For English Version
শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
হোম বেড়িয়ে আসুন

ছুটির দিনে সোনারগাঁওয়ে দর্শণার্থীদের ঢল

Published : Friday, 24 January, 2020 at 10:48 PM Count : 137
অবজারভার সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মাসব্যাপী লোক ও কারুশিল্প মেলা এবং লোকজ উৎসব জমে উঠেছে। সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিশাল চত্বর জুড়ে বসেছে এ মেলা।  শুক্রবার ছুটির দিনে হাজারো ক্রেতা, দর্শণার্থীদের ঢল নামে মেলা চত্বর এলাকায়।

এবারের মেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু লোকজ উৎসব হিসেবে পালন করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। 

দর্শণার্থীদের উপচে পড়া ভীড় ছিল মেলা প্রাঙ্গণে। বিদেশী পর্যটকরাও মেলায় আসছেন। যেন উৎসব আর আমেজে মেতে উঠেছে ফাউন্ডেশন ও এর আশপাশের এলাকা। 

প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্যকে লালন, পরিস্ফুটন এবং চলমান জীবনধারায় সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি থেকে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা শুরু হয়েছে। মেলা উপলক্ষে পুরো ফাউন্ডেশন চত্বর ভিন্ন সাজে  সাজানো হয়েছে। লাল, নীল বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে জাদুঘরের ভবনগুলো।

ফাউন্ডেশনের মূল আঙ্গিনা থেকে মেলার দিকে ধাবিত রঙিন পতাকায় শোভিত রাস্তার ধারে বিভিন্ন গ্রামীণ শ্লোক,
নীতিকথা সংবলিত প্ল্যাকার্ড, ফেষ্টুন, লোকজীবনের চিত্রকলার মুর‌্যাল সাজানো হয়েছে। মেলার প্রবেশ দ্বারে ফাউন্ডেশনের প্রধান ফটক দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান কোম্পানীর নির্মিত বড় সর্দার বাড়িটি এ বছর মেলাকে
আরও সুন্দর করে তুলেছে। আগত দর্শণার্থীদের সবাইকে এ ভবনের পাশে একটু দাঁড়িয়ে অবলোকন করতে দেখা যাচ্ছে। কেউবা আবার ছবি তুলতে ব্যস্ত।

সরজমিনে মেলায় গিয়ে দেখা গেছে, মেলা চত্বরে দর্শণার্থীদের উপচে পড়া ঢল। সোনারগাঁওয়ে ভ্রমণে বা পিকনিকে এসে মেলাকে বাড়তি পাওনা হিসেবে বলছেন অনেকেই।

ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে শিক্ষাসফরে আসা একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, এখানে শিক্ষাসফরে এসে সোনারগাঁওয়ের প্রাচীন রাজধানীর ইতিহাস ঐতিহ্য দেখার সঙ্গে বাড়তি পাওয়া হিসেবে কারুশিল্প মেলাটি উপভোগ করলাম।

কুমিল্লার লাকসাম থেকে আগত দর্শণার্থী আনোয়ার জাহান, সামস, মিয়া জামাল, রিংকু, সোনিয়া, সাথি, মুন্নী, রিক্তা, সমশের বাহাদুর, নিথি; নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে আসা রাফিদ, আদিয়ান, রাহাসহ একদল তরুণ-তরুণী জানায়, একুশে বই মেলা, ঢাকার বাণিজ্য মেলার মতো সোনারগাঁওয়ের লোক ও কারুশিল্প মেলা দেশের একমাত্র লোকজ মেলা। এখানে
বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া লোক ও কারুশিল্পকে আরও পুঙ্খানুরুপে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। তা দেখে নতুন প্রজন্মরা আরও বেশি করে জানতে পারবে।

মেলার বিশেষ আকর্ষণ আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনী দেশের প্রথিতযশা কারুশিল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে “কর্মময় কারুশিল্পী” প্রদর্শনী। এটি মেলার মূল চত্বরের মাঠের মাঝে অবস্থান। 

এ প্রদর্শনীতে ৩২টি ষ্টলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৬৪ কারুশিল্পী দেশের হারানো ঐতিহ্যকে আবার নতুন করে আবিষ্কার করছে। প্রদর্শনীর গ্যালারীগুলো কারুশিল্পীরা তাদের স্বহস্তে তৈরি করছে নওগাঁ ও মাগুরার শোলা শিল্প, সোনারগাঁওয়ের জামদানি, রাজশাহীর শখের হাড়ি ও মুখোশ, চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, সোনারগাঁওয়ের এক কাঠের চিত্রিত হাতি, ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারুশিল্প, নকশিকাঁথা বেতের কারুশিল্প, ঠাকুরগাঁওয়ের বাঁশের কারুশিল্প, রংপুরের শতরঞ্জি, পাটজাত ও বুনন শিল্প, কুমিল্লার তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প, মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি,
কিশোরগঞ্জের টেরাকোটাশিল্প, সিলেট ও রাঙামাটির ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারুপণ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগের মাটির কারুশিল্প ইত্যাদি।

দারুণ এক আয়োজন বসেছে সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে। দুই দশকের পথ ধরে এবারও বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে মেলা। মেলা দেখে আর কারুপণ্য কিনে ক্লান্ত শরীরে বিকেলে বসে শুনছেন ময়ূরাকৃতির সোনারতরী মঞ্চ থেকে ভেসে আসা লালন, হাসন, ভাওয়াইয়া, জারি, সারি আর ভাটিয়ালি গান। কেউ কেউ আবহমান বাংলার গ্রাম্য শালিশ, দাদি নাতির গল্প বলা, ঢেঁকিতে ধান ভানা, নকশী পিঠা তৈরি, পালকিতে বর কনে, পন্ডিত মশাইয়ের পাঠশালা ইত্যাদি জীবন্ত প্রদর্শনী ও হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সব খেলাধুলা দেখছে। এতে সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা এতে অংশগ্রহণ করছে।





মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহ জানান, লোক ও কারুশিল্পের প্রসারের জন্য প্রতি বছরের মত আকর্ষণীয় বিভিন্ন খেলা, গান, প্রদর্শনী অনুষ্ঠান ছাড়াও এবারের উৎসবে
গ্রাম বাংলার আর্থসামাজিক জীবনের প্রতিচ্ছবি উপস্থাপন করা হয়েছে বৈচিত্রময় ভাবে। এবারের মেলা অন্যান্যবারের চেয়ে খুব ভাল জমেছে। ছুটির দিনগুলোতে বহু দর্শণার্থীর সমাগম হয়।

মেলায় কর্মরত কারুশিল্পীর কারুপণ্য উৎপাদন প্রদর্শনীর ষ্টলসহ সর্বমোট ১৫৪টি স্টল স্থান পেয়েছে। মুড়ি, মুড়কি, মন্ড মিঠাই, চটপটি থেকে শুরু করে গ্রামীণ হস্তশিল্প, বাঁশ বেত, কাঠ, লোহা, পাটজাত দ্রব্যসামগ্রী বিলুপ্তপ্রায় কুটির শিল্পের পসরা বসেছে মেলায়।

মেলা চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

-এইচএমআর/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft