For English Version
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২০
হোম বেড়িয়ে আসুন

আবাসন সঙ্কটে পর্যটকরা

Published : Monday, 3 February, 2020 at 12:33 PM Count : 254
শিপু ফরাজী

অনুন্নত ব্যবস্থাপনার কারণে পর্যটক আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে অপার সৌন্দর্যের দ্বীপ ভোলার চরফ্যাশনের চর কুকরী-মুকরী। যানবাহনের অভাবে ম্যানগ্রোভ বন অথবা সমুদ্র বীচের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন না ঘুরতে আসা প্রকৃতিপ্রেমীরা। নেই প্রয়োজনীয় আবাসন ও খাবার ব্যবস্থাও। 

দেশের এক নয়নাভিরাম দ্বীপের নাম চর কুকরী-মুকরী। দুর থেকে মনে হবে বিশাল সাগরের মাঝে সবুজের টিপ। ঘন সবুজ বনের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে সরু খাল। দুই পাড়ে সারি সারি কেওড়া, গোলপাতাসহ নানা গাছ। সাগর তীরে রয়েছে ছোট ছোট বিচ। শীতের পাখি আর বন্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ যেকোন প্রকৃতিপ্রেমীর মন কেড়ে নেয়। এসব সৌন্দর্য দেখতে প্রতি বছর শীতের মৌসুমে ভীড় করছেন দেশ-বিদেশের পর্যটক। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা।

ছুটির দিনগুলোতে একমাত্র রেস্টহাউজে ঠাঁই হয় না অনেকের। তবে শিগগিরই সমস্যা সমাধান করে আকষর্ণীয় পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। তাছাড়া চর কুকরী-মুকরীর দ্বীপের অবকাঠামােগত উন্নয়ন, বিনােদনের পর্যাপ্ত সুযােগ সৃষ্টি, পর্যটন আকর্ষণের বহুমাত্রিকতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধান, পর্যটন খাতে বিনিযােগ বান্ধব পরিবেশন সৃষ্টি, বাজার সংযোগ এবং সেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে পিকেএসএফ এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নযন তহবিল (ইফাদ) এর অর্থায়নে সহযোগী সংস্থা ‘পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)’ “চর কুকরি মুকরিতে কমিউনিটি ভিত্তিক ইকো ট্যুরিজম উন্নয়ন” শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে।

চর কুকরী দ্বীপের ঘন বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়ায় সরু খাল হয়ে যখন পর্যটকদের নৌকা, ট্রলার ছুটে চলে তখন সবুজের রাজ্যে মন হারিয়ে যায়। আর সবুজের বুক চিরে এগিয়ে গেলেই সাগর তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে নারিকেল বাগান, তাড়ুয়া বিচসহ অসংখ্য ডুবোচর। এসব চর থেকে পূর্ব-পশ্চিমে তাকালেই মনে হয় সাগর পাড়ের শুভ্র সাদা মেঘ আর দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ আলিঙ্গন করছে। এর মাঝে অতিথি পাখির জলকেলি ভ্রমণ পিপাসুদের মন কেড়ে নেয়। তবে এখানে এসে ব্যস্ত জীবনে প্রশান্তির ছোঁয়া লাগলেও যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটকদের। 

সম্প্রতি সাহিত্যিক আড্ডা আর চড়ুইভাতি করতে ঢাকা থেকে দেশি-বিদেশি আড়াইশ কবি, লেখক, শিল্পী সাহিত্যিক আসেন চর কুকরী-মুকরীতে। এখানকার প্রকৃতি আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যে তারা মুগ্ধ হলেও পর্যটকদের জন্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর দাবি তাদের।

কোলকাতার কবি গৌতম চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের যা যা লাগে তার একটু ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।

সাপ্তাহিক পূর্বাপর সম্পাদক হাসান মাহমুদ বলেন, চর কুকরি-মুকরি ভোলার কন্যাস্বরূপ। এই কন্যাকে দেখার জন্যই তার ভাইয়েরা এখানে বার বার ফিরে আসেন।





থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা অপ্রতুল উল্লেখ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হাসেম মহাজন যোগাযোগসহ পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

আর ইকোপার্ক নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করাসহ পর্যটনকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কাজ করার কথা জানালেন বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই একটা সমৃদ্ধ ইকো পার্ক আপনারা দেখতে পাবেন। জেলা সদর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরের কোল ঘেঁষে ৮শ বছরের পুরানো দ্বীপ কুকরী-মুকরীর সৌন্দর্য দেখতে এ মৌসুমে প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক এসেছেন।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft