For English Version
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
হোম সারাদেশ

‘লাম্পি’ ভাইরাসে খামারীর ক্ষতি প্রায় আড়াই লাখ টাকা

Published : Tuesday, 7 July, 2020 at 11:48 AM Count : 210
অবজারভার সংবাদদাতা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বেশ কিছু এলাকায় লাম্পি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে। 

সোমবার এ ভাইরাসে সাহেবজোত ডাঙ্গীবস্তি এলাকার তমিরুল হক নামের এক খামারীর প্রায় আড়াই লাখ টাকার গাভী মারা গেছে।

খামারী তমিরুল হক জানান, এই খামার দিয়ে চলে আমার সংসার। দুটি গরুর মধ্যে একটি মারা গেল। ১৫ দিন হলো প্রসব করেছে। কয়েকদিন আগে গরুটি বিক্রয়ের কথা ভেবেছিলাম। গরুর দালালরা ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম করেছিল। দাম কম হওয়ায় বিক্রি না করলেও সেটাই মারা গেল বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন খামারী তমিরুল হক।

এছাড়া, আরও কয়েক জায়গায় এ ভাইরাসের সংক্রমণে গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাহেবজোত, শালবাহান, দর্জিপাড়া, কানকাটা, শারিয়ালসহ বিভিন্ন গ্রামে সহস্রাধিক গরু ভাইরাসজনিত লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে করে গবাদিপশু নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এর চিকিৎসা নিয়ে। আগে এ রকম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এমনটি বলতে পারছেন না কৃষকরা। পরে আক্রান্ত গরু চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রোগটি শনাক্ত করেন।

কানকাটা গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম দেওয়ান এ রোগের লক্ষণ বর্ণনা করে জানান, তার ৩টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমে গরুর জ্বর আসে। জ্বরের সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে লালা আসে। শরীরের চামড়ায় গুটি বা পি- আকৃতির ক্ষত ধারণ করে। পুরো শরীরে গুটি গুটি বসন্তের মতো দেখা যায়। আর ক্ষতগুলো ক্রমশ মুখ এবং পাসহ শরীরের নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। গরু খেতেও পারে না, হাটতেও পারে না।

দর্জিপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন ও রইচ মিয়া জানান, তাদের ৩টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। পল্লী চিকিৎসক ডেকে এনে ভ্যাকসিন দিয়েছেন। ওষুধ কিনে গরুকে খাইয়েছেন। এতে অনেকের ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচও হয়েছে।





শালবাহান ইউনিয়নের আরেক কৃষক নাজমুল হক জানান এই রকম লক্ষণের কথা।

এদিকে, এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও বাজারে ঔষুধ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। পেলেও সে ঔষুধের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দাম নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী মাহবুবুর রহমান জানান, রোগটি লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাস নামে পরিচিত। এটি চর্মরোগ। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে তেমন একটা গরু মারা যায় না। তবে এন্টিবায়েটিক ঔষুধ নিয়ম না জেনে খাওয়ালে ক্ষতি করতে পারে। যদিও এ রোগের প্রতিষেধক এখনো তৈরি হয়নি। তবে চিকিৎসকের নির্দেশনা মতো আক্রান্ত গরু চিকিৎসা নিলে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। আর লাম্পি রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ জন্য আক্রান্ত গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে উপজেলায় দুই হাজারেরও বেশি ভ্যাক্সিন সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আমরা ক্যাম্পেইন করছি। সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করছি। 

-এসকেডি/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft