For English Version
শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
হোম সারাদেশ

আসিজের আন্তর্বর্তী আদেশে খুশি রোহিঙ্গারা

Published : Thursday, 23 January, 2020 at 6:16 PM Count : 112

রোহিঙ্গা গণহত্যার ওপর গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে দিয়েছে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আন্তর্বর্তী আদেশে আলোচিত এই মামলাটি চালানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে এ আদালত।

আদালত চার অন্তর্বর্তী আদেশে বলেন, মিয়ানমার হত্যাযজ্ঞের সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে পারবে না, মিয়ানমারকে জোনোসাইড কনভেনশন মেনে চলতে হবে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা তৎপরতা চালানো যাবে না এবং ৪ মাসের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে হবে।
 
এই অন্তর্বর্তী আদেশের খবরে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে-১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে খুশির বন্যা দেখা গেছে। তাদের দাবি চলমান মামলায় গণহত্যার মামলায় পুরাপুরি মিয়ানমার দোষী সাব্যস্ত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হলে রোহিঙ্গারা ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে। এসময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ক্যাম্পের বাসিন্দারা। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ মাঝি রহিম উল্লাহ বলেন, এই অন্তর্বর্তী মামলার আদেশ তাদের জন্য বড় পাওয়া, তাদের শুধু গণহত্যার বিচার নয়, তাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার ফিরে পেলে তারা বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরতে পারবে। 

রোহিঙ্গা নেতা মো. জাবেদ এই মামলার দিকে জাতিসংঘ ও ওআইসির নজর দেওয়ার দাবি জানান। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশকে প্রাথমিক ধাপে মিয়ানমারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলে দাবী করেন এই রোহিঙ্গা নেতা। 

রোহিঙ্গা মাঝি আবু তালেব বলেন, মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে। এতগুলো মানুষ অন্য এভাবে থাকা সম্ভব নয়। যদি সুষ্ঠু বিচার পাই তবে স্বেচ্ছায়ই মিয়ানমারে ফিরে যাবো। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৭ এর এক নেতা কামাল হোসেন বলেন, মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি সুষ্ঠু বিচার পাবো। হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ সরাসরি গুলি করেও রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা করেছে রাখাইন সেনারা। ন্যায়বিচারে মিয়ানমারের মিথ্যাবাদী সুচি’র শাস্তি দাবি করেন তিনি। 

বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় জেনেভার হেগের স্থাপিত আইসিজের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারপতি ইউসুফ রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় পাঠ শুরু করেন। আদালত বলেছেন, গাম্বিয়া স্বনামে এই আবেদন করেছে। এরপর তারা ওআইসিসহ যেকোনো সংস্থা ও দেশের সহযোগিতা চাইতে পারে। তাতে মামলা করার অধিকার ক্ষুণ্ন হয় না।





মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চলছে এমন অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির বিচারমন্ত্রী আবুবকর তামবাদু। অন্যদিকে মিয়ানমারের নেতৃত্ব দেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ও দেশটির কার্যত সরকার প্রধান অং সান সু চি।

আবুবকর তামবাদু শুনানিতে নৃশংসতার জন্য দায়ী সেনা সদস্যদের বিচার ও সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর ‘আস্থা রাখা যায় না’ মন্তব্য করে মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির আগ পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়েছিলেন। অন্যদিকে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে সু চি দাবি করেন, রাখাইনের পরিস্থিতি সম্পর্কে গাম্বিয়া যে চিত্র আদালতে উপস্থাপন করেছে তা ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’। গণহত্যার মামলা খারিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।
 
উল্লেখ্য-২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে ৭৫ হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ১০ হাজার ৫৬৫ জন নারী-পুরুষকে মেরে ফেলা হয়েছে। ১৮শ’৩৩ জনকে ধর্ষণ করেছে। ৯০৬টি মসজিদ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ১২০০ মক্তব-মাদ্রাসা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ২৫০০ লোককে বিনাদোষে জেলে পাঠিয়েছে। ৮৮টি গণকবর রয়েছে। এর মধ্যে ২টিতে ১০ জন করে মৃতদেহ পাওয়া গেছে। একটি মংডুর আংডং গ্রামে অপরটি বুচিডংয়ের গুদামপাড়ায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে গাম্বিয়া মামলা দায়ের করে বলেও জানান তিনি।

এফআই/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft