For English Version
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

দুর্যোগ মোকাবেলা আর খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন আশার আলো ব্রি ধান-৮৯

Published : Tuesday, 7 July, 2020 at 12:37 PM Count : 177

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৮৯ নিয়ে মেহেরপুরের চাষীদের মাঝে নতুন আগ্রহ দেখা দিয়েছে। 

এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বেশি ফলনশীল এ জাত সদ্য সমাপ্ত বোরো মৌসুমে ফলন আর ঝড়-বৃষ্টি মোকাবেলার মধ্য দিয়ে চাষীদের আস্থা অর্জন করেছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণে এ জাতটি নতুন আশার আলো বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তারা।

চাষী ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত বোরো মৌসূমে গাংনী উপজেলার শিশিরপাড়া মাঠে বীজ উৎপাদন প্লটে ব্রি ধান-৮৯ আবাদ করে স্বদেশ সীড নামের একটি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতি বিঘায় ৩০ মণের উপরে ফলন হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। সার্বিক দিক বিবেচনায় আগামী বেরো মৌসূমে এ জাতটি চাষীদের কাছে নতুন আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা যাবে বলে মনে করছেন বীজ উৎপাদনকারী কৃষকরা।

ব্রি ধান-৮৯ আবাদকারী কৃষক শিশিরপাড়া গ্রামের জিনারুল ইসলাম দিপু বলেন, ধান গাছের উচ্চতা ব্রি ধান-২৮ এর চেয়ে কিছুটা বেশি। তবুও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মতো দুর্যোগে ধান গাছ হেলে পড়েনি। শীষ থেকেও ধান ঝরেনি। এ বিষয়টি চাষীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধান গাছ দাঁড়িয়ে থাকায় কাটা মাড়াই ব্যয় কমেছে। গো খাদ্যের জন্য বিচালি তৈরী সম্ভব। মাঝারি
চিকন এ ধানের চাল খেতে সুস্বাদু ও ভাত ঝরঝরে। চাষাবাদ পদ্ধতি ও খরচ স্বাভাবিক।

অপরদিকে, ব্রি ধান-২৯ এর চেয়ে এক সপ্তাহ আগাম কর্তন করা যায়। ফলন অন্যান্য জাতের চেয়ে অনেক বেশি তাই এ জাতের ধান আবাদ খুবই লাভজনক।

একই গ্রামের কৃষক তানজিরুল ইসলাম বলেন, কৃষক জিনারুল ইসলামের ক্ষেতে ব্রি ধান-৮৯ জাতের ধান দেখতে চাষীরা ভিড় করতেন। ফলন যেমনি বেশি তেমনি ক্ষেত দেখতেও মন জুড়ানো। আগামী বোরোতে আমরা এ জাতটি আবাদ করবো।

এদিকে, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও এ জাতটি নিয়ে আশাবাদী। ধান আবাদে চাষীদের বেশি লাভ ও দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণের বিষয়টি মাথায় রেখে মাঠ পর্যায়ে এ জাতের ধান আবাদ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।





গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ব্রি ধান-৮৯ আবাদের সার্বিক বিষয় আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। এ জাতটি খুবই দুর্যোগ সহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল। যা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি উত্তরণ ও ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা মেটাতে সময়োপযোগী একটি জাত। ১৯৯৪ সালে ব্রি উদ্ভাবিত ব্রি ধান-২৮ ও ব্রি ধান-২৯ এর চেয়ে এ জাতটি বেশি জনপ্রিয় হবে বলে আশা করছি।

বিগত ৪০ বছরে দেশে ধান আবাদ ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে কৃষিবীদ কে এম শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ আরও বলেন, চালের চাহিদা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে ব্রি ধান ৮৯ জাতটি আবাদ এখন সময়ের দাবি। ভালো ভাবে আবাদ করতে পারলে হাইব্রিড জাতের কাছাকাছি ফলন দিতে সক্ষম এ জাতটি।

ব্রি সূত্রে জানা গেছে, ২৮.৫% অ্যামাইলোজ সম্মৃদ্ধ এ জাতটি ব্রির জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ব্রি ধান-২৯ এর সঙ্গে সংকরায়ণ করা হয়। ব্রির বিজ্ঞানীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কয়েক বছর ধরে ব্রি গবেষণা মাঠ ও বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মাঠে পরীক্ষা নিরীক্ষা সন্তোষজনক হলে ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে আবাদের জন্য জাতটি চুড়ান্ত অনুমোদন দেয় জাতীয় বীজ বোর্ড।

-এমআরএ/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft