For English Version
সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২০
হোম অনলাইন স্পেশাল

প্রতিবন্ধী কার্ডেই ভরসা ঢামেক শিক্ষার্থীর

Published : Monday, 17 February, 2020 at 1:01 PM Count : 301
মশিহুর রহমান

রাজ কুমার শীল।

রাজ কুমার শীল।

চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করে একদিন পরিবারের অস্বচ্ছলতা ঘোচাবেন এমনই স্বপ্ন ছিলো রাজ কুমার শীলের। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ তার প্রয়োজন একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। বর্তমানে তার ঠাঁই হয়েছে ভুষির কারখানায়। কাজ করছেন দৈনিক ৩০-৫০ টাকা মজুরিতে।

রাজ কুমার শীল (৫৬) দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের ঘাটপাড় গ্রামের নগিন শীলের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বেলায়েত হোসেন ঢালীর ফেসবুক প্রোফাইলে উঠে আসে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (কে- ৪০) ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী রাজ কুমার শীলের জীবনের গল্প।

তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, একদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মায়ের সঙ্গে নিজের শিক্ষা জীবনের সাটিফিকেটগুলো সত্যায়িত করতে এসেছিলেন রাজ কুমার শীল। প্রয়োজন প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। পড়াশোনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজ কুমার জানায়, সে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলো।

তার মা পার্বতী শীল বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই রাজ কুমার খুবই মেধাবী ছিলো। প্রাথমিক ও জুনিয়ার বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছিল সে। ১৯৮০ সালে বিরামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করে। ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে সে ভর্তি হয়।

তিনি বলেন, 'প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করলেও দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্মাকোলজিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও ভাল রেজাল্ট করতে না পেরে গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় (সিজোফেনিয়া) আক্রান্ত যায়। এরপর দীর্ঘ ১৪/১৫ বছর ধরে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় রাজ কুমার শীল। এর মধ্যে এক বছর পাবনা মানষিক হাসপাতালে চিকিসা নিয়েছে। ২০০৭ সালে সে নিজেই বাড়িতে ফিরে আসে। অসুস্থতার পর বর্তমানে সে কথাবার্তায় কিছুটা স্বাভাবিক। 

ছেলের এমন দুঃখের কথা বলতে গিয়ে পার্বতী রাণীর দু’চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে থাকে। মা পার্বতী রাণী গৃহিনী হলেও রাজ কুমারের বাবা নগিনা শীল একজন নাপিত। চার ছেলে মধ্যে বড় ছেলে গণেশ চন্দ্র শীল (৬০) সেও পেশায় নাপিত। এক ছেলেকে ঢাকা মেডিকেলে আরেক ছেলেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। ছেলেদের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। আজ যদি ছেলে রাজ কুমার শীল ডাক্তারি পাশ করতো সংসারে এতো অভাব থাকতো না।





রাজ কুমারের আরেক ভাই আনন্দ শীলও (৫০) একই রোগে আক্রান্ত। রাজধানীর তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু সংস্কৃতি ও পালি বিষয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় স্নাতক সম্পন্ন করতে পারেননি।

সামর্থবান না হওয়ায় দুই ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য দরখাস্ত করছেন ৭০ বয়সী মা পার্বতী রাণী শীল। 

তিনি বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ায় তারা বড় কোন কাজ করতে পারে না। কোন হৃদয়বান ব্যক্তি তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে আমাদের বড় উপকার হতো।’ 

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft