For English Version
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০
হোম স্বাস্থ্য

স্বাভাবিক প্রসব বাড়ছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে

Published : Wednesday, 25 December, 2019 at 1:30 PM Count : 100

নওগাঁয় ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে মহিলা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) মাধ্যমে স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসবের দিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ছয় মাসের কমিউনিটি স্কিল বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিএ) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকে শুরু হয়েছে প্রসূতিদের স্বাভাবিক সন্তান প্রসব। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে সিএইচসিপিরা প্রসূতিদের স্বাভাবিক সন্তান প্রসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো দ্রুত সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন সিএইচসিপিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলায় ৯৯টি ইউনিয়নে ৩০২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৩৩টি। ২০১৭ সালের মহিলা সিএইচসিপিদের প্রসূতিদের স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ছয় মাসের সিএসবিএ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১২ জন মহিলা সিএইচসিপি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রসূতিদের মাসে ৩ থেকে ৪ বার কাউন্সিলিং করা হয়। যাতে প্রসূতিরা সিজারিয়ানের দিকে আগ্রহী না হয়ে স্বাভাবিক বাচ্চা প্রসবে আগ্রহী হয় এবং সে মোতাবেক তাদের মনোবল তৈরি করতে পারে।

নওগাঁ জেলার মধ্যে সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের ‘নামানুরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে’ গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রথম স্বাভাবিক প্রসবের কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে দুই মাসে ৮ জন প্রসূতির স্বাভাবিক ভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এদের মধ্যে চার ছেলে ও চার মেয়ে শিশু। স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার, নরমাল স্যালাইন পর্যাপ্ত, অ্যান্টিবায়োটিক ও উদ্বিপক ইনজেকশন প্রয়োজন। এতকিছুর স্বল্পতার মধ্য দিয়েও সেখানে স্বাভাবিক প্রসব করানো হচ্ছে। প্রসূতিদের আগ্রহ থাকার কারণে স্বাভাবিক প্রসব করানো সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

সদর উপজেলার নুরপুর গ্রামের প্রসূতি আরশি বানু বলেন, গর্ভধারণের পর থেকে নিয়মিত ‘নামানুরপুর কমিউনিটি ক্লিনিক’ থেকে সেবা নিতাম। দায়িত্বে থাকা কামরুল ভাই স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসবের বিষয় নিয়ে উপদেশমূলক বিভিন্ন কথা বলতেন এবং সাহস জুগিয়েছেন। তার কথামতো চলার চেষ্টা করেছি। গত দুই মাস আগে স্বাভাবিক ভাবে মেয়ে সন্তান জন্ম দিতে পেরেছি। প্রথম সন্তান, একটু ভয় লেগেছিল। সিজার করলে অনেক টাকা খরচ হতো এবং সুস্থ হতে সময় লাগতো। স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের তিন দিন পর থেকে নিজেই সাংসারিক কাজগুলো করতে পারছি।

আরেক প্রসূতি শারমিন বলেন, গ্রামের তিনজন প্রসূতি ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসব করেছেন। এ জন্য আমিও আগ্রহী হয়েছি স্বাভাবিক প্রসবের জন্য। সিজারের পর অনেক সময় গেলেও সুস্থ হওয়া যায় না। গত ৭ নভেম্বর স্বাভাবিক ভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকে মেয়ে সন্তানের জন্ম দিতে পেরেছি।

নামানুরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি কামরুল হাসান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসবের বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আমাকে উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন। স্বাভাবিক প্রসবের বিষয় নিয়ে আমার এলাকার প্রসূতিদের সাপ্তাহিক কাউন্সিলিং করে আসছিলাম। এতে করে বেশ সাড়াও পেয়েছিলাম। প্রসূতিরাও আগ্রহী ছিলেন। যার কারণে আমার ক্লিনিকে প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েও স্বাভাবিক প্রসব করাতে সক্ষম হয়েছি। আর এ কাজে সহযোগীতা করেছেন আমার দুই সহকর্মী নুর নাহার ও শারমিন সুলতানা। 

তিনি বলেন, সন্তান প্রসবের পর প্রসূতিকে ক্লিনিকে ১২ ঘন্টা থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ঔষুধ না থাকায় নিজ পকেট থেকে টাকা খরচ করে সেবা দিতে হয়। স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত উপকরণ সরবরাহের দাবি করেন তিনি।





সদর উপজেলার হাঁপানিয়া ইউনিয়নের ভবানীগাথি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নুর নাহার বলেন, ২০১৭ সালে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য সিএসবিএ'র ওপর ৬ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। স্বাভাবিক প্রসবের জন্য গর্ভবতীদের উদ্বুদ্ধ করতে তাদের সঙ্গে সপ্তাহে একবার কাউন্সিলিং করা হয়।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক প্রসবে অনেক ঝুঁকি আছে। আমরা ঝুঁকি নিতে চাই না। ব্যথা উঠার পর প্রসূতি ও অভিভাবকরা বিরক্তবোধ মনে করেন। নরমাল ডেলিভারী অনেক সময় সাপেক্ষে, এই সময়টা আমাদের দিতে হবে। নামানুরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রসূতিরা নরমাল ডেলিভারীতে সন্তান প্রসবের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সেখানে আমি নিজে ৬টা ‘নরমাল ডেলিভারী’ করিয়েছি। তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রসূতিদের প্রসবের জন্য ক্লিনিকমুখী করতে। তবে এক সময় সিজার বন্ধ হয়ে যাবে আশা করা যায়।

নওগাঁ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঔষুধের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বাভাবিক প্রসবের জন্য যা যা প্রয়োজন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সদর উপজেলার ১২ জন মহিলা সিএইচসিপিকে স্বাভাবিক প্রসবের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। একটি কমিউনিটি ক্লিনিক দিয়ে আমরা শুরু করেছি। এছাড়া অন্যান্য কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য সিএইচসিপিদের তাগাদা দেয়া হচ্ছে। তারা একটু ভয় পাচ্ছে। আবার অনেকেই এ বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft