For English Version
শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২০
হোম সারাদেশ

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

Published : Monday, 29 June, 2020 at 7:37 PM Count : 90

কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান,  ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর, সদর, নাগেশ্বরী উপজেলাসহ ৯ উপজেলার ৩৫ ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি জীবন যাপন করছে। গত গত ৫ দিন ধরে পানিবন্দি এসব মানুষের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারন করছে। 

গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। চারনভুমি তলিয়ে যাওয়া গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষজন।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় ১৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উলিপুরের বেগমগন্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, বেগমগন্জ ইউনিয়নের পুরোটাই বন্যা কবলিত। প্রায় ১৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি বলে জানান তিনি।  
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নে ১৫ হাজার মানুষ গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি জীবন যাপন করছে। এসব মানুষের হাতে কোন কাজ না থাকায় জরুরীভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া প্রয়োজন বলে এই ইউপি চেয়ারম্যান। এখন পর্যন্ত সরকারীভাবে কোন চাল বা শুকনো খাবার বরাদ্দ পাননি বলেও জানান তিনি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের বদলীপাড়া এলাকার ছকিনা বেওয়া, সুরুজ্জামান, শাহাজাহান জানান, গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছি। হাতে কাজ নাই, ঘরে খাবারও নাই। এ অবস্থা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন পাড় করছি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ময়নুদ্দিন ভোলা জানান, তার ওয়ার্ডের পানিবন্দি মানুষেরা অবর্ণনিয় কষ্টে থাকলেও এখন পর্যন্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদেরকে কোন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়নি। 

উলিপুরের সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি বলে জানান চেযারম্যান সিদ্দিক মন্ডল।

সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দই খাওয়ার চরের কালু মিয়া, সিরাজুল হক, রমজান আলী জানান, ঘরের ভিতর পানি উঠেছে। বউ বাচ্চা নিয়ে কষ্টে আছি। নৌকা ছাড়া চলার উপায় নাই। পানি আরো বাড়লে বাড়িতে থাকার উপায় থাকবে না। আশেপাশে কোন শুকনো জায়গাও নেই।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোঃ রেজাউল করিম জানান, বন্যা কবলিত এসব মানুষের জন্য সরকারীভাবে ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৩৬ লাখ ৬৮ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চেয়ারম্যানদের মাঝে বিতরণ শুরু হয়েছে।





কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজার রহমান প্রধান জানান, জেলয় ৫ হাজার ৬শ ৫৮ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ, শাক সবজি, পাটসহ অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা হবে।

এদিকে রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ জানান, আগামী মাসের ৪/৫ তারিখ পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ধরলা ও তিস্তার পানিও বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এসময় নদ-নদীর ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে এসব তথ্য জানান তিনি।

এটি/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft