For English Version
বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০
হোম সারাদেশ

ঘরের বাইরে মানুষ, মানছে না নিষেধাজ্ঞা

Published : Sunday, 5 April, 2020 at 9:13 PM Count : 64

মহানগরীর পদ্মাপাড় ঘেঁষা দরগাপাড়া সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ঝর্ণা বেগম। নাতি-নাতনি, মেয়েসহ বাড়ির আঙ্গিনা সংলগ্ন রাস্তার পাশের বেদিতে বসেছিলেন। হাসি-গল্পে সময় কাটাচ্ছেন বেশ। তিনি জানালেন, দীর্ঘদিন ঘরে বসেই সময় কাটাচ্ছেন।

তাই অনেকদিন পরে ঘর থেকে বেরিয়ে বাড়ির পাশেই খোলা হাওয়ায় বসেছেন। করোনা সংক্রমণরোধে সতর্কতা অবলম্বন করে চলছেন তিনি ও তার পরিবার। কিন্তু অনেকদিন ঘরবন্দি থাকায় বিকেলে নদীর ধারের খোলা হাওয়া নিচ্ছেন।

ঝর্ণা বেগম রাস্তায় বের হননি। বাড়ির সীমানাতে বসেই পদ্মার খোলা হাওয়ায় শ্বাস নিচ্ছিলেন। তার মত, সুযোগ সবার নেই। ফলে একঘেয়েমি কাটাতে মানুষ ঘর ছেড়ে বের হচ্ছেন রাস্তায়।

গতকাল রবিবার মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় রাস্তায় মানুষের চলাচল। অনেকেই বিনা কারনে বের হয়েছেন রাস্তায়। রাস্তার অলিগলিতে মানুষ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার গলিতে ক্রিকেট খেলার দৃশ্য চোখে পড়েছে।

করোনা সংক্রমণরোধে দেশজুড়ে অঘোষিত লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে সারাদেশের মত রাজশাহীতেও সতর্কতা অবলম্বন করেছে প্রশাসন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে বলা হচ্ছে। মাঠে রয়েছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ।

কিন্তু এতকিছুর পরেও নানা অজুহাতে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন মানুষ। জনগণের স্বার্থে কাঁচাবাজার, ওষধের দোকান ও প্রয়োজনীয় দোকানপাট খোলা রয়েছে। কিন্তু কাঁচাবাজারে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছেনা। ফলে শত শত মানুষ প্রতিদিন কাঁচাবাজারে যত্রতত্রভাবে বাজার করছেন। এতে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

এ নিয়ে মানুষ উদাসীন। গতকাল মহানগরীর কাঁচাবাজার পরিদর্শনকালে এক বিক্রেতা বলেন, যারা করোনা নিয়ে বেশি ভয় করবে, তাদেরকেই করোনা আক্রমণ করবে। ভয় না করলে কিছু হবে না। তার এমন বক্তব্যে কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি।

এদিকে মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়কে রয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টিম। রাস্তায় বিনা কারনে চলাচলকারীদেরকে লঘু সাজা প্রদান করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু প্রধান সড়কের বাইরে মহানগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লার রাস্তায় বিকেলের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে মানুষের মাঝে করোনা সংক্রমণরোধে সচেতনতা কম লক্ষ্য করা গেছে। পাড়া মহল্লায় চলছে আড্ডা। যদিও প্রশাসনের কড়া টহলদারিতে হাটবাজারে অহেতুক মানুষের চলাফেরা কমেছে।

জেলার দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া এলাকার আফছার আলী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমরা হাটে বাজারে বাইর হচ্চুনু, একন তাও হইন্যা।’

অঘোষিত লকডাউনে অসহায় হয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। জেলার প্রতিটি এলাকাতেই সরকারি, বেসরকারি, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগেও চলছে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেছেন, সরকারি বা বেসরকারিভাবে যাঁরা ত্রাণ বিতরণ করছেন, দয়া করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিন। নতুবা সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করুন। করোনা অদৃশ্য শত্রু। আপনি ঘর হতে বের হওয়া মানে করোনার আক্রমণের শিকার হবার আশঙ্কা বেড়ে গেল। ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন। এছাড়াও কারও কোন সহায়তার প্রয়োজন হলে ০১৭১৭৬০৯০৫৩ নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে।





আরএইচএফ/এসআর


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft