For English Version
শনিবার, ৩০ মে, ২০২০
হোম অনলাইন স্পেশাল

স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

Published : Sunday, 26 April, 2020 at 5:43 PM Count : 366
ইকবাল হোসেন

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারণে স্কুল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পড়াশুনা নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ।

সরকারি প্রাইমারি স্কুল, কিন্ডার গার্টেন থেকে শুরু করে মাদ্রাসা, হাই স্কুল, কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কার্যত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হওয়ায় পড়াশুনা নিয়ে চরম উৎকন্ঠায়ও রয়েছেন তারা।

মহামারি করোনার আগ্রাসন ঠেকাতে প্রথম ধাপে ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সাধারণ ছুটি ০৫ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। যদিও শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিভিশনে ডিজিটাল পাঠদানের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

স্কুল কলেজে পড়াশুনা চাপ না থাকায় অধিকংশ ছাত্র-ছাত্রীই অলস সময় কাটাচ্ছে। আর সন্তানদের এমন পড়াশুনা বিমুখ হয়ে উঠা দেখে অভিভাবকরাও চিন্তিত।

উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষাবীদ আব্দুল হান্নান তালুকদার বলেন, সংসদ টিভির মাধ্যমে সরকারের ক্লাস কার্যক্রম খুবই ইতিবাচক। তারপরও স্কুল কলেজ খুললে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের এ ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

উপজেলায় ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬টি কিন্টার গার্ডেন মিলে প্রাথমিক স্তরে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব স্কুল বন্ধ থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশুনাসহ শারিরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুল বন্ধ থাকা অবশ্যই শিশুদের বিকাশ ব্যাহত করে। এ পরিস্থিতিতে মাকে শিশুদের দায়িত্ব নিতে হবে। নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সন্তানকে আগলে রাখতে হবে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, শিশুদের জন্য পরিস্থিতি একটু ভিন্নতর। এদেরকে দিনভর পড়াশুনার চাপ না দিয়ে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মকান্ডে ব্যস্ত রাখতে হবে। অতিরিক্ত চাপ শিশুর মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে। আবার ঘরে থেকে থেকে মোবাইল ফোনে যেন অপ সংস্কৃতির চর্চায় মেতে না উঠে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সাইফ। দ্বিতীয় শ্রেণীতে সে পড়ে। স্কুল ও প্রাইভেট ছুটি থাকায় তাকে পড়াশুনায় বসাতে যথেষ্ট কষ্ট হচ্ছে মা আতিকা বেগেমের। খেলার মাঠ বন্ধ থাকায় অনেকটা বন্দি দশা কাটছে শিশুটির। স্কুল ও মাঠ দুটোই বন্ধ হওয়ে যাওয়ায় মোবইল ফোনে গেমস আর টিভি দেখেই সময় কাটে তার।

আতিকা বেগম বলেন, ভাবলে খুব খারাপ লাগে। শিশুটির মানসিক আর শারীরিক দুই ধরনের বিকাশই বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। সন্তানের শিক্ষা ব্যাহত হলেও চলমান করোনা পরিস্থিতি স্কুল বন্ধ রাখার সরকারের সিদ্ধান্তে দ্বিমত নেই তার।

উপজেলার আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া তালুকদার জানায়, স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। স্কুল খোলা থাকলে টিচাররা হোম ওয়ার্ক দিতো, এগুলো বাসায় পড়া হতো। এখন চাপ না থাকায় বাসায় ঠিকমতো পড়াশুনা হয় না।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল গফুর বলেন, চলমান সঙ্কটে এ অসুবিধাটুকু শিকার করে নেয়াই উত্তম। অবস্থার উন্নতি হলে শীঘ্রই স্কুল খুলে দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের এ ক্ষতি কমিয়ে আনতে অতিরিক্ত ক্লাসসহ প্রয়োজনী সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

করোনা প্রভাবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় রয়েছে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীরা। সারা উপজেলায় এবার ২৫৮ জন এইচএসি ও ১২ জন আলিম পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর কলেজ থেকে ১৯৮ ও খালিয়াজুরী কলেজ হতে ৬০ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।

উপজেলার কৃষ্ণপুর আলিম মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় অংশ নেবে ১২ জন। পহেলা এপ্রিল হতে তাদের পরীক্ষা শুরু হওয়ায় কথা থাকলেও করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাকিল আহমেদের বাবা বাদল মিয়া বলেন, পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা সন্তানের ভালো ফলাফল নিয়ে চিন্তিত। যে প্রস্তুতিটা ছিল তা অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরীক্ষা পেছানোতে সময় বেশি পাওয়া গেলেও ছেলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

সরকারি কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সানিয়া আক্তার জানায়, পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ে আমাদের যে গতি ছিল তা বাধা গ্রস্থ হয়েছে। আর এখন করোনা আতঙ্কে পড়াশুনায় তেমন মন দেয়া যাচ্ছে না।

সরকারী কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েও শেষ হলো না। পহেলা এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ায় কথা ছিল। সব কিছুই বন্ধ রয়েছে। করোনার ভয়াবহতায় এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

শিক্ষার্থীদের কিছু ক্ষতি হলেও আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শীঘ্রই এ অচলাবস্থার অবসান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মাস্টার শহিদুর ইসলাম কিন্ডারগার্টেনের ক্ষুদে শিক্ষার্থী মফসিনের মা প্রভাষক মারিশা নিগার বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় সন্তানের পড়াশুনা হচ্ছে না। তাছাড়া বন্দি দশায়  শিশুদের খুব অসহায় দেখায়। একইসঙ্গে করোনা থেকে সকল শিশুর সুরক্ষাও প্রার্থনা করেন তিনি।





খালিয়াজুরী উপজেলায় একটি অনার্স লেভেলের কলেজসহ দুটি কলেজে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৪ হাজার, ১২ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৫ হাজারের কাছাকাছি এবং ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬টি কিন্ডার গার্ডেন মিলে প্রায় ১৪ হাজার ৫শ শিক্ষার্থী রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

এছাড়া দুটি মাদ্রাসায় রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। আছে ৪টি কওমী মাদ্রাসার আরো ৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

করোনার সংক্রমণ এড়াতে সরকারের এ সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা একমত হলেও এর দীর্ঘসূত্রিতায় চিন্তিত হয়ে পড়ছেন ওনেকেই।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft