For English Version
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০
হোম অনলাইন স্পেশাল

'সবাই মিলে সবার ঢাকা গড়তে চাই'

Published : Sunday, 29 December, 2019 at 11:29 AM Count : 107

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। অবজারভার অনলাইনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন গত কয়েক মাসের কাজ, পরিকল্পনা, অভিজ্ঞতা ও নিজের  প্রত্যাশার কথা।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাবার ক্ষেত্রে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। যে দল দিয়েছে একটি লাল সবুজের পতাকা, স্বাধীন ভূখন্ড। সেই দল থেকে আমি গতবার নমিনেশন পেয়েছিলাম। নমিনেশন পাবার পর থেকেই আমার সাধ্যমত যা যা চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেগুলোর মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছি।  গত ৯ মাসে আমরা নানা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। কোন কোন জায়গায় জলবদ্ধতা হচ্ছে, মশার প্রজনন হচ্ছে, আমাদের কি কি কমতি আছে বা কি কি করতে পারি, স্মার্ট সিটির কি কি পরিকল্পনা করতে পারি, জলবদ্ধতা নিয়ে কিভাবে কাজ করতে পারি। আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকে একটি দিনও বসে নেই। সবাইকে নিয়ে কাজ করছি সবাই মিলে, সবার ঢাকার জন্য। এই ৯ মাসে এই নলেজগুলোকে শেয়ার করেছি। এতে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে আমি মনে করে আওয়ামী লীগ অবশ্যই আমাকে বিবেচনা করবে। আমাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা আমি সততার সঙ্গে পালন করেছি কি না, তা আওয়ামী লীগ বিবেচনা করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটার সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রত্যাশা তো আমি অবশ্যই করতে পারি। আমি আওয়ামী লীগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মনোনয়ন বোর্ডের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশী। আমি এই ৯ মাসে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে আমি তা কাজে লাগাতে পারবো।

এই ৯ মাসের দায়িত্ব পালনে আপনি নিজেকে কতটা সফল বলে মনে করছেন?

প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণ আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমি তা সঠিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। আমি চেষ্টা করেছি কাজে কোন ফাঁকি না দেয়ার জন্য, সততার সঙ্গে কাজ করার জন্য। শতভাগ চেষ্টা করেছি কিন্তু শতভাগ সফলতা আনতে পারিনি। কিন্তু অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেছি। এই ৯ মাসে যে অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেছি, আমার বিশ্বাস এই অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগানোর সময় এসেছে। দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয়, সেই নমিনেশন নিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে, জনগণের যে প্রত্যাশা তা বাস্তবায়ন করার সাধ্যমত চেষ্টা করবো। 

মনোনয়নের বিষয়ে দলের হাইকমান্ড থেকে কোন সাড়া পেয়েছেন কি না?

আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে সবাই দেখছেন। আমার কাজের বিচার-বিশ্লেষণ তারাই করবেন। কাজের বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমেই হাইকমান্ড এবং স্থানীয় সরকারের মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবেন। আমার চেষ্টার কোন ত্রুটি থাকবে না। যেখানে কোন সমস্যা থাকবে তা সমাধান করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। যতটুক সম্ভব সিটি কর্পোরেশনের জন্য উজার করে দিতে চাই।

দল থেকে যদি আপনাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে দেয় তাহলে কি আপনাকে ভোটের মাঠে দেখবো?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে নমিনেশন দেবেন অবশ্যই তার জন্য কাজ আমাদের করতেই হবে। আওয়ামী লীগ একটি বড় এবং ঐতিহ্যবাহী দল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বোর্ডের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে নমিনেশন দেবেন। যাকেই প্রধানমন্ত্রী নমিনেশন দেবেন তার বিকল্প চিন্তা করা যায় না।

নমিনেশন পাবার ক্ষেত্রে কোন চ্যালেঞ্জ রয়েছি কি?

নমিনেশন অনেকেই চাইবে। আর এটাই স্বাভাবিক। আমি মনে করি নমিনেশন বোর্ডের মাধ্যমে অবশ্যই সঠিক ব্যক্তির মূল্যায়ন করা হবে। ব্যক্তির বিগত দিনের কাজের কর্মদক্ষতা দেখা হবে, ব্যক্তির সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতা দেখেই নমিনেশন বোর্ড মূল্যায়ন করবে। তবে আমার কাজের অভিজ্ঞতায় আওয়ামী লীগ থেকে আমি মনোনয়ন চাই এবং চাইতেই পারি।

যদি মনোনয়ন পেয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন তবে আপনার কাজ কি হবে?

ঢাকা একটি অপরিকল্পিত শহর। আমাদের অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে করতে হচ্ছে। আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকে দেখছি ডেঙ্গু, জলাবদ্ধতা, যানজট, বায়ু দূষণ প্রত্যেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডকে সাজানোটাও বড় চ্যালেঞ্জ। এতো চ্যালেঞ্জের মধ্য থেকেই আমরা চাইবো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে একটু মুক্ত বাতাস নিতে পারে, খেলার মাঠগুলো নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেব, ক্লিন এবং গ্রিণ সিটির জন্য যা যা করনীয় তাই করবো। আগামী বছর বর্ষা মৌসুমে যেখানে যেখানে জায়গা পাবো গাছ লাগাবো। আমার নাগরিকরা কি চায় সে অনুপাতে কাজ করবো। আমার ৯ মাসের কাজের অভিজ্ঞতায় যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয়েছে সেগুলো সমাধানে কাজ করবো। সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ সমন্বয়হীনতা। আমাদের প্রায় ৫৪টি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কিভাবে এক হয়ে কাজ করা যায় সেটিকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। 

৯ মাস দায়িত্বে থেকে যে সকল সমস্যা চিহ্নিত করেছেন সেগুলো সমাধানে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?

কালসি খাল বা সাংবাদিক খাল আমাদের নয় তারপরও নগরের স্বার্থে সেটিকে পরিষ্কার করেছি এবং পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাইপাস করে পানি চলাচলের মাধ্যমে খালটিকে সচল করেছি। আমাদের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে শর্ট টার্ম, মিড টার্ম এবং লং টার্ম। আমি দায়িত্ব নেবার পরসই আবরার হত্যার যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেটিকে মোকাবেলা করেছি। সেখানে ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করে দিয়েছি। ছাত্র আন্দোলন সমাধান না হতেই বনানীয় এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এরপরই গুলশান-১ এ আগুন লাগলো। এরপরই শুরু হলো ডেঙ্গু সমস্যা। এভাবে একের পর এক চ্যালেঞ্জ এসেছে। আমি প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জে পিছপা না হয়ে আমার ভাঙ্গা পা নিয়ে প্রত্যেকটি জায়গায় গিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি সাফল্য, সফলতা জনগণ বিচার করবে। আমি নিজের বিবেককে প্রশ্ন করি, ‘আমি একটি দিনও কাজে ফাঁকি দিয়েছি?’ না, আমি একটি দিনও কাজে ফাঁকি দেইনি। এটিই আমার বড় শক্তি। আমি কাজ করতে পছন্দ করি এবং কাজ করে যাব। 

আপনি দায়িত্ব নেবার সময় বলেছিলেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের রেখে যাওয়া কাজ শেষ করবেন, সেগুলোর কতটা শেষ করতে পেরেছেন?

ঢাকার প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ইচ্ছে ছিল সম্পূর্ণ ঢাকা শহরকে লাইটিং এর মধ্যে আনা, ইউলুপগুলোকে ঠিক করা। গত ৯ মাস দায়িত্ব পালনের সময় ছাত্র আন্দোলন, ডেঙ্গু মোকাবেলা, এফআর টাওয়ারের আগুনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে আমার অনেক সময় ব্যহত হয়েছে। এটা বাস্তবতা। এগুলোর পরেও ইউলুপ প্রজেক্টের ফাইল এপ্রুভ করেছি। ঢাকা সিটিতে এলইডি লাইটের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমি মনে করি আনিস ভাই যে স্বপ্নগুলো দেখেছেন, আমরা যে স্বপ্ন দেখছি, স্বপ্ন কিন্তু সবার একই। ২৫টি পার্ক হাতে নিয়েছি। একটি ইতোমধ্যে ওপেন করে দিয়েছি। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে তরিঘরি করে সবগুলোর কাজ শেষ করবো তা কিন্তু করিনি। এতে কাজের মান খারাপ হবে। আমি সঠিকভাবে মানুষ সুফল পাবে এমন ভাবে কাজ করতে চাই। আমরা কোনটার পর কোন কাজটি করবো সব পরিকল্পনা হয়েছে। আমি মনে করি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একটি রাস্তাও কাঁচা থাকবে না। সে গ্যারান্টি আমি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনবাসীকে দিতে চাই। আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যদি ধরে রাখতে পারি তাহলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তিলোত্তমা ঢাকা শহর উপহার দিতে পারবো।

নতুন ১৮টি ওয়ার্ড পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা পায়নি এমন অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে কি বলবেন?

সিটি কর্পোরেশনের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের জন্য কিছুই করা হয়নি। ১৮ ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ইতোমধ্যে আঞ্চলিক কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। ১৮ ওয়ার্ডকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এই ৫টি অঞ্চলের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছি। নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের এরিয়া হলো ১১৩ স্কোয়ার কিলোমিটার। আর পুরাতন ৩৬ ওয়ার্ড মিলে ৮৩ স্কোয়ার কিলোমিটার। এই নতুন ১৮টি ওয়ার্ড পুরাতন ওয়ার্ডগুলো থেকে অনেক বড়। এতে ঢাকার নতুন একটা অংশ যুক্ত হতে যাচ্ছে। এগুলোতে তাড়াহুড়ো করে পরিকল্পনা ছাড়া কাজ করতে চাই না। আমরা ওইসব এলাকায় মশক কর্মী, পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়েছি। ওইসব এলাকার খালগুলোর কচুরিপানা পরিষ্কার করা শুরু করেছি। নতুন ওয়ার্ডগুলো পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করা হবে। নতুন ওয়ার্ডের রাস্তা চওড়াকরণ, ড্রেনেজ সিস্টেমকে সেন্ট্রাল ডাকটিমের মাধ্যমে করা হবে, ফুটপাত এবং এর সঙ্গে লাইট লাগাতে হবে। নতুন ওয়ার্ডের ইনফ্রাস্ট্রাকচার একনেকে গেছে। এটি পাশ হলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নতুন ওয়ার্ডের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যেই নতুন যে ইস্টার্ন পার্ট অফ ঢাকা সিটি, এটিকে মানুষ চিনতে পারবে না। সেটির পরিকল্পনা নিয়েই আমি এগিয়ে যাচ্ছি। এটির জন্য দেশি কনসালটেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। 





আপনার নির্বাচনের ভিশন কি?

জনগণকে জলবদ্ধতা মুক্ত, ক্লিন, গ্রীণ, সবাই মিলে সবার ঢাকা করতে চাই। পার্কগুলোকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে চাই, খেলার মাঠগুলো জনগণের কাছে দিয়ে দেয়া, ময়লা যারা ফেলবে, যারা সিটির আইন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। আমার থিম হচ্ছে এই ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য ঢাকা করতে সকলের সহযোগীতা চাইবো। একইসঙ্গে ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে যেখানে আইন থাকবে, ফাইনের বলবদ করতে হবে। আইনের বাস্তবায়ন করতে হলে ফাইন করতে হবে এটা আমার ম্যাসেজ।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের শেষের দিকে মেয়র নির্বাচিত হন আতিকুল ইসলাম। শপথগ্রহণ করেন ৭ মার্চ।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft