For English Version
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০
হোম স্বাস্থ্য

চীন থেকে যেভাবে আসছে অনুমোদনহীন টেস্টিং কিট

Published : Saturday, 25 April, 2020 at 10:12 AM Count : 112

করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র অনলাইনে অর্ডার করে চীন থেকে অনুমোদনহীন নিম্নমানের টেস্টিং কিট সংগ্রহ করছে। আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএলের মাধ্যমে তারা এগুলো দেশে নিয়ে আসছে। করোনা মহামারীর আগে অন্য পেশায় থাকলেও এখন মৌসুমি ব্যবসা হিসেবে কিট সংগ্রহ করে বিক্রি করছে তারা।

এগুলো তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সরবরাহ করছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং র‌্যাব রাজধানী থেকে এমন তিনটি চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে। শুধু কিটই নয়, চক্রগুলো চীন থেকে নকল এন-৯৫ মাস্ক এনেও প্রতারণা করছে।

পুলিশ ও র‌্যাব জানিয়েছে, এ ধরনের আরও কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার হওয়া এসব কিট খুবই নিম্নমানের। চীনের স্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠান মান নিয়ন্ত্রণ না করে এগুলো তৈরি করছে। পরে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে এগুলো বিক্রি করছে। বাংলাদেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা এগুলো অল্প দামে কিনে দেশে আনছে।

এগুলো অনেকটা ডায়াবেটিস টেস্টের কিটের মতো। এই কিটে তিন ফোঁটা রক্ত দিলে পজিটিভ বা নেগেটিভ ফল দেখায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব কিটে ঠিক ফল আসে না। এ কারণে এসব কিট দিয়ে পরীক্ষা করলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ সংলগ্ন শহীদবাগ এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ

এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় চার হাজার করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিট উদ্ধার করে র‌্যাব। অভিযানে আটক ছয়জনকে জেল-জরিমানা করা হয়। অভিযানে কিট ছাড়াও পিপিই, হ্যান্ডগ্লাভস, মাস্কসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়। সরকারি কোনো সংস্থার বাইরে এসব টেস্টিং কিট কারও আমদানি, মজুদ বা বিক্রির সুযোগ নেই।

গত ১৭ এপ্রিল রাজধানীর মগবাজার থেকে এবিসি করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৭৫ পিস কিট উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিষ্ঠানের চার কর্মীকে। তারা হলো আনোয়ার হোসেন, অমিত বসাক, শোয়াইব ও শুভ। এই প্রতিষ্ঠানটি কেমিক্যালের ব্যবসা করে। করোনা পরিস্থিতির সুযোগে তারা অনুমোদন ছাড়াই টেস্টিং কিট ও নকল মাস্কের ব্যবসা শুরু করে।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, কুরিয়ারের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষার কিট দেশে আনছে বেশ কিছু চক্র। অনুমতি ছাড়া এসব কিট আমদানির কোনো সুযোগ নেই। এগুলো বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিক্রি করেছে তারা। এসব কিট আদৌ মানসম্মত কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এগুলো দিয়ে পরীক্ষা করলে ভুল ফল আসতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এ জন্য যারা এগুলো দেশে আনছে এবং যেসব হাসপাতাল এসব কিট সংগ্রহ করছে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

পুলিশের রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম শামীম বলেন, এসব কিট অসাধু ব্যবসায়ীরা চীন থেকে এনেছে। এভাবে কিট আমদানির কোনো সুযোগ নেই। কেউ এগুলো ব্যবহার করতে চাইলে ঔষধ প্রশাসনে আবেদন করতে হবে। এগুলো তারা এনেছে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএলের মাধ্যমে। তাদের কাছে এগুলো আমদানির কোনো কাগজ নেই, ক্রয় রসিদও ছিল না।





তিনি আরও জানান, এই প্রতিষ্ঠান কেমিক্যালের ব্যবসা করত। করোনা পরিস্থিতিতে অধিক লাভ করতে কেমিক্যাল ছেড়ে তারা করোনা শনাক্তকরণ কিট, মাস্ক ও অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যবসা শুরু করে। অনলাইনে তারা এগুলো বিক্রি করার চেষ্টা করছিল। এই চক্রে চারজন মালিক রয়েছে। এর মধ্যে একজন ধরা পড়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এসআর


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft