র তৈরি করেন যার মূল্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা। রাজ্জাক খান ছাত্র সংসদ টিন শেড বিল্ডিং খোলা ডাকে ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে কলেজ ক্যাশে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেন। ২ বছরে ২৫০ জন করে কলেজ শিক্ষার্থীর শিক্ষা সফর ও বনভোজনের চাঁদা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা শিক্ষা সফরে না গিয়ে আত্মসাত করেন। ব্যবহারিক পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা তুলে ২ বছরে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন। 

পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের সময় শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য উপহার দেয়ার নামে ৩ বছরে ১০০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। কারিগরি প্রশিক্ষনের জন্য ৩টি ট্রেডে ১৫ হাজার টাকা করে ৬ মাসে ৯০ হাজার টাকা ভাড়া তুলে কলেজ ক্যাশে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেন। 

কলেজ জাতীয়করনের জন্য তালিকাভুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩ কিস্তিতে ২৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা তুলে আত্মসাত করেন। কলেজ মাঠে ডানিডা প্রকল্পের পানির ট্যাংকি নির্মানের সময় ঠিকাদারের কাছ থেকে মালামাল রাখার ভাড়া বাবদ ৫০ হাজার টাকা ভাড়া তুলে আত্মসাত করেন। নিজ হেফাজতে কলেজের প্রতিটি পরীক্ষার ফরম পূরন ও ভর্তি কার্যক্রমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। কলেজের ৩য় তলা সাইক্লোন শেল্টার ৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে কলেজ ক্যাশে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেন। বাউবি’র এইচএসসি প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোর্স ফি আদায় এবং পরীক্ষায় নকল করার সুযোগ দেয়ার নামে প্রবেশপত্র বিতরন কালে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া কলেজ ভবনের ২য় তলায় ১টি রুম তাঁর বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহার করতেন তিঁনি, যেখান থেকে একাধিক মদের বোতলসহ নানা রকম নেশা জাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায় মর্মে শিক্ষকরা তাঁদের অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় সাংসদের ডিও লেটার সূত্রে জানা যায়, উপাধ্যক্ষ শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে কলেজ জামে মসজিদ ও বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার সংস্কারে জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত সহ তাঁর বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনে তাঁর যোগ্যতা ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানটিতে বিসিএস ক্যাডারের অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ধরে রাখার সুপারিশ সহ অনুরোধ  করেন সাংসদ আলহাজ্ব মো. মহিব্বুর রহমান।

এর আগে করোনা পরিস্থিতির লকডাউনের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ থাকা কালীন সময়ে সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস কলেজ’র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল আলম ৪০ হাজার টাকার আপ্যায়ন বিল দাখিল করে আলোচনায় আসেন। তাঁর দাবী ৪০ হাজার টাকার ওই বিল ফেব্রুয়ারী থেকে মে ২০২০ চার মাসের। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিল, টেলিফোন বিল, বিশিষ্ট জনদের আপ্যায়ন খরচ রয়েছে। যা কলেজ পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদিত। 

এবিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গনমাধ্যম কর্মীদের তিঁনি আইসটি এ্যাক্টে মামলা করার হুমকী দেন তার ফেসবুক আইডিতে ষ্ট্যাটাস দিয়ে।





২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর’র বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ মেজবাহ উদ্দীনকে সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়। যা মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহীদুল আলম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।  একটি মহল আমাকে হয়রানী করার জন্য এসব অভিযোগ করেছে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষের কাছ থেকে উপাধ্যক্ষ শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য নির্দেশনা পেয়েছি। করোনা পরিস্থিতির কারনে তা শুরু করা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

টিএইচ/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft