For English Version
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২০
হোম সারাদেশ

এক দিনের শহীদ মিনার!

Published : Thursday, 20 February, 2020 at 8:46 PM Count : 98
অবজারভার সংবাদদাতা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিদ্যালয় আছে। নেই শহীদ মিনার। তাই হয় না একুশে ফেব্রুয়ারির কোন আয়োজন। সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছরেও বরগুনার বেতাগী উপজেলার শতভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদের স্মৃতিচিহ্ন শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের জন্য অস্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কোন প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না। 

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২২টি মাদরাসা ও ৯টি কলেজ মিলিয়ে মোট ১৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নিম্ন মাধ্যমিক ও মাদ্রাসায় শহীদ মিনার নেই। তাই প্রতি বছর মহান একুশে ফেরুয়ারি ও মাতৃভাষা দিবসের দিনে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোন কোনটিতে একদিনের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাঁশ, ককশিট কিংবা কলাগাছসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে অস্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি না করে শুধু আলোচনা সভা বা মিলাদ মাহফিল করে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে তা-ও করা হয় না।

অভিভাবকরা জানান, বেশিরভাগ বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার না থাকায় ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানে না শহীদ মিনারের তাৎপর্য। আবার যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে, সেগুলোও নিয়মিত পরিস্কার না করায় ধুলা পড়ে থাকে। তাই একুশের কয়েক দিন আগেই শহীদ মিনার ধুয়ে মুছে পরিস্কার করা হয়। আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি করে স্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করা হোক।

পুটিয়াখালী আর্দশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. আল সাইদ জানায়, শহীদ মিনার না থাকায় আমরা কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করি।

বেতাগী সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যক্ষ মনোরঞ্জন বড়াল বলেন, ‘যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা দরকার। নতুন প্রজন্মের কাছে এর সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।’ 





এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুর রহমানর বলেন, ‘যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ডেকে শীঘ্রই শহীদ মিনার তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার তৈরি করা প্রয়োজন। তবে না থাকাটা দুঃখজনক।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব আহসান বলেন, ‘ধাপে ধাপে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই তার একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে।’

-এসকেডি/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft