For English Version
শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২০
হোম সারাদেশ

ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

এক বছরে উদ্ধার ৭৮ লাশের মধ্যে বেওয়ারিশ ২৯

Published : Friday, 21 February, 2020 at 5:12 PM Count : 179

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনের দক্ষিণ আউটার সিগন্যাল এলাকায় নাসিরাবাদ মেইল ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে ওই যুবক। 

নিহত রফিকুল ইসলাম (২২) পৌর শহরের মুর্শেদ মিয়ার ছেলে।

পরিবারের বরাত দিয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের দাবি, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবক রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে রেলওয়ে থানা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, পূর্বাঞ্চল রেলপথের আখাউড়ায় গত (২০১৯) এক বছরে ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার করেছে আখাউড়া রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশ। এদের মধ্যে ২০ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ। তবে তাদের মধ্যে ২৯ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বেওয়ারিশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহযোগিতায় নিহতদের দাফন করা হয়। পরিচয় পাওয়ায় বাকি ৪৯ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ১৭টি ছাড়া বাকি ৬১টির ইউডি মামলা হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশের অপমৃত্যু রেজিস্টার হিসাব ও অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসব মৃত্যুর কারণ তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অসাবধানতায় রেললাইন পারাপার, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা, ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা, চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে ফেলফি তোলা, ট্রেনের ছাদে ঘুমিয়ে পড়া, ট্রেন দুর্ঘটনা ও বগির সংযোগস্থলে বসে ভ্রমণ এবং ট্রেন থামার আগে নামার চেষ্টা - এমন ঘটনাই বেশি।

তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এসব মৃত্যুর সব যে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে হয়েছে এমনটা ভাবা ঠিক নয়। কোন ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তরা খুন করে রেললাইনের ওপর লাশ ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে তা ট্রেনে কাটা বলে প্রচারিত হয়। ট্রেনের ধাক্কা বা নিচে পড়ে এসব দুর্ঘটনার কারণে নিহতদের চেহারা ও দেহ বীভৎস হয়ে যায়। পাশাপাশি তাদের কোন নাম-পরিচয় পাওয়া যায় না। আবার স্টেশনে ভবঘুরে, ভিক্ষুকসহ ছিন্নমূল মানুষের মৃত্যু হলে তাদের অজ্ঞাতপরিচয় লাশ হিসেবে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি শ্যামল কান্তি দাস জানান, সাধারণ মানুষ ট্রেন ভ্রমণে সচেতন হলে নিহতের সংখ্যা কমবে।

তবে রেলওয়ে পুলিশ জনসচেতনতায় উঠান বৈঠক ও লিফলেটে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ওসি।

আখাউড়া রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে আখাউড়া-আশুগঞ্জ ও আখাউড়া-মন্দবাগ এবং আখাউড়া-মুকুন্দপুর ১০০ কিলোমিটার রেলওয়ের ১৫টি স্টেশন এলাকার মধ্যে ট্রেনে কাটাসহ ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ের আখাউড়া জিআরপি পুলিশ। এর মধ্যে সর্বাধিক লাশ উদ্ধার হয় গত বছরের নভেম্বর মাসে। ওই মাসে ২১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ১২ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা এবং সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে রাত ৩টার দিকে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ে। এ দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ১৮ জন প্রাণ হারান।

এছাড়াও ওই মাসেই ট্রেনে কাটা পড়ে এক মহিলাসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আখাউড়া ষ্টেশন ও মুকুন্দপুর ষ্টেশন এলাকা থেকে ওই লাশগুলো উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। আখাউড়া উপজেলার হাজেরার পরিচয় পাওয়ায় পরিবারের কাছে দেয়া হলেও অন্য দু’জন অজ্ঞাতপরিচয়।

ওই বছরের জানুয়ারি মাসে দু'জন অজ্ঞাত নারী ও পুরুষসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। আখাউড়া ষ্টেশন, কসবা, গঙ্গাসাগর ও  মুকুন্দপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ওই লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

ফেব্রুয়ারিতে দু'জন পুরুষের মধ্যে অজ্ঞাত একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মন্দবাগ স্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে নাম পরিচয় পাওয়ায় একজনের লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

মার্চ মাসে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ষ্টেশন, আখাউড়া ও ইমামবাড়ি ষ্টেশন এলাকা থেকে লাশগুলো উদ্ধার হয়। ৩ জন অজ্ঞাত পুরুষ ও একজন নারীর পরিচয় পাওয়ায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এপ্রিল মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কসবা স্টেশন এলাকা থেকে ৩ জন পুরুষের মধ্যে অজ্ঞাত একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার করা সরাইল উপজেলার রহিম ও কসবা থেকে ফারুক মিয়ার নাম পরিচয় পাওয়ায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মে মাসে একজন নারী ও ৬ জন পুরুষের লাশ আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মন্দবাগ স্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। সজিব সূত্রধর ও নার্গিস আক্তারের পরিচয় পাওয়ায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্য পাঁচজন অজ্ঞাত।

বছরের জুন মাসে আখাউড়া স্টেশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ও তালশহর স্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাত এক মহিলা ও ৩ অজ্ঞাত পুরুষসহ ১০ জনের লাশ। বাকি ৬  লাশের পরিচয় পাওয়ায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জুলাই মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ স্টেশন এলাকা থেকে দু'জন অজ্ঞাত পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়।

আগস্ট মাসে আখাউড়া রেলওয়ে ষ্টেশন ও মন্দবাগ স্টেশন এলাকা থেকে ৫ জনের মধ্যে ৪ লাশের নাম পরিচয় পাওয়ায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 





সেপ্টেম্বর মাসে ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন, কসবা, তালশহর, আখাউড়া ও ইমামবাড়ি ষ্টেশন থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। ৯ লাশের মধ্যে একজন মহিলা ও একজন অজ্ঞাত পুরুষ ছাড়া অন্যদের নাম পরিচয় পাওয়ায় লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

অক্টোবর মাসে আখাউড়া ষ্টেশন, ইমামবাড়ি এবং তালশহর স্টেশন এলাকা থেকে অজ্ঞাত একজন পুরুষসহ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নবীনগর উপজেলার দ্বীন ইসলাম, বিজয়নগরের সুবেদ আলী, মাধবপুর উপজেলার জগদিশ চন্দ্র পাল ও আখাউড়া উপজেলার জামাল মিয়ার নাম পরিচয় পাওয়ায় পরিবারের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

ডিসেম্বর মাসে আজমপুর স্টেশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশুগঞ্জ ষ্টেশন থেকে দুই মহিলাসহ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশগুলোর মধ্যে নাসিরনগর উপজেলার চান মিয়া ও নেত্রকোনার মাইনুল হক ও আশুগঞ্জের মাজেদার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য দুই লাশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়। 

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft