For English Version
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০
হোম স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্যসেবা নিতে কমিউনিটি ক্লিনিকে আসছেন সেবা গ্রহীতারা

Published : Thursday, 13 February, 2020 at 12:48 PM Count : 930

মেহেরপুরের গাংনীতে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক। এই ক্লিনিকগুলো একখন্ড ছোট জমিতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। জরাজীর্ণ কাঠামোগত দুর্বলতা, রক্ষণাবেক্ষণের অপ্রতুলতা এবং অপর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কমিউনিটি ক্লিনিকে।

নিরাপদ পানীয় জলের অভাব, সঠিক স্যানিটেশন এবং হাত ধোয়ার অসুবিধার কারণে সেবা গ্রহীতাদের বিশেষত গর্ভবতী মা, বয়স্ক রোগী এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছিল। তবে এসব কষ্টদায়ক পরিস্থিতি এখন বদলে দিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন স্বাস্থ্য বিষয়ক এলজিআই'র নেতৃত্বাধীন “ওয়াশ” প্রকল্প।

বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ওয়াটারএইড এবং এসকেএস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে তাদের ওয়াশ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ২৯টিতে নতুন রুপে সংস্কার সাধন করেছে।

“শেখ হাসিনার অবদান, কমিউনিটি ক্লিনিক বাঁচায় প্রাণ” এমন স্লোগানের চেতনায়, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে এই ক্লিনিকগুলো পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান, পুষ্টি, শিশু যত্ন, গর্ভাবস্থা এবং প্রসবের পরের যত্নের পাশাপাশি ২৭ রকম ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করছে।  প্রতিটি ক্লিনিক প্রায় ৬ হাজার জনগণকে সেবা দান করছে। যদিও বর্তমানে কোন কোন ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষকে সেবা দেয়া হচ্ছে।

এই প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, পানির প্রবাহসহ সহজে ব্যবহারযোগ্য টয়লেট, কর্মী ও রোগীদের জন্য হাত ধোয়ার স্থান এবং বিশেষ চাহিদার লোকদের জন্য র‌্যাম্পসহ ২৯টি ক্লিনিককে উন্নত করা হয়েছে। দীর্ঘ দূরত্ব থেকে আসা রোগীদের জন্য একটি বিশ্রামের জায়গা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ এমন রোগীদের জন্য হুইলচেয়ারও সরবরাহ করেছে।

পাশাপাশি প্রকল্পটি এই ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত স্টেকহোল্ডারদের পরিচালনা এবং উন্নতিতে সহায়তা করেছে। কর্মীরা স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) এর মধ্যে সংযোগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। কমিউনিটি গ্রুপ (সিজি) এবং কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপগুলো (সিএসজি) যা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পরিচালনা করতে সহায়তা করে তাদের ভূমিকা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে এর তদারকিও বাড়িয়ে তুলেছে। এসব ব্যবস্থাপনা করার পর ক্লিনিকের সেবাগুলো বৃদ্ধি এবং সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি পরিলক্ষিত হয়। 

গাংনী উপজেলার ষোলটাকা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) বলেন, “গত বছর সুবিধা ভোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৮৭৯। প্রকল্পের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩০৬ জনে। ওষুধের সরবরাহ রোগীদের প্রকৃত বর্ধিত সেবার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না।”

সানঘাট গ্রামের বাসিন্দা কল্পনা আক্তার ক্লিনিকের পরিবর্তনের প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের ক্লিনিকটির পরিবেশ এত উন্নত হয়েছে যে যেখানে নিরাপদ সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশনের সুন্দর ব্যবস্থা হয়েছে। বিশ্রাম নেয়া বা বসার জন্য হয়েছে সুন্দর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকারি ভাবে সরবরাহকৃত ওষুধ শেষ হয়ে যায়। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ দয়া করে ওষুধের সরবরাহ বাড়িয়ে দিন, তাহলে আমার মতো দরিদ্র মানুষেরা বেঁচে থাকতে পারবে।”





কাথুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা বলেন, “এসকেএস ফাউন্ডেশন কতৃক কমিউনিটি ক্লিনিকের মেরামত ও তাদের ওয়াশ প্রোগ্রাম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন গাংনীর মানুষের দাবির প্রতিফলন, যা এসডিজি অর্জনে অবদান রাখবে। আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের যদি প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তার সহজলভ্যতা থাকতো তাহলে আমরা আরও অনেক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারতাম।”

এসকেএস ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান আখন্দ বলেন, “ওয়াশ সুবিধা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য কমিউনিটি গ্রুপের সহযোগিতায় একটি পৃথক তহবিল তৈরি করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তদারকি ও পর্যাপ্ত তহবিলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।”

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আতাউল গনি বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামীণ মানুষের দোরগোঁড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে প্রকল্পটি গাংনী এবং এর বাইরেও সরকার, সুশীল সমাজ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টার সম্ভাব্যতা প্রদর্শন করেছে। তিনি সম্প্রদায়ের সচেতন মানুষদের আহ্বান জানান এসকেএস ফাউন্ডেশনের প্রদর্শিত কাজগুলো চালিয়ে নেয়ার জন্য।”

-এমআরএ/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft