For English Version
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০
Advance Search
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

দুই সপ্তাহ পরই পাকবে বোরো ধান

Published : Sunday, 19 April, 2020 at 12:54 PM Count : 274

বগুড়ার মাঠে বোরো ধান গাছ থেকে ধানের মিল্ক পুষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। আর দুই সপ্তাহ পরে ধান পাকতে শুরু করবে। কিন্তু বগুড়ায় এবার বোরোর বাম্পার ফলনে ধান কাটা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কৃষকের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

কৃষি মন্ত্রণালয় ধান কাটার যান্ত্রিক মেশিনে প্রণোদনা দেয়ায় সে চিন্তা অনেকখানি দুর হবে এমনটাই আশাবাদ বগুড়ার কৃষি কর্মকর্তাদের।

এছাড়া, যারা ঢাকার গার্মেন্টস কর্মী, রিকশাচালকসহ অন্যান্য শ্রমিকের বিরাট অংশ বগুড়ায়  এসেছে। তারও ঘরে বসে না থেকে নিজের অর্থ উপার্জনের জন্য ধান কাটার কাজে অংশ  নেবে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।

তবে ভর্তুকিতে সরকার ধান কাটার মেশিন কৃষকদের কাছে বিক্রি করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা দিয়ে যে মেশিন ক্রেতারা তার জমি ছাড়াও অন্যে জমির বিঘা প্রতি ধান কাটার জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়নি।

মেশিনে ধান কাটার দাম নির্ধারণ না করলে মেশিন ক্রেতার ইচ্ছামত মেশিন ভাড়া আদায় করলে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

এ বছর বগুড়ায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এই পরিমাণ জমি থেকে উৎপাদন (চাল আকারে) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে অর্থাৎ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।

এবার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবার ৮ লাখ টন চাল উৎপাদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছে।

নতুন বোরো ধান উঠবে আরও দুই সপ্তাহ পর এমনটি জানালেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন।

মাঠে মাঠে সবুজ ধান ক্ষেতে ধান গাছ থেকে ফ্লাওয়ারিং এর পর ধান বেরিয়ে পড়েছে। আর মাত্র ১৪ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ধান পাকবে। তখন বগুড়ার গ্রামে গ্রামে চলবে মাঠে কাস্তে দিয়ে ধান কাটার মহোৎসব। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক সংকট নিয়ে কৃষকের কপালে এখন থেকে চিন্তার ভাঁজ।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের আবুল কালাম আজাদ কৃষকদের ধান কাটা শ্রমিক সংকট নিয়ে শোনালেন আশার কথা। তিনি বলেন, সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কথা চিন্তা করে কম্বাইন্ড হারভেষ্টর (ধান কাট, মাড়াই) মেশিন, ধানের বীজ রোপণের যন্ত্র ও হাত দিয়ে শষ্য কর্তন মেশিন ভর্তুকিতে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত। এসব মেশিন ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষক যেন কম খরচে অতিদ্রুত বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারে।

এ জন্য জেলার ১২টি উপজেলার কৃষকের মধ্যে ২৬টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টর, একটি শষ্যের চারা রোপণ যন্ত্র ও ৪টি হস্ত চালিত ধান কাটার মেশিন বিক্রি করবে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আবু সাঈদ চৌদুরী।

১০ লাখ থেকে ২৮ লাখ টাকা দামের কম্বাইন্ড হারভেষ্টরের অর্ধেক দাম অর্থাৎ ৫০ শতাংশ দেবে সরকার অবশিষ্ট দিতে হবে ক্রেতা কৃষককে। এই মেশিন দিয়ে ধান কাটলে কাটা, মাড়াই, ঝাড়া ও বস্তা বন্দি করা যাবে একসঙ্গে। তাতে কৃষকের সময় যেমন বাঁচবে তেমনি খরচও কম হবে এমনটি জানান জেলার কৃষি কর্মকর্তারা।

বগুড়া জেলায় এখন ৩২টা কম্বাইন্ড হারভেষ্টর মেশিন চলমান আছে। এর সঙ্গে এ বছর আরো ২৬টি মেশিন যোগ হবে। ফলে জমির ধান আরও দ্রুত কাটা সম্ভব হবে।  শ্রমিকের সঙ্গে ঝড় নিয়ে ভয়ে শংকিত আছে কৃষক।

নন্দীগামের কৃষক ফজলুর রহমান জানান, আর ২০ দিন পার হলে তারা ধান কাটায় হাত দিতে পারবে। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কথা ভাবছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বড় হারভেষ্টর মেশিন ঘন্টায় ৩ বিঘা , মাঝারি মেশিন ঘন্টায় দুই বিঘা এবং ছোট মেশিন ঘন্টায় এক বিঘা ধান কাটতে সক্ষম। তাছাড়া অনেক রিকশা, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ ঢাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা এখন বগুড়ায় অবস্থান করছেন।

কর্মহীন বিভিন্ন জেলা থেকে বগুড়ায় আসা শ্রমিক নিজেদের তাগিদে ধান কাটায় অংশ নেবে। তাতে জেলায় ধান কাটা শ্রমিকের সংকট হবে না বলে আশা করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক।

তিনি বলেন, শুধু প্রকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। করোনায় বেকার হয়ে পড়া শ্রমিক যাতে নিরাপদ দূরুত্ব রেখে ধান কাটতে পারে সে ব্যাপারে সকলকে নিশ্চিত করতে হবে।

কাহালুর কৃষক সালেক জানান, যারা ভর্তুকিতে মেশিন কিনবেন তারা অন্য কৃষকদের জমিতে ধান কাটার মেশিনের ঘন্টা মূল্য সরকারকে নির্ধারণ করে দিতে হবে। তা না হলে তারা ইচ্ছা মাফিক দাম নেবে।





কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ধান কাটার মূল্য অবশ্যই হাতে কাটা শ্রমিকদের চেয়ে কম হতে হবে। তা না হলে বিত্তশালী কৃষক হারভেষ্টর অর্ধেক দামে সরকারের সুবিধা ভোগ করলে প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

গত বোরো মৌসুমে হারভেষ্টর মেশিনের মালিকরা বিঘা প্রতি ধান কেটে মাড়াই, ঝাড়া, বস্তাবন্দি করে কৃষকের ঘরে তুলে দিতে খরচ নিয়েছে ১৫০০ টাকা। সাধারণ কৃষক বিঘাতে ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে গত মৌসুমে নিয়েছিল ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

এবার ধান কাটার শ্রমিকের সংকট হবে না বলে আশা কৃষকদের।

-এমএ/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft