For English Version
রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২০
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

গাংনীতে গম ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি

Published : Wednesday, 1 July, 2020 at 1:18 PM Count : 111

চলতি মৌসুমে মেহেরপুরের গাংনীতে সরকারি ভাবে গম ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। খোলা বাজারে গমের দাম বেশি পাওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে গম দেননি কৃষক।

চলতি বছর জেলায় গম ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো দুই হাজার ৮৮২ মেট্রিক টন। অপরদিকে ধান ও চাল সংগ্রহ ব্যাহত হবার আশংকা করা হচ্ছে। সময় মতো শস্য ক্রয় না করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলায় গম ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো এক হাজার ৮৪৭ টন। কিন্তু গাংনী উপজেলা ক্রয় কমিটি ৮৪৭ টন গম ক্রয় করে বাকি এক হাজার টন গম ক্রয়ের টাকা ফেরত দিয়েছে। খোলা বাজারে দর বেশি পাওয়ায় লটারীতে নির্বাচিত কৃষকরা গম সরবরাহ করেনি সরকারি খাদ্যগুদামে। গম মাড়াই করার পর পরই যদি সরকারি ভাবে গম ক্রয় করতো তাহলে খাদ্যগুদামে গম দিতে পারতো বলে জানান গম চাষীরা।

উপজেলার শহড়াবাড়িয়ার শেখ শাফি জানান, এ বছর গমের ফলন ভালো হয়েছে। মাঠ থেকে গম সংগ্রহের পর ঘরে রেখেও সরকারি ভাবে গম ক্রয়ের কোন উদ্যোগ ছিলো না। তাই গমের বাজার দর ভালো পেয়ে বাজারে বিক্রি করেছি। 

একই কথা জানান বামন্দীর রফিকুল ইসলাম।

এদিকে, বোরো ধান ও চাল সংগ্রহে নেমেছে উপজেলা ক্রয় কমিটি। ইতোমধ্যে ধান চাষীদের তালিকা থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারীর মাধ্যমে বোরো ধান সরবরাহকারী চাষীদের নামের তালিকা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতি কৃষক সরকারি মূল্যে সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান বিক্রয় করতে পারবেন। প্রতি মণ ধানের মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪০ টাকা। 

খোলা বাজারে বোরো ধানের দাম বেশি পাওয়ার কারণে সরকারি খাদ্যগুদামে কৃষক ধান দেবে কি না সে বিষয়েও আশংকা রয়েছে। তবে ক্রয়ের সময়সীমা থাকার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের ধান চাষী লাল্টু মিয়া জানান, কিছু শর্ত মেনে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে হয়। যে শর্তগুলো অধিকাংশ কৃষকরা পূরণ করতে পারে না বলে গুদামে ধান দিতে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই খাদ্যগুদামে ধান দিতে আগ্রহী নন কৃষকরা।

একই কথা জানালেন ধান চাষী মুকুল হোসেন। তিনি আরও জানান, বোরো ধান বিক্রয় প্রায় শেষ আবারও নতুন ধান ওঠার সময় হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গাংনীতে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান ক্রয় শুরু হয়নি। তাহলে আমরা কতো দিন ধান ঘরে রাখবো?





উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্বাস আলী জানান, সরকারি ভাবে চালের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে একই চালের মূল্য ৪১ টাকা। আমার জন্য বরাদ্দকৃত চাল যদি সরকারি গুদামে সরবরাহ করি তাহলে আমি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হব। যদি চাল সরবরাহ না করি তাহলে চালের মূল্যের জামানত দেওয়া ২% টাকা অর্থাৎ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যদি মূল্য বৃদ্ধি করে তাহলে মিল মালিকরা চাল সরবরাহ করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হামিদ বিশ্বাস জানান, সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে থেকে লটারীর মাধ্যমে গম ও ধান ক্রয় করা হচ্ছে। ধান ও চাল সংগ্রহের সময়সীমা রয়েছে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে চালের দাম খোলা বাজারে বেশি আছে। নতুন ধান উঠে যদি চালের দাম কমে তাহলে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো। তবে মিলার যদি চাল সরবরাহ না করে তাহলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

জেলা প্রশাসক আতাউল গনি জানান, গাংনী উপজেলায় অভ্যন্তরীণ ক্রয় কমিটি গম ক্রয় করতে পারেনি তাই এক হাজার মেট্রিক টন গমের ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে ধান সংগ্রহ অভিযান শতভাগ অর্জন হবে। চালের বাজার দর হিসেব করে যদি চালকল মালিকরা চাল সরবরাহ না করে তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

-এমআরএ/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft