For English Version
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
হোম সারাদেশ

আত্রাইয়ে নদী ভাঙ্গণের কবলে আটগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়

Published : Thursday, 2 July, 2020 at 11:06 AM Count : 501
অবজারভার সংবাদদাতা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সবচেয়ে পুরাতন আটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গণের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের কিছু অংশ চলে গেছে নদীগর্ভে।

সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা অতি বৃষ্টির কারণে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের পেছন দিক এবং খেলার মাঠের কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্ষায় বিদ্যালয়টি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। 

অনগ্রসর শিশুদের শিক্ষাদানের লক্ষে ১৭৫৭ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। নদী ও বিলে আবৃত আটগ্রাম মানুষের শিক্ষার উন্নয়ন ঘটলেও পিছু ছাড়েনি তাদের দুর্যোগ এবং রাস্তা-ঘাটবিহীন চলাফেরাসহ নদী ভাঙ্গণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সঙ্গে প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কালিকাপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম আটগ্রাম। গ্রামের পূর্ব দিকে ছোট যমুনা নদী, দক্ষিণে আত্রাই নদী এবং পশ্চিমে রয়েছে বিরাট আকারের বিল। বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী এবং গ্রামের মানুষের এপাড়া-ওপাড়ায় যাতায়াতে একমাত্র ভরসা নৌকা। নদীর পাড়েই রয়েছে আটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে ৬ কক্ষের দুটি ভবন রয়েছে। ভবনের পেছনেই রয়েছে নদী। সেখানেও রয়েছে বেশ কিছু ভাঙ্গণের চিহ্ন যা বিদ্যালয়ের কিছুটা জমি ইতিমধ্যে গ্রাস করেছে। 

আর বিদ্যালয়ের দক্ষিণে রয়েছে বড় একটি ভাঙ্গণ। মাঠের অনেকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে এই ভাঙ্গণ। ভাঙ্গণটি ক্রমান্বয়ে বিদ্যালয় ভবনের দিকে এগিয়ে আসছে। বর্তমানে ভাঙ্গণ ভবনের কাছাকাছি আসায় বিদ্যালয় বাঁচানো নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষক ও এলাকার মানুষ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুকুল উদ্দিন বলেন, ১ একর ২৪ শতক জমির ওপর ১৭৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক আছেন ৬ জন, আর এমএলএসএস একজন। বিদ্যালয়টি এলাকার মধ্যে যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের ৮/১০ শতক জমির অংশ নদীতে চলে গেছে। পানির স্রোত এতো বেশি যে ভাঙ্গণ ক্রমেই বেড়ে এগিয়ে আসছে বিদ্যালয় ভবনের দিকে। ভাঙ্গণের কারণে বর্তমানে ভবনটি ধসে পড়ার আশংকার মুখে রয়েছে।





স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা দুই বার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুদানে গত ৭/৮ বছর আগে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলাম। কিন্ত নদীর স্রোতের কারণে তা বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে ব্রিজ ও রাস্তাঘাট সংস্কারের দাবি জানাই।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের পূর্ব দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদী অনেকটা জমি গ্রাস করেছে। আমরা নদীর পাড়ে বনজ গাছ রোপণ করে ভাঙ্গণ রোধের চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারিনি। বিদ্যালয়ের উত্তর ও পূর্ব পাশে নদীর পাড়
প্যালাসাইট দিয়ে বাঁধ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির আগামী সভায় বিদ্যালয় ভাঙ্গণের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

-টিকেএস/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft