For English Version
বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০
হোম সারাদেশ

শুঁটকি নিয়ে বিপাকে সিরাজগঞ্জের উৎপাদনকারীরা

Published : Tuesday, 31 December, 2019 at 7:49 PM Count : 152

সিরাজগঞ্জে বৃহত্তর চলনবিলের উৎপাদিত শুঁটকি মাছ গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রেখে চলেছে এ শুঁটকি মাছ।

এছাড়া শুঁটকি মাছ উৎপাদন, বিপণনসহ এসব কর্মযজ্ঞে লিপ্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। সেই সঙ্গে ভোজনরসিকদের কাছে চলনবিলের উৎপাদিত এসব শুঁটকি মাছ এখনও রয়েছে স্বাদে-ঘ্রাণে অতুলনীয়। অথচ সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাত করণের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকা ও বাজারজাত করণের ভালো ব্যবস্থা না থাকার কারণে চলনবিলের শুঁটকি মাছ উৎপাদনকারীরা রয়েছেন চরম বিপাকে। 

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সিরাজগঞ্জে বাড়ছে শুঁটকির উৎপাদন। গত বছরের তুলনায় এবছর ৫০ টনের বেশী শুঁটকি মাছ উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য বিভাগ। তবে যেটুকু উৎপাদিত হচ্ছে, তাতে বাজারজাত করতে সমস্যা হচ্ছে। দামও ঠিকঠাক মতো পাচ্ছেন না তারা। 

এ অঞ্চলের শুঁটকি মাছ উৎপাদনকারী ও এর সঙ্গে জড়িতরা জানান, তাদের উৎপাদিত শুঁটকি মাছ সংরক্ষণে হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতের আধুনিক কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর এ অঞ্চলে কোটি কোটি টাকার শুঁটকি মাছ নষ্ট হয়। কোনো ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে শুধু লবণ মিশিয়ে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি প্রস্তুত করা হয়। তাই এসব শুঁটকি বেশি দিন ঘরে ফেলে রাখাও যায় না। তাদেও দাবী  এ অঞ্চলের শুঁটকি শিল্পকে বাঁচাতে হলে হিমাগার তৈরির পাশাপাশি শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে ।

 সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, স্বাদ ও গুনগতমান ভাল হওয়ায় দেশ বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চলনবিলের মিঠাপানির মাছের তৈরী শুটকির। তাই প্রতিবছরেই বাড়ছে এর উৎপাদন। মূলত অক্টোবর থেকে মার্চমাস পর্যন্ত চলে মাছ শুটকি করার কাজ। এসময় চলনবিলে পানি শুকিয়ে যায় এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ প্রচুর ধরা পরে। চলবিল থেকে মাছ শিকার করার পরে তা শুকানো হয় মাছ শুকানোর পর  তা বাছাই করা হয়। মাছ শুকানোর জন্য চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ, উল্লাপাড়া এবং শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি  করা হয়েছে  শুঁটকির চাতাল। চিংড়ি, টেংরা, পুঁটি, খলসে, বাতাসি, চেলা, মলা, টাকি, বাইম, শোল, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, কৈ মাছ সারি-সারি বাঁশের বাতার চালায় বিছিয়ে   নারী-পুরুষরা চাতালে এখন শুঁটকি পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন।
 
তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি গ্রামের  কফিল উদ্দিন জানান, এখন চলনবিলে দেশি প্রজাতির শোল, টাকি, বোয়াল, টেংরা, পুঁটি, চান্দাসহ  বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ ধরা পড়ছে ।  বিল থেকে সংগ্রহ করা মাছ শুকাতে দিনরাত চাতালে ব্যাস্ত থাকছে সবাই।





শুঁটকি মাছ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত  থেকে অনেকেই জীবীকা নির্বাহ করছেন। তবে তিনি বলেন, শুটকি মাছ আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরন এবং সংরক্ষনের ব্যবস্থা থাকলে এর সাথে জড়িতরা বেশী লাভবান হতেন। রাখার অভাবে অনেক মাছ নষ্ট হয়। আমাদের আর্থিক ভাবে ক্ষতি হয়। তিনি হিমাগার তৈরির পাশাপাশি শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির  দাবি জানান।

শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আকতার হোসেন জানান, এখানে উৎপাদিত শুটকির দেশ ব্যাপী চাহিদা রয়েছে।এখান থেকে ক্রয়কৃত শুটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে প্রক্রিয়াজাত করে এই শুটকি বিদেশেও যাচ্ছে।  তবে বাজারজাতকরণেও নানা সমস্যা রয়েছে। এই মাছ বেশীদিন সংরক্ষন করা যায় না। যার কারণে শুঁটকি তৈরী এবং ব্যবসায়ীরা তেমন লাভবান হতে পারেন না।  শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা এবং বিক্রির জন্য বাজার তৈরী করতে পারলে এই খাত থেকে কয়েকশ’ কোটি টাকা সরকার আয় করতে পারতো।

সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা  শাহেদ আলী  জানান, জেলার তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও শহজাদপুর উপজেলায় ২৩টি স্থানে এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অন্তত ৪০টি শুঁটকি চাতাল রয়েছে।  এসব চাতালে মৌসুম এলেই মাছ সংগ্রহ করে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়।  শুটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ এবং এ থেকে সুবিধাভোগী রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।  এখানকার শুঁটকি দেশ ও দেশের বাইরে  ভারত, বাহরাইন, কাতার ও পশ্চিমা বিশ্ব সহ অন্তত ২০টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।  জেলায় গত বছর ১৬২ টন শুঁটকি উৎপাদন হয়ে ছিলো।  এবছর ২০০ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
 
তিনি আরো বলেন, এখানকার শুঁটকির গুণগত মান ভালো এবং চাহিদাও রয়েছে।  এ শিল্পের বিকাশে প্রক্রিয়াজাত, বাজারজাতকরণে ব্যবস্থাগ্রহণ করা দরকার।বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এছাড়া শুঁটকি মাছ পেশার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরও জীবনমান উন্নয়ন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা  সম্বলিত শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাগ্রহন হিমাগার নির্মাণের প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এবি/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft