For English Version
শনিবার, ৩০ মে, ২০২০
হোম স্বাস্থ্য

‘কেউ পাঁচটা পায়, কেউ একটাও পায় না’

Published : Wednesday, 1 April, 2020 at 4:48 PM Count : 155

বিধবা মরজিনা বেগম। তিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে থাকেন রাজধানীর উত্তরার ৮ নম্বর সেক্টর বস্তিতে। বাসাবাড়িতে কাজ করে কোন মতে জীবন চালান। দেশের এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের মুখে দু'মুঠো ভাত জোগাতে দিশেহারা। সাহায্যের জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন।

একদিন দুই কেজি চাল, আধা কেজি ডাল, লবন ও আধা লিটার তেল পেয়েছিলেন। তারপর থেকে আবার সেই সাহায্যের জন্য ছুটোছুটি।

বুধবার রাজধানীতে ঘুরে দেখা যায়, দেশের এ অবস্থাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। কাজ না পেয়ে দু-তিন দিন অনাহারে থাকার খবরও পাওয়া যাচ্ছে অনেক।

বস্তিতে বসবাস করা মোমেনা বেগমসহ কয়েকজন নারী বলেন, আমরা দিন এনে দিন খাই। একদিন কাজ করতে না পারলেই খাওয়া বন্ধ। এ পর্যন্ত কোন সাহায্য আমরা পাইনি। হামরা (আমরা) স্যারদের বাড়িতে কাজ করি। সেটাও বন্ধ। সবাই গ্রামে চলে গেছে।

সাহায্য পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মোমেনা বলেন, ‘অনেক সময় সাহায্য দিতে আসে কিন্তু লাইন ধরেও সাহায্য পাই না। গতকাল লাইনে দাঁড়িয়ে পাড়াপাড়ি করতে গিয়ে হাতে ব্যথা পেয়েছি কিন্তু চাল পাইনি।’

সাহায্য দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সাহায্য নিতে গেলে সেখানে মারামারি লেগে যায়। কেউ পাঁচটা পায় কেউ একটাও পায় না।’ 

মো. আবুল হাসিব। পেশায় রিকশাচালক। থাকেন রায়ের বাজার বালুর মাঠ বৌ বাজার বস্তিতে। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। রাস্তায় ভাড়া নেই। রয়েছে পুলিশি ঝামেলা। অনুদানের জন্য রিকশা নিয়ে ছুটে চলেছেন। কিন্তু কোন অনুদান কপালে জোটেনি তার। সাহায্য না পেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে সবাইকে। বলেন, নিজেরা পানি খেয়ে থাকলে ও ছোট সন্তানদের কি দিয়ে বুঝাবো বলতে পারেন।

উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কামারপাড়া বস্তিতে থাকা রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামলেই পুলিশ পেটায়, আর বাসায় গেলে বাড়ির মালিক ভাড়া চায়। এ অবস্থায় আমরা কী করব? রাস্তায় বের হলেও ভাড়া পাওয়া যায়না। এদিকে কোন অনুদানও পাচ্ছিনা। রিকশা জমাও বেড়ে যাচ্ছে।

নাছিমা বেগমসহ বেশ কয়েকজন বসে আছেন উত্তরা আজমপুরের রাস্তার পাশে। কাজ করেন দিনমজুরের। আজ তারা কাজের সন্ধানে বসে নেই। বসে রয়েছেন একমুঠো ভাতের জন্য। সাহয্য পেলে বাসায় গিয়ে রান্না করে পরিবার নিয়ে খাবেন। এখন পর্যন্ত কোন চাল, ডাল কিছুই পাননি তারা।





তুরাগের বাউনিয়া এলাকার রিকশাচালক মো. বিজু মিয়া। তিনি বলেন, ‘হামরা (আমরা) রিকশা লিয়া (নিয়ে) রাস্তাত বাড় হবা (বের হতে) পারিনা পুলিশের ভয়ে। বাড়ি গেলে বাড়ির মালিক ভাড়া চায়। গ্যারেজ মালিক রিকশা জমা চায় আমরা এখন কোন দিকে যাব? সরকার কি হামাদের (আমাদের) জন্য কিছু কররা পারে না? আমরা এখন কী করে খাব?’। 

তিনি আরও বলেন, ‘ভাড়া না দিতে পারলে বাড়ির মালিক ঘর থেকে মালামাল বের করে দেয়। ঘরে ছোট সন্তান আছে কি খাওয়ামু কবা পারিন (বলতে পারো ) তোমরা? ইন্টারনেটোত দেখনু (দেখলাম) সিলেটে বাড়ি ভাড়া নেবেনা। সরকার তো হামাদের বাড়ি ভাড়ার জন্য কিছু একটা করতে পারে।’ 

এদিকে, তুরাগের কোন ওয়ার্ডে এখনও সরকারি ভাবে খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি কোন কাউন্সিলর। আদৌ দাঁড়াবে কি না সেটাও জানা নেই কারো। ৫৩ নং ওয়ার্ডের বিত্তবানরা নিজেরাই টাকা তুলে নিম্নবিত্ত মানুষকে নিত্যপণ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন বলে জানা গেছে।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft