For English Version
রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২০
হোম অনলাইন স্পেশাল

পরিচ্ছন্ন ৬৫নং ওয়ার্ড গড়ে তুলবো : রায়হান জামিল রিপন

Published : Friday, 27 December, 2019 at 10:05 PM Count : 540

রায়হান জামিল রিপন। ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ছোট বেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে নিজিকে গড়ে তুলেছেন। ছাত্রজীবনেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সুখ, দুঃখ সম্পর্কে জেনেছেন। ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লার সান্নিধ্যে তার নেতৃত্বে নিজেকে গড়েছেন। আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৬৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী এই ত্যাগী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি মুক্ত দেশ গঠনের অংশীদার হতে চান এই নেতা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য দিয়েছিন রায়হান জামিল রিপন।
সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে কিভাবে জড়িত হলেন?
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবা এক মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। বাবা জেল থেকে বের হয়ে বাসায় আসে। তখন প্রায়ই বাবা-মায়ের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা শুনতাম। আমার বাবা-মা দুজনই বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। জীবনের প্রথম দিকে বাবা-মার কাছে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা এবং আওয়ামী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ জন্মায়। বঙ্গবন্ধুর পরিবার, তার জীবনী, তার আদর্শ আমি সব সময় অনুসরণ করি। পরে ১৯৮৯ সালে মাতইল ইউনিয়নে সে সময়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জামান ভাই এর নেতৃত্ব ধরে আমি ছাত্রলীগে যোগ দেই। তখন আমি দশম শ্রেনিতে পড়ি। এর পর ১৯৯৩ সালে আমি মাতইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। পরে সিদ্ধেশ্বরী কলেজের কার্যকরি সদস্য হই। ১৯৯৩-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করি। এর পর ২০০১ সালে ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদকের দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করি। ডেমরা থানা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালনের সময় আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লার আদর্শকে তার রাজনৈতিক নেতৃত্বে কাজ করি। এখন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক নেতৃত্বেই এগিয়ে যাচ্ছি। 

রাজনীতি থেকে জনপ্রতিনিধি হতে চাচ্ছেন কেন?
রাজনীতি করতে গিয়ে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে আমি মিশেছি। সকল মানুষের দুঃখ, কষ্ট নিজের মত করে দেখেছি। তাদের বিপদে আপদে সব সময় তাদের পাশে থেকে আপনজন হয়ে কাজ করেছি। আমি জনগণের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে চাই। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে এজেন্ডা দিয়েছেন- ‘ক্লিন ইমেজ এবং মানুষের সেবা করা দরকার’ আমার মনে হয় ৬৫নং ওয়ার্ডে দল যদি আমাকে চিন্তা করে তাহলে আমি দলের হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। আমি মানুষের দারে দারে গিয়েছি। সংগঠনকে দাঁড় করতে তৃণমূল স্তরের সকল কর্মীর কাছে গিয়েছি। এই লক্ষে মানুষের সেবা করার নিমিত্বে জনগণের পাশে থেকে আপন হয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকেই জনপ্রতিনিধি হতে চাই। নেত্রীর এজেন্ডা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে চাই। 

দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেকেই আগ্রহী, সেক্ষেত্রে অন্য প্রত্যাশীদের থেকে নিজেকে কোন দিক থেকে যোগ্য মনে করছেন, যার জন্য দল আপনাকে মনোনয়ন দেবে?
আমি দলের মনোনয়ন পেতে আত্মবিশ্বাসী। কারণ এ অঞ্চলের আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। মাতইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আমার হাতে গড়া, বর্তমানে মাতইল আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহেবের সঙ্গে আমি রাজনীতি করছি। তিনি আমাকে খুব ভালোবাসেন। আমাদের এ ওয়ার্ড থেকে হয়তো অনেকেই চাইবে তবে দল যাকে দিবে তার হয়েই আমি কাজ করবো। আমি মাতইল ছাত্রলীগ, ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ছিলাম। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে সব সময় দলের হয়ে কাজ করেছে। সেদিক থেকে দল যদি চিন্তা করে আমি যোগ্য তাহলে আমি দলের সমর্থন পাব। 

দল থেকে মনোনয়ন পাবার পর জনগণ আপনাকে কেন ভোট দিবে?
জনগণ চায় একজন দুর্নীতি মুক্ত, সেবা প্রদানকারী জনপ্রতিনিধি। আমি দুর্নীতির সঙ্গে নেই। এটা জনগণ জানে। আমি পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করি। কখনই দুর্নীতির আশ্রয় নেইনি। আমার নিজস্ব ব্যবসা আমি নিজে দেখি। আমার এলাকার কোন মানুষের সাথে কখনই খারাপ সম্পর্ক হবে এমন কাজ করিনি। আমার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন নজির খুজে পাওয়া যাবে না। আপনি এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন, আমি কোন ভূমি দখল, বাড়ি দখল বা কারো সঙ্গে টাকা নিয়ে লেনদেন করেছি কি না। কারো উপকার করে টাকা নিয়েছি, আমার বিশ্বাস এমন কোন নজির আপনি খুজেও পাবেন না। জননেত্রী যে দুর্নীতি মুক্ত জনপ্রতিনিধি যাচ্ছেন আমার বিশ্বাস দুর্নীতির কোন ছোয়া আমার ভিতর নেই। আমার নেত্রী যে যে যোগ্যতা চেয়েছেন সবই আমার মধ্যে আছে। 

যদি দলের মনোনয়ন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন তবে ৬৫নং ওয়ার্ড নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
এই ৯মাস ধরে যিনি সিটি কর্পোরেশনের কান্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন তার আগে এই এলাকার সব উন্নয়ন করতেন ঢাকা-৫ আসনের এমপি আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লা। ঢাকা-৫ আসনের এমন কোন এলাকা নেই যেখানে তার উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। এই এলাকার সকল রাস্তাঘাট এমপি সাহেবের করা। তবে বর্তমানে যিনি কাউন্সিলরের দায়িত্বে রয়েছেন তার কাজ করার অনেক কিছু ছিল। এই ওয়ার্ডের আরও উন্নয়ন করা সম্ভব ছিল। উনি হয়তো লোকাল গভমেন্টের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেনি তাই হয়তো সেভাবে উন্নয়ন করতে পারেনি। আর যেহেতু বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের দলীয় নয়, হয়তো তিনি চিন্তা করেছেন দলের কাছে যাব না, সেটিও হতে পারে। নতুন বর্তমান কাউন্সিলর দায়িত্ব নেবার আগেই হাবিবুর রহমান মোল্লা ৬৫নং ওয়ার্ডের অনেক উন্নয়ন করেছেন। 

আমার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- এই ওয়ার্ডকে ক্লিন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। আমার ৬৫নং ওয়ার্ডের জনগণকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য যা যা করা দরকার আমি তাই করবো। আমি আমাদের এমপি মহদয়কে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের মাধ্যমে জনগণের সকল মনের আশা পূরণ করতে পারবো। 

এই ওয়ার্ডের বর্তমানে কি কি সমস্যা আপনি চিহ্নিত করেছেন যা আপনি ক্ষমতায় আসলে সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন?
এই ওয়ার্ড আমার নিজের। আমি এই ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। আমার পৈত্রিক নিবাস এটা। আমার বাবা-দাদা সবাই এই অঞ্চলের। এই এলাকার বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ আমার আত্মীয়স্বজন। আমি একজন নাগরিক হিসেবে মনে করে আমার ঘরে যা চাহিদা রয়েছে প্রত্যেকের ঘরে একই চাহিদা। আমার ছেলের বা আমার পরিচারের চলাচলের জন্য রাস্তা দরকার। আমি মনে করি এই এলাকার প্রত্যেকেই আমার ছেলের মত। তাদেরও রাস্তার প্রয়োজন। রাস্তার ময়লা দেখলে আমার স্ত্রী যেমন বলবে ময়লাটা ফেলতে হবে ঠিক তেমনই আমার এলাকার একজন বোনও বলবে ময়লাটা ফেলা দরকার। আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে আমার ৬৫নং ওয়ার্ডে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা-৫ আসনের এমপি মহদয়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ। এই ওয়ার্ডের মানুষের সকল সমস্যা সমাধান করে পরিচ্ছন্ন ৬৫নং ওয়ার্ড গড়ে তুলবো। 

নির্বাচিত হলে দলের জন্য কি করবেন?
দল থেকেই আমি এখানে দায়িত্ব পালন করবো সুতরাং আমার দলের যারা নেতৃবৃন্দ আছেন তাদের সঙ্গে নিয়ে এই ৬৫নং ওয়ার্ড এমনভাবে গোছাবো যাতে আমার নেত্রী এই ওয়ার্ডের কোন নেতার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পায়। এই ওয়ার্ডে একটি সু-সংগঠন দাঁড় করাতে চাই। যাতে আমি চলে যাবার পরেও আওয়ামী লীগের কর্মীরাই এগিয়ে নিতে পারে। 





জনগণের প্রতি আপনার কোন বক্তব্য রয়েছে?
জনগণ যদি আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তবে আমি আমার সর্বাত্ত্বক চেষ্টা দিয়ে তাদের পাশে থাকবো। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই ওয়ার্ডে আসলে আপনারা আমাকে ভোট দিবেন। আমি আপনাদের পাশে থাকবো। আমি এলাকার সন্তান হিসেবে চেষ্টা করবো আপনাদের মনের চাহিদাগুলো পূরণ করতে ইনশাল্লাহ।  

এসআর



« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft