For English Version
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২০
হোম স্বাস্থ্য

কোরবানির পশুর হাট থেকে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা, চিকিৎসকদের উদ্বেগ

Published : Sunday, 28 June, 2020 at 11:18 PM Count : 57
অবজারভার প্রতিবেদক

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি শুরু থেকে ধাপে ধাপে বেড়েছে।  প্রথম লকডাউনের পর ছুটির আমেজে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার হিরিক, ত্রাণ বিতরণের প্রতিযোগীতা, পোশাক কারখানা খোলার ঘোষণা দিয়ে গ্রাম থেকে শ্রমিক নিয়ে আসা আবার তাদেরকে বাড়িতে পাঠনো, ঈদ যাত্রা, এরকম কয়েকটি ধাপে পর্যায়ক্রমে দেশে বেড়েছে করোনা সংক্রমণের হার।

শুরুতে দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ছিলো দিনে ৩ থেকে ১০ জনের মধ্যে। এরপর প্রতিটি ধাপে তা বেড়ে বর্তমানে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজারের ঘরে অবস্থান করছে। রোজার ঈদের পর থেকে বড় কোনো লোকসমাগমের ঘটনা না ঘটায় একই হারে বেড়ে চলছে সংক্রমণের সংখ্যা।তবে এবার কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংক্রমণের হার আরেক দফা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

সাধারণ মানুষতো বটেই, কোরবানির জন্য পশুর হাট বসানোর সরকারি এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

রোববার সংগঠনের ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

নেতারা বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব রক্ষার ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং মানিত সত্য হলো, যেসব দেশ এই পদক্ষেপ ঠিকভাবে কার্যকর করতে পেরেছে, সেসব দেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতা পেয়েছে। এই দেশগুলোতে সব উপাসনালয়সহ যেখানেই ঘনিষ্ঠ লোকসমাগম হয় সেখানেই সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে মাত্র কয়েক দিন আগে কাফিউ উঠিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তির নামাজ পড়তে নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এবার হজে শুধুমাত্র সৌদি আরবে কমবেশি এক হাজার জনকে হজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মতো দেশে বিশেষ করে শহর-নগরে পশুর হাট বসলে কোনোভাবেই শারীরিক দূরত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশুর হাট বসলে করোনা সংক্রমণের হারের সঙ্গে মৃত্যু হার ও গরিব মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।





অর্থনীতিবিদদের গবেষণা বলছে, আগের গরিবের সঙ্গে করোনায় আরও প্রায় পৌন দুই কোটি গরিব লোক যোগ হবে, অর্থাৎ ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে।

তারা আরো বলেন, করোনা মহামারির এই সংকটকালে পশু কোরবানি পরিহার করে দুস্থদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা ও অর্থ সহায়তা করার বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কেউ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাড়িতে পোষা পশু অথবা অনলাইনে কিংবা সরাসরি গৃহস্থের কাছে থেকে পশু কিনে কোরবানি দেওয়ার ব্যবস্থা করলে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারি/বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হতে পারছে না, অনেকেই বিনাচিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে বিনা অক্সিজেনে রোগীর করুন মৃত্যু ঘটছে। এরূপ পরিস্থিতিতে কাজ হারানো-উপার্জনহীন-গরিব-হতদরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে খাবার ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিয়ে আরও কঠোর ও কার্যকর লকডাউন ব্যবস্থার দরকার। তা না করে সরকার পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ইজারাদারদের পকেট ভারি হবে বটে; কিন্তু করোনার সংক্রমণ মারাত্মক রূপ নেবে ও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হবে। চিকিৎসক সমাজ অবিলম্বে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি করছে।

এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft