For English Version
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম আইন-আদালত

মিন্নির গোপন কথা ফাঁস করে দিল রিফাতের ফুফাত বোন

Published : Monday, 3 February, 2020 at 7:23 PM Count : 611

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের নতুন খবর সামনে এলো। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন ২৫ জুন দুপুরে রিফাত ও মিন্নি রিফাতের ফুফাত বোন হ্যাপি বেগমের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। মিন্নি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু রিফাত তাতে রাজি ছিলেন না।  এ কারণে ওইদিন মিন্নি রিফাতের কাছে ডিভোর্স চেয়েছিলেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে এমনই সাক্ষ্য দিয়েছেন হ্যাপি বেগম। একইদিন আদালতে এ হত্যা মামলায় আরও দুজনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। তারা হলেন- বরগুনা পৌর কাউন্সিলর ফারুক শিকদার ও জয় চন্দ্র রায়।

সাক্ষ্য প্রদাণকালে মামলার অন্যতম আসামি মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ৯ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ পর্যন্ত ৩৮ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সমাপ্ত হয়েছে।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) এ মামলার দুই সাক্ষীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে মিন্নির জামিন বাতিল আবেদনের শুনানি শেষে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান মিয়া তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।  একই দিন এ মামলার তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। 

এনিয়ে রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রকাশ পাওয়া ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের মনোনীত আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, পাঁচ সহযোগীসহ রিফাত হত্যা মামলার দুই সাক্ষীর বাড়িতে গিয়ে তাদের হুমকি দেন মিন্নি। তাই সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।  এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।  এ নোটিশের জবাবের শুনানি শেষে আজ আদালতে মিন্নির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এবিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গেল ৪ জানুয়ারি পাঁচ সহযোগী নিয়ে মিন্নি রিফাত হত্যা মামলার সাক্ষী জাকারিয়া বাবু ও হারুন মৃধার বাড়িতে গিয়ে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ বিরত রাখার জন্য হুমকি দেন। এ অভিযোগে গত আট জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। 

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের জন্য ওইদিন মিন্নিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ১৫ জানুয়ারি আদালতে এর উত্তর দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। পরে ১৫ জানুয়ারি মিন্নির আইনজীবী কারণ দর্শানোর নোটিশের উত্তর আদালতে দাখিল করেন। এরপর উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মৌখিক আবেদনের জন্য ২৬ জানুয়ারি কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবের শুনানির দিন ধার্য করেন। 

এরপর ২৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ শুনানির জন্য সময় আবেদন করলে আদালত দুই ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেন।  এরপর আজ শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক, দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। 

মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক। পাশাপাশি রিফাতের স্ত্রী মিন্নি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয়জন আসামি জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে। 
এর আগে ২৮ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া মিন্নি ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নয়ন বন্ডের বিয়ের রেজিস্ট্রার (কাজী) আনিচুর রহমানসহ আরও দুজন সাক্ষ্য দেন। অপর দুই সাক্ষী হচ্ছেন কামাল ও মিনারা বেগম।

আনিচুর রহমান সাক্ষ্য দেয়ার সময় মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ের কাবিননামা আদালতে উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেছেন, মিন্নির বাবা ও চাচা আমাকে আয়েশার সঙ্গে নয়ন বন্ডের বিয়ের তথ্য গোপন রাখতে বলেছিলেন। এ সময় জামিনে থাকা মিন্নিসহ ১০ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিল।  ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় এজলাসে বসেন জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান।

জানতে চাইলে কাজী আনিচুর রহমান বলেন, আমি বরগুনা পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার। ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর শাওন ও মুন্না আমার কাছে এসে বলে, আমাদের বন্ধু নয়ন একটি মেয়েকে ভালোবাসে। তাদের বিয়ে পড়াতে হবে এবং তারা প্রাপ্তবয়স্ক।

তিনি বলেন, ওরা আমাকে বলে, ১৫ অক্টোবর বিয়ে পড়াতে হবে।  পরে ওই তারিখে শাওন, মুন্নাসহ ৪-৫ জন ছেলে এসে আমাকে নয়ন বন্ডের বাসায় নিয়ে যায়।  ওখানে নয়ন বন্ডের মা শাহিদা বেগমসহ ১৪-১৫ জন ছিল।  আমি নয়ন বন্ড ও মিন্নির বিয়ে পড়াতে প্রথমে রাজি না হলেও পরে বাধ্য হয়েছি।  মিন্নির পরিবার বিয়েতে রাজি আছে কি না জানতে চাইলে মিন্নি বলে তারা রাজি আছে।

তিনি বলেন, এ সময় উপস্থিত একজন ফোন করে মিন্নির মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয় আমাকে।  মিন্নির মা আমাকে বিয়ে পড়াতে বলেন।  আমি নয়ন বন্ড ও মিন্নির বিয়ে পড়াই, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৪৫/২০১৮। বিয়ের দেনমোহর ছিল ৫ লাখ টাকা।
কাজী আনিচুর রহমান বলেন, কাবিননামায় মিন্নির পক্ষে সাক্ষ্য দেন জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার স্বামী সাইফুল ইসলাম মুন্না।  নয়ন বন্ডের পক্ষে সাক্ষী ছিল রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী ও রাজু।  বিয়ে পড়ানোর পর জানতে পারি, মিন্নির আপন চাচা সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবু সালেহ।  তিনি আমার পূর্বপরিচিত।  নয়ন বন্ডের বাসা থেকে নেমে সালেহ কাউন্সিলরকে ফোন করে ঘটনা জানাই।  সালেহ আমাকে বিয়ের কথা গোপন রাখতে বলেন।  একটু পর মিন্নির বাবা কিশোর আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন।

তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন পরে জানতে পারি, মিন্নি রিফাত শরীফকে বিয়ে করেছে।  মিন্নির বাবা কিশোর আমাকে ফোন করে বলেন- আনিচ আমার মেয়ে মিন্নি ও নয়ন আগামীকাল তোমার কাছে আসবে।  তাদের মধ্যে কমিটমেন্ট হয়েছে, তুমি তাদের তালাকের ব্যবস্থা করে দিও।  পরের দিন মিন্নি ও নয়ন বন্ড আমার কাছে আসেনি।  মিন্নির বাবা পরের দিন আবার আমাকে ফোন করে বলে ওরা কাল যেতে পারেনি।  আজ যাবে, তুমি তালাকের ব্যবস্থা করে দিও।  কিন্তু ওরা আমার কাছে আসেনি।  রিফাত শরীফ খুন হওয়ার পরে মিন্নির চাচা সালেহ আমাকে ফোন দিয়ে নয়ন বন্ড ও মিন্নির বিয়ের তথ্য সাংবাদিকদের দিতে নিষেধ করে।

সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোকজন আমার অফিসে গেলে আমি ভয়ে তাদের কাছে মিন্নি ও নয়ন বন্ডের কাবিননামার তথ্য দেই।  কাজী বলেন, একজন মুসলমান মেয়ের একসঙ্গে দু’জন স্বামী থাকতে পারে না।

সাক্ষী কামাল ও মিনারা বেগম আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় রিফাত শরীফকে কোপানের ঘটনাবলি বর্ণনা করেন।  আসামি মিন্নির পক্ষের আইনজীবী কমল কান্তি ও মাহবুবুল বারী আসলাম সাক্ষীদের জেরা করেন।

আসলাম বলেন, কাজী আনিচুর রহমানকে জেরা করেছি।  কাবিনটি সঠিক নয়।  আমরা কাজীকে বলেছি, মিন্নি ও নয়ন বন্ডের সঙ্গে বিয়ে হয়নি।  বাদীপক্ষের লোকজনের চাপে ওই কাবিন সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া কোনো সাক্ষীই রিফাত হত্যার সঙ্গে মিন্নি যে জড়িত, সে বিষয় কিছু বলেনি।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, মিন্নি যে নয়ন বন্ডকে আগে বিয়ে করেছে, সেটা আদালতে কাজী বলেছেন।  সেই বিয়ে বলবৎ থাকাকালীন রিফাত শরীফকে বিয়ে না করলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটত না।  কাজী সেই সাক্ষ্যই আদালতে দিয়েছেন।  

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।  এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। 

পর দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলেকে হত্যায় পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft